ঢাকা, সোমবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন
আমতলীসহ উপকূলের গ্রমা লে মাছ ধরতে বাঁশের তৈরী ফাঁদ ‘চাঁই’ বিক্রির ধুম
আমতলী (বরগুনা) থেকে মো.আবু সাইদ খোকন

আমতলী(বরগুনা)থেকে মো.আবু সাইদ খোকন:বরগুনার আমতলীসহ উপকুলীয় এলাকার নদী, খাল,বিল, পুকুর নালা এখন পানিতে টই-টম্বুর।এসকল জলাশয়ে চিংড়ি ও নানা প্রজাতির দেশীয় মাছের আধিক্য। গ্রামা লে এসব চিংড়ি ও দেশীয় মিঠা পানির মাছ ধরার জন্য পেশাদার বা অপেশাদার মাছ শিকারীরা ব্যবহার করছেন বাঁশের তৈরী ফাঁদ ‘চাঁই’। গ্রীষ্মের শুরু থেকেই ‘চাঁই’ দিয়ে মাছ ধরা শুরু করেন স্থানীয়রা, চলে টানা আশ্বিন মাসের শেষ পর্যন্ত।

গ্রামা লে মাছ ধরার সবচেয়ে আদি ও পুরনো উপকরণের মধ্যে বাঁশের তৈরী ফাঁদ ‘চাঁই’ অন্যতম। উপকূলীয় বরগুনা, জেলার সর্বত্র বাঁশের ‘চাঁই’ তৈরী, বিকিকিনি ও ব্যবহার করা হয়। মৌসুমে এলাকার বাজারগুলোতে ও হাটবারে হাজার হাজার ‘চাঁই’ বিক্রি হয়। স্থানীয়ভাবে ‘চাঁই’  তৈরি একজোড়া ‘চাঁই’ ২০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে বাজারগুলোতে।

প্রকারভেদে মাছ ধরার এসব সামগ্রীর দাম প্রতিটি ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। আমতলীর চাওড়া ইউপির মধ্যচন্দ্রা গ্রামের ‘চাঁই’ বিক্রেতা মো.কেরামত আলী আকন  জানান, বিভিন্ন হাটে একেকদিন তিনি ৩০ থেকে ৫০টি ‘চাঁই’ বিক্রি করে থাকেন। গত বছরের চেয়ে এবার বিক্রি বেশি। তার মতো আরো ১০-১৫ জন বিক্রেতা আমতলীর  বিভিন্ন হাটে ‘চাঁই’ বিক্রি করছেন।

উপজেলার পূর্বচিলার কৃষক আলম মিয়া  বলেন, মাঠ-ঘাট পানিতে ভরে আছে। পানিতে দেশীয় পুঁটি, কই, শিং, মাগুরসহ নানা মাছ দেখা যাচ্ছে। ওসব মাছ ধরার জন্য ‘চাঁই’ কিনেছেন। তিনি জানান, প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত মাছ পাওয়া যায়। খাবার বাদ দিয়ে বাকি মাছ বাজারে বিক্রি করেন। সরেজমিনে বুধবার উপজেলার সর্ববৃহৎ সাপ্তাহিক হাট আমতলী বাজার ঘুরে দেখাগেছে, দুর-দুরান্ত থেকে মানুষ এসে বাঁশ দিয়ে হাতে তৈরী মাছ ধরার ফাঁদ “চাই” কিনছেন।

একই সাথে বাজারে মাছ ধরার সরঞ্জাম “চাই” বিক্রিও বেড়েছে। আর এ মাছ ধরার ফাঁদ “চাই” তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারীগর ও তাদের পরিবার। উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের মধ্যেচন্দ্রা ও হলদিয়া ইউনিয়নের পূর্ব চিলা গ্রামেই এই “চাই” বেশী তৈরী হয়। চাই তৈরীতে বাঁশ কেনা থেকে শুরু করে বাঁশ কাঁটা ও তা দিয়ে শলাকা তৈরী করতে দিনের শুরু থেকে সন্ধ্যা অব্দি কেঁটে যাচ্ছেন তাদের সময়। একটি ভালো জাতের বাঁশ থেকে কমপক্ষে ৮/১০ টি “চাই” তৈরী করা যায়। আর ছোট বড় প্রতিটি “চাই” বিক্রেতারা ১০০ থেকে ২০০ টাকা মূল্যে বিক্রয় করছেন।

মহামারী করোনায় বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষেরা দেশীয় মাছের স্বাদ গ্রহন করতে আর বাড়িতে বসে অবসর সময় কাটাতে গ্রামের খাল, বিল ও উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ স্বীকারে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন।

আমতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা হালিমা সর্দাবলেন , ‘মাছ শিকারের সহজ উপকরণ ‘চাঁই’ এর ব্যবহারে সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। নিয়মিত ‘চাঁই’ তুলতে হয়। দীর্ঘ মেয়াদে জলাশয়ে ‘চাঁই’ পড়ে থাকলে কিংবা হারিয়ে গেলে শুধু শুধু মাছ মারা পড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x