ঢাকা, সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৫৭ অপরাহ্ন
এনজিও’র ফাঁদে পরে সঞ্চয় হারানো সহ ভুয়া অডিডে সরকারি ৩৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
  মোঃ মজিবর রহমান শেখ, ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁও জেলায় ঋণ দেয়ার নাম করে স্যানক্রেড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন নামে এক এনজিও’র ফাঁদে পরে সঞ্চয় হারানো সহ সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে অর্থ জালিয়াতি সহ গ্রাহক হয়রানি। এ অবস্থায় ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, সুনামগঞ্জ সহ দেশের আরো বেশকিছু জেলায় অবস্থিত স্যানক্রেড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন নামে এনজি’র অফিস গুটিয়ে নিতে শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। ফলে আমানতকৃত অর্থ ফেরত পেতে অফিসে ধর্ণা দিয়েও কোন লাভ হচ্ছে না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্যানক্রেড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক তপন রুমার এবং তার স্ত্রী সামছুন্নাহারের নামে বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টে প্রকল্পের সরকারি অর্থ ও এসব জেলার প্রায় ১১ হাজার গ্রাহক পথে বসার শংকায় পরেছে। সংস্থার নামে সরকারের কাছ থেকে ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে টিআর কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়নে ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী, পঞ্চগড় জেলার  আটোয়ারি, বোদা, তেতুলিয়া ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আংশিক কাজ দেখিয়ে সাত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এছাড়া উপরোক্ত জেলার প্রায় ১১ হাজার গ্রাহকের ৫ কোটি টাকা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ও তার স্ত্রীর ব্যাংক একাউন্টে জমা রাখলেও ঋণ না দেয়ার পাশাপাশি জমানো সঞ্চয়ও ফেরত দিচ্ছেন না।

অন্যদিকে ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের সংস্থার রিজিওনাল ম্যানেজার ফারুক খাঁন ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের সংস্থার রিজিওনাল ম্যানেজার এসাহাক ফরাজী সামছুন্নাহারের উত্তরা ব্যাংক লিঃ মোহাম্মদপুর শাখা, ইষ্টার্ন ব্যাংক লিঃ ধানমন্ডি শাখায় জালিয়াতি করে ৬০ লাখ টাকা জমা দেয়। এছাড়া ভুয়া ঋণ বিতরণের মাধ্যমে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়সহ সুনামগঞ্জ দিরাই শাখা থেকে সামছুন্নাহারের উত্তরা ব্যাংক লিঃ মোহাম্মদপুর শাখায় আরো ৫ লাখ টাকা জমা দেয়। এছাড়াও জালিয়াতির মাধ্যমে সংস্থার পক্ষে ভুয়া অডিড দেখিয়ে নয়টি ব্যাংক থেকে ৩৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে স্যানক্রেড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক তপন রুমার।

এ বিষয়ে নির্বাহী পরিচালক তপন রুমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোনে কথা বলতে রাজি হয়নি। পরবর্তিতে আবার চেষ্টা করলে মোবাইল নম্বরটি ব্ল্যাকরিস্টে রাখেন। সহকারি পরিচালক সামছুন্নাহারের সাথেও যোগাযোগ করা হলেও তিনি জানান, আপনার এসব প্রশ্নে জবাব দিতে রাজি নই। দিতে হলে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে দিব। পরে ফোন কেটে নম্বরটি ব্লক করে রাখেন।

এদিকে ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের রিজওয়ানাল ম্যানেজার ফারুক খাঁনের সাথে কথা বলা হলে সব বিষয় তিনি এড়িয়ে যান ।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x