ঢাকা, মঙ্গলবার ২১ মার্চ ২০২৩, ০৪:২৯ অপরাহ্ন
মাদারীপুরে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের ঘরে সুখেই আছেন ৪০টি পরিবার
রকিবুজ্জামান, মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

“মোরা কোন দিন পরিবার নিয়ে ঈদ উপভোগ করতে পারি নাই। প্রেত্যেক বছর ঈদ আইলে অনেকেই আনন্দ-ফুর্তিতে দিন কাটাইতো। আর মোগো বেলায় ঈদের সময় ঘরের মধ্যে দুঃখ, কষ্ট ও চোখের জল হালাইয়া দিন কাটতো। কারন জন্ম থেইক্কা পরের ঘরেই বড় হইছি। তেমন কোন আত্মীয়-স্বজনও নাই যে তাদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করমু। তাই নিরুপায় হইয়া সরমে ঘরে দরজা বন্ধ কইরা থাকতাম। আর এহন প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহার ঘর পাইয়া মোরা এইবার ঈদ পরিবার লইয়া আনন্দে কাটাইছি। কোনদিন স্বপ্নেও ভাবিনাই পাকা বাড়ি পাইমু। এহন ভালো একখানা ঘর পাইছি। বাইচা থাকার সম্বল হয়েছে। স্বামী, পোলা-মাইয়া লইয়া নিশ্চিন্তে এহন ঘরে ঘুমাতে পারি। তাই মোরা প্রান ভইরা দোয়া করি প্রধানমন্ত্রীকে আল্লাহ আরো একশ বছর বাচাইয়া রাখুক। প্রধানমন্ত্রী ভালো থাকলে মোরা গরীবরা ভালো থাহুম।”

মাদারীপুরের কালকিনিতে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর পেয়ে এভাবেই অভিব্যক্ত প্রকাশ করেছেন বৃষ্টি বেগম, সীলা খানম ও সালেহা বেগমসহ অনেক উপকারভোগীরা।
এক সময়ের পরের বাড়িতে আশ্রিত থাকা অসহায় ভুমিহীন মানুষগুলোর ঠিকানা হয়েছে বর্তমানে পাকাবাড়ি। দুই কক্ষ বিশিষ্ট পাকাবাড়িতে রয়েছে রান্না ঘর, টয়লেট, ষ্টোররুমসহ বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা। নির্মিত ওই ৪০টি ঘরে এমন সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
জানাগেছে, পৌর এলাকার লক্ষিপুর-পখিরা গ্রামের ভ্যান চালক প্রতিবন্ধি মোঃ দেলোয়ার সরদার পরের বাড়িতে থাকতেন। বর্তমানে তিনি স্ত্রী ও বৃদ্ধা মাসহ ১ ছেলেকে নিয়ে পাকাবাড়িতে উঠেছেন।
পৌর এলাকার কাশিপুর গ্রামের সত্তার স্ত্রীসহ ১ ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে পাকাবাড়িতে উঠেছেন। পরিবার নিয়ে তিনি এখন সুখে দিন কাটাইতেছেন।
ঠেঙ্গামাড়া গ্রামের বিধাব রহিমা খাতুন ১ ছেলেকে নিয়ে থাকতেন শহরের বিভিন্ন ফুটপাতে। প্রধানমন্ত্রী তাকে ঘর উপহার দেয়ায় তার এখন মাথা গোজার ঠাই মিলেছে। তিনি খুশিতে চোখের জল ঝরাচ্ছেন আর প্রধানমন্ত্রীর মঙ্গল কামনা করছেন রাত-দিন।
হাসাপাতাল এলাকার সেলিনা বেগম স্বামী মারা যাওয়ার পর বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে কাজ করে উপার্জনের টাকা দিয়ে ছোট্র একটি খুপড়ি ঘরে ভাড়ায় থাকতেন। তিনি এখন প্রধানমন্ত্রীর উপহারকৃত ঘরে থেকে তার অনেকটা কষ্ট কমে গেছে। তার এখন সুখের নীড় আশ্রায়ন প্রকল্পের ঘর। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কাশিপুর-লামচরী এলাকায় প্রকল্পের প্রায় ১৫টি ঘরে গিয়ে উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। এদিকে মাদারীপুর জেলা প্রশাসক রহিমা খাতুন ও উপজেলা চেয়ারম্যান মীর গোলাম ফারুক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী হাসানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময়ে ঘরের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন। তারা সরেজমিনে প্রকল্পের ঘর পরিদর্শনকালে ঘরের কাজের মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এসময় তারা স্থানীয় উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সার্বিক বিষয় খোঁজখবর নেন এবং উপকারভোগীর কাছে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া কামনা করেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সুত্রে জানাগেছে, কালকিনি উপজেলায় আশ্রায়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় মোট ৪০টি ঘর। এর মেধ্যে এক-একটি পরিবারের জন্য ২ শতক করে জমি ও ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যায়ে দুই কক্ষ বিশিষ্ট এক একটি করে পাকাঘর নির্মান করে দেওয়া হয়। উপজেলার কাশিপুরে ১৮টি, সাহেবরাপুরে-৬টি ও কাজীবাকাইতে এলাকায় ১৬টি ঘর নির্মান করা হয়। প্রশাসন কর্তৃক তালিকাভুক্ত ৪৫৯ ভুমিহীন পরিবার রয়েছে। তার মধ্যে বাছাই করে ৪০ জন ভুমিহীনকে দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকিদেরও বাছাই করে ঘর দেয়ার ব্যাপারে প্রক্রিয়া চলছে। তবে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা দিয়ে ঘর নির্মানের পর ভিটের জন্য ভিটি বালু, বিদ্যুৎ সংযোগ, পয় নিস্কাসন, পানি নিস্কাসনের জন্য ব্যবস্থা করা হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী হাসান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মস্তফা কামাল বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার হিসেবে কালকিনিতে ভুমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ৪০টি ঘর নির্মান করা হয়েছে। প্রত্যেক উপকারভোগীদের হাতে ইতিমধ্যে কবুলিয়ত, নামজারি খতিয়ান, গৃহ হস্তান্তরের সনদপত্র প্রদান করা হয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ঘরেই বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানীয় জলের ব্যবস্থা আছে। বাকি যা আছে তা সব শীগ্রই হয়ে যাবে। গুনগত মান ঠিক রেখে আমরা আশ্রায়ন প্রকল্পের ঘরগুলো নির্মান করেছি। ইতেমধ্যে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে জেলা মনিটনিং টিম আশ্রয়ন প্রকল্প ঘুরে কাজের মান নিয়ে প্রশংসা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন আমরা সবাই মিলে বাস্তবায়ন করতে বদ্ধ পরিকর।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x