ঢাকা, মঙ্গলবার ১৭ মে ২০২২, ০৭:২৯ পূর্বাহ্ন
টাঙ্গাইলে ৮০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন
দৈনিক ডাক অনলাইন ডেস্ক

টাঙ্গাইল জেলার ৮০ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জরুরী ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ টাকা ও জিআর এর চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ধলেশ্বরী নদীর পানি বাড়লেও যমুনা ও ঝিনাই নদীর পানি কমেছে । যমুনা নদীর পানি ৮ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৬১ সেন্টিমিটার, ঝিনাই নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার এবং ধলেশ্বরী নদীর পানি ১ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৭৯ ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলার ভূঞাপুর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন, কালিহাতী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের ৭টি, নাগরপুর উপজেলার ৯টি, বাসাইল পৌরসভাসহ সবকটি (৬ টি) ইউনিয়ন, মির্জাপুর ৪টি ও দেলদুয়ার উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে খাল, বিল, নদী ও বাড়ির আঙিনা পানিতে থই থই করছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। টাঙ্গাইলে যমুনা ও ঝিনাই নদীর পানি কমলেও পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ কমছে না। এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দিয়েছে।

বন্যার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধের উত্তর-পূর্বাংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পাছ বেথইর এলাকায় বাঁধের ১০০ মিটার ভাঙনের কবলে পড়ে ঝুঁকিতে রয়েছে। ওই এলাকা দিয়ে পানি প্রবেশ করলে টাঙ্গাইল শহরে পানি ঢুকে পড়বে। এ ছাড়া যমুনায় ভূঞাপুর, কালিহাতী, টাঙ্গাইল সদর ও নাগরপুর অংশে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে।

বন্যার পানিতে টাঙ্গাইল-পটলবাজার, টাঙ্গাইল-কাকুয়া, এলেঙ্গা-মগড়া, ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী বাজার থেকে ভালকুটিয়া পর্যন্ত পাকা সড়ক, বাসাইল পৌরসভার একটি ব্রিজ ও কাঞ্চনপুরের গ্রোথ সেন্টার-কাজিরাপাড়া সড়কে কালভার্ট ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এসব এলাকার কাঁচা-পাকা সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গ্রামীণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ওই সব এলাকায় এখনও লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জেলায় এবার ৮৯ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ করা হয়। এরমধ্যে ৭৯০ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জেলার ভূঞাপুর, কালিহাতী, টাঙ্গাইল সদর ও নাগরপুর এ ৪টি উপজেলার বন্যা দুর্গতদের জন্য ৪০ মে.টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বন্যার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য প্রতিটি উপজেলায় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তালিকা পেলে যথাস্থানে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে। এ ছাড়াও কালিহাতী উপজেলায় ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ১১৮টি পরিবারের মাঝে নগদ ৫ হাজার টাকা ও ঢেউটিন এ ছাড়াও ৯০ পরিবারের মাঝে ১০ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে।

কালিহাতী উপজেলার মগড়া গ্রামের আশিকুর রহমান বলেন, দুই সপ্তাহ আগে বন্যার পানি আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করেছে। এতে যাতায়াতসহ যাবতীয় কাজ করতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন খান তোফা বলেন, আমার ইউনিয়নের প্রায় ৮ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানিবন্দী মানুষ এখনও সরকারি বেসরকারি কোন সহযোগিতা না পাওয়ায় অনেকেই কষ্টে জীবন যাপন করছে।

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আহসানুল বাশার জানান, চলতি বন্যার পানি এক সপ্তাহের মধ্যে নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত ৭৯০ হেক্টর জমির রোপা-আমনের ৫০-৬০ ভাগ ধান রক্ষা পেতে পারে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম  জানান, বন্যায় পানি বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জেলার ৮০ কিলোমিটার নদী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জিও-ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পানি কমে গেলে স্থায়ীভাবে নদী তীর সংরক্ষণে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x