ঢাকা, মঙ্গলবার ২৪ মে ২০২২, ০৯:২৩ অপরাহ্ন
বিরামপুরে সৌন্দর্যে ভরপুর ঐতিহ্যবাহী সাগর দিঘী
মিজানুর রহমান মিজান, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ

ইতিহাস ঐতিহ্য সমৃদ্ধ বিরামপুর উপজেলার জোতবানী ইউনিয়নের কসবা সাগরপুর গ্রামের সৌন্দর্যে ভরপুর ঐতিহ্যবাহী সাগর দিঘীটি। সৌন্দর্যে ভরপুর ঐতিহ্যবাহী সাগর দিঘীটি একটি অতি প্রাচীন দিঘী হিসেবে পরিচিত।

দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলা সদর হতে ১২ কি: মি: দূরে জোতবানী ইউনিয়ন পরিষদ হতে ৬ কিলোমিটার দক্ষিণে সীমান্তবর্তী পাটনচড়া বাজার সংলগ্ন কসবা সাগরপুর গ্রামে সৌন্দর্যে ভরপুর ঐতিহ্যবাহী সাগর দিঘীটি অবস্থিত।

বিরামপুর উপজেলায় যতগুলো বড় ও আকর্ষনীয় দিঘী রয়েছে তার মধ্যে এটিও অন্যতম। স্থানীয়রা জানান, বড় ও স্বচ্ছ পানির দিঘী হওয়ার কারনেই এই দিঘীর নামকরণ করা হয় সাগর দিঘী।

কথিত আছে, ১৫০০ শতাব্দীর প্রথমাংশে তৎকালীন জমিদারগণ এই সাগর দিঘীতে গোসল করতো। সম্ভাবত সেই সকল জমিদার কর্তৃক খননকৃত অপার সৌন্দর্যে ভরপুর এই দিঘীটি। সে সময়কার হিন্দু সম্প্রদায়ের অধিকাংশ লোক সাগর দিঘীতে বিভিন্ন পূজা অর্চনা দিয়ে থাকতো।

মজার বিষয় হচ্ছে, দিঘীটির চারপাশের পাড়গুলো অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর ও মনোরম হওয়ায় সহজে দর্শকদের মন কেড়ে নেয়। পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছগুলো এর সৌন্দর্যকে আরো একধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সাগর দিঘী সংলগ্ন দক্ষিণে একটি সুইচগেট, আমরুর বিলসহ আরও একটি ঐতিহ্যবাহী দিঘী রয়েছে যা ভাঙ্গা দিঘী নামে পরিচিত।

দিঘী দেখতে এসে পাশ্ববর্তী হাকিমপুর(হিলি) উপজেলার মংলা প্রামের তাছির উদ্দিন বাপ্পি ও মাহমুদ বলেন, দিঘীটি অত্যন্ত সুন্দর, মনোমুগ্ধকর ও ঐতিহাসিক এখানে এসে আমরা মুগ্ধ। সংশ্লিষ্টদের উচিত এটি রক্ষণাবেক্ষণ করা। দিঘীটি পাড়ে কিংবা পার্শ্বে অবকাঠামো নির্মাণ করা হলে আরও সুন্দর লাগবে। তখন দর্শনার্থীদের সমাগম বাড়বে।

খিয়ার মাহমুদ(কশবা) গ্রামের আবুল কালাম ও আব্দুল কুদ্দুস বলেন, দিঘীটি এলাকার ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীনতম দিঘী।  শুনেছি দিঘীটি আমাদের বাপ-দাদার ও জন্মের পূর্বে খনন করা হয়েছে। এটি সংস্কার করে অবকাঠামোর নির্মাণ করা হলে এর সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাশাপাশি দর্শনার্থীদের সমাগমও বৃদ্ধি পাবে। তখন এটি পিকনিক স্পষ্ট কিংবা দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।

ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন,
ইতিহাস ঐতিহ্য সমৃদ্ধ দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী পাটনচড়া বাজার সংলগ্ন কসবা সাগরপুর গ্রামে সৌন্দর্যে ভরপুর ঐতিহ্যবাহী প্রাচীনতম সাগর দিঘীটি। এই দিঘিটির পাড়গুলো সুন্দর ভাবে বাঁধাই করলে কিংবা সংস্কার করে অবকাঠামোর নির্মাণ করলে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়বে। সেই সঙ্গে এটি পিকনিক স্পষ্ট কিংবা পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পরিমল কুমার সরকার জানান, প্রাচীন এই দিঘিটির প্রাকৃতিক পরিবেশ খুবই সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর। দিঘিটি দেখলেই চোখ জুড়ে যায়। অবকাঠামোর নির্মাণ সহ সংস্কার করলে দিঘিটিতে দর্শনার্থীসহ পর্যটক সমাগম বাড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x