ঢাকা, মঙ্গলবার ১৭ মে ২০২২, ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন
৩টি এ্যাম্বুলেন্সের চালক ১ জন: সরকারি চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত প্রায় ৪ লাখ মানুষ
নুরুল ইসলাম খান :

চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিনটি এ্যাম্বুলেন্স চলছে মাত্র একজন চালক দিয়ে। এর মধ্যে দুটি নতুন ও একটি পুরাতন। চালকের অভাবে প্রতিনিয়ত পড়ে থাকছে দুটি এ্যাম্বুলেন্স।
এই অবস্থার প্রেক্ষিতে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার প্রায় ৪ লাখেরও অধিক মানুষ। জরুরী সেবা না পেয়ে বাধ্য হয়ে বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে রোগী নিয়ে যাচ্ছেন তাদের স্বজনরা। এতে বাড়তি ভাড়া গোনার পাশাপাশি চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন চাটমোহর উপজেলাবাসী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক সময় চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছিল ৩১ শয্যা বিশিষ্ট। সে সময় হাসপাতালে ছিল একটি মাত্র এ্যাম্বুলেন্স। পরে সেই এ্যাম্বুলেন্স দূর্ঘটনায় কবলিত হওয়ার পর নতুন করে আরেকটি এ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আর দূর্ঘটনায় ভেঙ্গেচুরে যাওয়া সেই এ্যাম্বুলেন্সটি সারানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে গেছে হাসপাতাল চত্বরে। হারিয়ে গেছে পড়ে থাকা এ্যাম্বুলেন্স গাড়িটির মূল্যবান যন্ত্রাংশ।
এর পর হাসপাতালটি ৫০ শয্যা উন্নিত হওয়ার পর ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে কোনো পদ সৃষ্টি না করেই একসঙ্গে বিশেষ সুযোগ সুবিধাযুক্ত দুটি নতুন এ্যাম্বুলেন্স চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বরাদ্দ দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ওই সময় বর্তমান সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন দুটি এ্যাম্বুলেন্সের চাবি হস্তান্তর করেন।
বর্তমানে হাসপাতালে আবদুস সোবহান নামে একমাত্র চালক রয়েছেন। তিনি একটি নতুন এ্যাম্বুলেন্স চালান। রোগীর চাপ থাকলেও শুধু চালকের অভাবে পড়ে থাকছে একটি নতুন ও একটি পুরাতন এ্যাম্বুলেন্স। এতে রোগীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
স্থানান্তরিত রোগীদের পরিবহণের জন্য স্বজনদের ছুটতে হচ্ছে প্রাইভেট গাড়ির কাছে। আর সুযোগ বুঝে প্রাইভেট গাড়িগুলো সরকারি ভাড়ার তুলনায় অনেক বেশি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে রোগীদের কাছ থেকে।
যেখানে সরকারি এ্যাম্বুলেন্সে বিনামূল্যে অক্সিজেন সুবিধা পাওয়া যায়, সেখানে বাইরের এ্যাম্বুলেন্সগুলোতে বেশি ভাড়া দেওয়ার পাশাপাশি অক্সিজেনের জন্য অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয় রোগীদের। বিপদে পড়ে বাধ্য বেশি টাকা দিয়েই উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়মিত রোগী পরিবহণ করছেন রোগীর স্বজনরা। খোদ হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনেই দাঁড় করে রাখা হচ্ছে বেসরকারি মালিকদের এ্যাম্বুলেন্স। অথচ গ্যারেজে পড়ে থাকছে সরকারি এ্যাম্বুলেন্স।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ওমর ফারুক বুলবুল যুগান্তরকে বলেন, একটি পুরাতন ও দুটি নতুন মিলিয়ে হাসপাতালে মোট এ্যাম্বুলেন্স রয়েছে তিনটি। কিন্তু চালকের পদ রয়েছে একজন। তবে হাসপাতালে আউটর্সোসিংয়ের মাধ্যমে ড্রাইভার নিয়োগ দিলে এ্যাম্বুলেন্সগুলো চালানো সম্ভব হতো। পাশাপাশি কম খরচে স্থানান্তরিত রোগীরা ভালো সেবা পেতেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x