ঢাকা, মঙ্গলবার ১৭ মে ২০২২, ০৮:০৩ পূর্বাহ্ন
বীরগঞ্জে সেবা ডায়াগনস্টিক ও কনসালটেন্ট সেন্টারে ডাক্তারের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ
জাহিদ হাসান অন্তর দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে সেবা ডায়াগনস্টিক ও কনসালটেন্ট সেন্টারসহ ডাক্তার শামীমের রিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর’২০২১ রাতে সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের বীরগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর রাহা বাপ্পী স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ করে জানান,
তার বৃদ্ধ মাতা বাসন্তি রাহার অসুস্থজনিত কারণে চিকিৎসা নিতে এলে ১৯ আগস্ট ২০২১ইং ওই সেন্টারের অবিরাম চেম্বার প্রাক্টিশনার দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও ডায়াবেটোলজিস্ট এমবিবিএস, এফসিপিএস ডাঃ মো. শামীম রোগ নির্ণয়ের জন্য অপ্রয়োজনীয় অহেতুক করোনা রোগী না হওয়া সত্বেও দিনাজপুর পুপলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ৪/৫টি টেস্টের জন্য প্রেরণ করে। সেখানে  প্রায় ১০ হাজার টাকা ব্যয় হয়।
অথচ তিনি ইতিপূর্বেই ঢাকা ল্যাব এইড হাসপাতাল, দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষা থেকে করোনা নেগেটিভ মর্মে নিশ্চিত আছেন।
বাপ্পি রাহা আরো বলেন, তার মাকে ডা: মো.শামীম করোনা সন্দেহে ১০ দিনের মধ্যে নাভিতে ৭টি ও শিরায় ৩০টি ইনজেকশন শরীরে প্রয়োগ করলে মুখে ঘা ও ফাঙ্গাস হয়ে যায়।
ডা: মো. শামীম ঢাকায় অবস্থান করার কারণে বিপদগ্রস্ত বাপ্পি রাহা বীরগঞ্জের সুপরিচিত সিনিয়র এমবিবিএস ডা. নাজমুল ইসলামের পরামর্শে ঔষধ প্রয়োগে বর্তমানে অনেকটাই সুস্থতাবোধ করেন।
এ ছাড়াও মধ্যেবর্তি সময়ে সেবা ডায়াগনস্টিকে তিনটি পরীক্ষায় ২ হাজার ৭শত টাকা প্রদান করা হয়।
রোগীর অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার সন্ধ্যায় আবারো ডাক্তারের চেম্বারে আনা হলে রোগী না দেখেই দুইটি টেস্ট করার কথা বলেন এবং টাকা আদায় করার দায়িত্বে নিয়োজিত জনৈক মহিলা ৪শ টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে।
রোগীকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে একটু পরে টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতিতে বেড়িয়ে যাওয়ার সময় ওই মহিলা বাপ্পির রাহার পরিহিত গেঞ্জি পিছন থেকে টেনে ধরায় বাপ্পি রাহা নিজেকে অপমানিত বোধ করেন।
তিনি সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক ডা: মো. শামীমের ছোট ভাই মো. ডালিমকে জানালে, সেও মহিলার সাথে একযোগে দুর্ব্যবহার করতে থাকে।
তাদের কর্মকাণ্ডে হতবাক হয়ে বাপ্পি রাহা আগন্তুক রোগী,  রাজনৈতিক নেতা সহ স্থানীয় সাংবাদিকদের সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেকে এনে কর্তৃপক্ষের আচরণ, অবৈধভাবে অর্থ আদায় (টেস্ট বানিজ্য) এবং ভুল চিকিৎসার সম্পর্কে বর্ণনা দেন।
অভিযুক্ত ডা: মো. শামীম ও পরিচালক ডালিমের সাথে কথা হলে তারা জানান, সামান্য ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে।
কোন ভুল চিকিৎসা দেওয়া হয় নি। ভুক্তভোগী দীপঙ্কর রাহা বাপ্পী ডাক্তার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের টেস্ট বানিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
অন্যথায় আগামী সোমবার সকালে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করা হবে মর্মে ঘোষণা দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x