ঢাকা, মঙ্গলবার ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন
ঠাকুরগাঁওয়ে অবহেলিত বিমানবন্দরটি চালুর দাবি
Reporter Name

মোঃ মজিবর রহমান শেখ, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ উত্তরের অবহেলিত ভাড়ি শিল্পকলকারখানাহীন জেলাগুলোর একটি ঠাকুরগাঁও। দেশ স্বাধীনের পর থেকে এ অঞ্চলে তেমন কোনো বড় শিল্পকারখানা গড়ে ওঠেনি। ঠাকুরগাঁও জেলার একমাত্র কৃষি শিল্পকারখানা ঠাকুরগাঁও সুগার মিলস’। ভারি শিল্পকারখানা না থাকায় ঠাকুরগাঁও জেলার শ্রমজীবী মানুষেরা কাজের সন্ধানে বিভিন্ন জেলায় গিয়ে কাজ করছে। পূর্বের সড়ক পথের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকার কারনে শিল্পোদ্যোক্তারা জেলায় কোনো ভারি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে আগ্রহ দেখায়নি।

ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থায়ই একমাত্র উন্নতির পথ।জানা যায়, ১৯৪০ সালে ব্রিটিশ সরকারের আমলে ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলার শীবগঞ্জ এলাকায় ৫৫০ একর জমির ওপর নির্মিত হয় বিমানবন্দরটি। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাক যুদ্ধের সময় ভারতীয় বিমান বাহিনী এখানে হামলা চালালে বিমানবন্দরের রানওয়েটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিমানবন্দরটি ১৯৭৭ সালে সংস্কার করা হলে বছর কয়েক বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালিত হয়। আগ্রহের অভাব এবং যাত্রী সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে তৎকালীন আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে বিমানের লোকসান হয়েছিল, যা হয়ত স্বাভাবিক ছিল। তাই বিমানবন্দরের কার্যক্রম থেমে গিয়ে  ১৯৮০ সালে পরিত্যক্ত হয়।বিমানবন্দরটির রানওয়ে দৈর্ঘ্য ছয় হাজার ফুট, প্রস্থ ৬০০ ফুট।

বিমানবন্দরটিতে একটি টার্মিনাল ভবন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। মোট জমির মধ্যে বর্তমানে ১৫০ একর জমিতে সরকারিভাবে অথবা লিজ দিয়ে চাষাবাদ করা হচ্ছে। এবং একাংশে সেনা ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।তবে সময় গড়িয়েছে, অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। বন্দরটি চালু হওয়া এখন সময়ের দাবি। সৈয়দপুর বিমানবন্দরের প্রায় ৮০ ভাগ যাত্রী ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরের।ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর থেকে ১০ থেকে ১৫ মিনিটে ভারতের বাগডোগরা বিমানবন্দরে অবতরণ করা সম্ভব। ট্রানজিট ফ্লাইটে আশেপাশের কয়েকটি দেশে যাওয়া সম্ভব। অথচ একটি সময়োপযোগী আন্তরিক সিদ্ধান্তের জন্য বঞ্চিত হচ্ছি তিন জেলার মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে অর্থনীতি।তৎকালীন বিএনপি সরকারের বিমানও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ক্ষমতা থাকাকালীন জেলার মানুষ স্বপ্ন বুনেছিলো বিমানবন্দরটি হয়তো এবার চালু হবে,কিন্তু স্বপ্নে গুড়ে বালি। ২০১৬ সালে বর্তমান সরকারের সাবেক  বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী ছিলেন রাশেদ খান মেনন ঠাকুরগাঁও জেলায় এসে তিনি  বিমানবন্দরের  অবকাঠামো পরিদর্শন করেন।

পরে সেখানে তিনি বিমানবন্দর চালু করার বিষয়ে নানা পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন।রাশেদ খান মেনন বলেন, এ বিমানবন্দরে বিমান চলাচলের সব ধরনের অবকাঠামো রয়েছে। এটি চালু করতে তেমন কোনো খরচ হবে না। এটি চালু করার জন্য যা দরকার, আমরা তিন মাসের মধ্যে সে কাজ শুরু করব।সর্বশেষ ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রীর আগমনে বিমানবন্দর চালুর স্বপ্ন দেখে ঠাকুরগাঁওবাসী। কিন্তু তা এখনও অধরা।

ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু হলে ও পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন চালুর কারণে এ এলাকার মানুষের মাঝে উন্নয়নের সঞ্চার ঘটবে বলে বিশিষ্টজনরা মনে করেন।ঠাকুরগাঁও বিভা এয়ারলাইননের স্বত্বাধিকারী জিয়াউর রহমান বকুল জানান, ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকা যাওয়ার বিমানের টিকিট অনেক বিক্রি হয়। সে পরিমাণ সেবা দিতে আমরা পারছি না। তাই বেশিরভাগ মানুষ টিকিট না পেয়ে ফিরে যায়। ঠাকুরগাঁও জেলার বিমানবন্দর চালু হলে বিমান খাত লাভজনক হবে ও মানুষ কম সময়ে দ্রুত বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছাতে পারবে। অন্যদিকে বিমানবন্দরটি চালু হলে ভারতের অনেক ব্যবসায়ী এর সুবিধা ভোগ করতে পারবে।ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুহম্মদ সাদেক কুরাইশী বলেন, সৈয়দপুর বিমানবন্দর কাছাকাছি হওয়ার কারণে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরটি এখনও চালু করা হয়নি। তবে বিমানবন্দরটি চালু করা জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

5 responses to “ঠাকুরগাঁওয়ে অবহেলিত বিমানবন্দরটি চালুর দাবি”

  1. … [Trackback]

    […] Read More Information here to that Topic: doinikdak.com/news/18504 […]

  2. … [Trackback]

    […] Find More to that Topic: doinikdak.com/news/18504 […]

  3. maxbet says:

    … [Trackback]

    […] Read More on to that Topic: doinikdak.com/news/18504 […]

  4. … [Trackback]

    […] Find More Information here to that Topic: doinikdak.com/news/18504 […]

  5. … [Trackback]

    […] Read More here on that Topic: doinikdak.com/news/18504 […]

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x