ঢাকা, শনিবার ২৯ জানুয়ারী ২০২২, ০২:১৭ পূর্বাহ্ন
সেজান জুসের কারখানা মালিকের অপরাধের দায় কতটুকু: ব্যারিস্টার সুমন
দৈনিক ডাক অনলাইন ডেস্ক

শুরু করিতেছি মহান আল্লাহর নামে তিনি পরম করুনাময় এবং অত্যন্ত দয়ালু। এই যে আপনারা আমার হাতে দেখতেছেন এই সেজান জুস এই জুসটা আপনাদের সামনে নিয়ে আসছি এই কারণে এই সেজান জুস হচ্ছে গিয়ে আপনার রূপগঞ্জে এই সেজান জুস বানানো হয়।

হাসেম গ্রুপ তারা এই সেজান জুস বানায়, এই সেজান জুস বানাতে গিয়ে  আপনি দেখেন আমার পিছে এই বার্ন  এবং প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে  অনেক গুলা লাশ পড়ে আছে, তারা মৃত্যুবরণ করছে আগুনে পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে।

আমি আপনাদের কাছে একটা জিনিস বলতে চাই বাংলাদেশের কোন ধরনের এক্সিডেন্ট যখন বিজনেস হয় মানুষজন আগুনে পুড়ে মরতে পারে, এটা সারা পৃথিবীতে  হয়্‌, কিন্তু যখন অভিযোগটা শুনা যায় যে আপনি একটা গেট লাগায়ে রাখার কারণে বা ছাদের  গেইটে না যাইতে পারার  কারণে এতগুলো মানুষ মারা গেছে তখন কি তখন কি আপনার মনে হয় এটা শুধুই এক্সিডেন্ট! এবং আরেকটা কাহিনী দেখেন খেয়াল করেন আমাদের যে লেবার ল আছে শ্রমো আইন আছে এই শ্রমো  আইন অনুযায়ী এই বায়ান্ন জন যদি মারা গিয়ে থাকে তাহলে সর্বোচ্চ ২লাখ টাকা দিতে হবে ত ২ লক্ষ টাকা দিলে তাহলে এক কোটি চার লক্ষ টাকার মধ্যদিয়ে দিয়ে এই মালিক হাশেম সাহেব চাইলেই এই বায়ান্ন জনকে দিলে উনার সব ঝামেলা শেষ।

কিন্তু এই এক কোটি ৪ লক্ষ কি আমাদের এই বায়ান্ন জনের দাম, বায়ান্ন জন মরলে সাধারণত এক্সিডেন্টে মরলে তার জন্য হবে আপনি ক্ষতিপূরণ মামলা হইতে পারে কিন্তু তাকে যদি হত্যায় সহযোগিতা করা হয় তাদের এই ডেস্পারেট কারণে এই গেইট  লাগায়ে রাখার কারণে  আপনে আমারে একটা দরজার গেইট  লাগাই দিয়ে  আপনি যদি আমাকে মরতে বাধ্য করেন তাইলে তো এটা এক্সিডেন্টের মামলা  হওয়ার কথা না আপনি আমাদের পেনাল কোডের ৩০৪ ধারা যে পার্ট ২ এইখানে স্পষ্ট বলা আছে যে যদি এই  পার্ট ২ এ পড়েন আপনার এই ধরনের ডেস্পারেট আর আচরণের যদি ইন ভলান্টিয়ার ম্যানস্লটার হয় তাহলে যাবজ্জীবন সাজার ব্যবস্থা আছে।

আমি বলছিনা বিজনেস করতে গেলে যে আগুন লাগবে না আগুন লাগতেই পারে, আগুনে মানুষ মরতে পারে, আমাদের দেশে এরকম হাজার হাজার মানুষ হয়তো মরে কিন্তু আপনার এ আচরণের কারনে আপনি এই গেইট টা লাগাইয়া রাখছেন যে আপনার মনে হচ্ছে যে মানুষগুলো আপনার কাছে দাম নাই আপনার কাছে হচ্ছে প্রডাক্ট বাহির করতে হবে,

আমি শুনছি এই সেজান জুস নাকি একটা পাকিস্তানি প্রোডাক্ট আর এই পাকিস্তানি ৭১ সালেও যন্ত্রণা দিছে আর এখনো এই যন্ত্রণা দিয়ে যাচ্ছে  তবে এরটার গুণাগুণ নাকি খারাপ না, পজিটিভ আছে এই প্রোডাক্ট টা নাকি এতো খারাপ না কিন্তু আমার কথা হচ্ছে আপনারা বুঝতে পারতেছেন কতগুলা ঘাম আর রক্তের মাধ্যমে এই প্রোডাক্ট বাংলাদেশে আসছে আমার সরকারের কাছে একটাই আহব্বান থাকবে এইটা হচ্ছে গিয়ে একটা এক্সেম্প্লারি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন আমার কথা হচ্ছে বিজনেস ব্যবসায়ী যারা আছেন তারা অনায়াসে ব্যবসা করতে পারবেন কিন্তু এরকম মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়ে ,,

এইরকম যে যেগুলা ইনভলান্টারী মেন্সসলটার মানুষ হত্যার মধ্য দিয়ে যদি আপনারা টাকা ইনকাম করেন তাহলে এটার মধ্যে সরকারের অনেক কিছু করার আছে। একটা এক্সাম্পল তাজরীন ফ্যাশনে ১১১ জন আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে হয়ে গেল এদের এত খুব বেশি বিচার কিছু দেখা যায় না আমি আমার সরকারের প্রতি আহ্বান থাকবে যে ভালো কয়েকটি কমিটি করে যারা মারা গেছে তারাও যে কিভাবে এই দুই লাখ টাকা পাবে আমি তাও জানিনা কারণ তারা তো সঙ্গবদ্ধ না,কিন্তু ব্যবসায়ীরা অনেক বেশি সঙ্গবদ্ধ  এদের কাছ থেকে২ লক্ষ টাকা আদায় করা অনেক কষ্ট হবে এর চেয়ে সরকারকে বলব তদন্ত করে যদি এদের আচরে এরা যদি বেরহতে না পারে আর মারা গিয়ে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে মার্ডারের চার্জ আনতে পারেন এবং ক্ষতিপূরণ টা জেনো অবশ্যই সরকারের কাছ থেকে হয়  এবং এই কোম্পানি থেকেও ওরাজ যেন ক্ষতিপূরণ পায়,

মানুষগুলা তো আর ফেরানো যাবে না অত্যন্ত এদের আত্মাগুলো সান্তনা দেয়া যাবে এটলিস্ট বাংলাদেশের মানুষ হিসেবে মনে করতে পারি যে  কয়লা হয়ে গেলেও অন্তত দুই লাখ টাকা আপনি পাবেন , ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন।

One response to “সেজান জুসের কারখানা মালিকের অপরাধের দায় কতটুকু: ব্যারিস্টার সুমন”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x