ঢাকা, শুক্রবার ২৪ মে ২০২৪, ১২:১৩ পূর্বাহ্ন
লকডাউনের প্রথম দিনেই এশিয়ান হাইওয়ে সড়কে দীর্ঘ যানজট
এম এ মোমেন, রূপগঞ্জ প্রতিনিধি
লকডাউনের প্রথম দিনেই যানজটে নাকাল রূপগঞ্জবাসী/ রূপগঞ্জে লকডাউনেও দীর্ঘ যানজট/ ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এশিয়ান হাইওয়ে সড়কে লকডাউনেও দীর্ঘ যানজট

করোনার তৃতীয় ঢেউ শুরু হয়ে গেছে। সরকার ঘোষিত লকডাউন চলছে গোটা রূপগঞ্জজুড়ে ঢিলেঢালাভাবে। করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ২২ জুন ভোর ৬ টা থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত গোটা নারায়ণগঞ্জ জেলায় লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

২২ জুন লকডাউনের প্রথম দিনে সকাল থেকেই ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ে সড়কে তীর্ব্র যানজনের সুস্টি হয়েছে। মালবাহী চিকিৎসাপণ্যবাহী ও বিভিন্ন সেবামূলক গাড়ীগুলো যানজটে আটকে আছে দীর্ঘ সময়। এছাড়া রাত থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া রাস্তাঘাটের অবস্থাও বেশ একটা ভাল না। এ নিয়ে স্থানীয় জনগন ভোগান্তিতে রয়েছেন। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ ৮ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে থেকে দুপুর ২ টার পর্যন্ত উপজেলার বান্টি , গোলাকè্দাইল, বরপা, রূপসী, কাঞ্চন, ভুলতায় সরেজমিনে গিয়ে এ যানজটের চিত্র দেখা যায়। যানজটের কারণে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে ফুট ওভারব্রীজ সংকট, যত্রতত্র গাড়ি উঠানামা ও রূপসী-কাঞ্চজন সড়ক দিয়ে সিটি গ্রুপের অতিরিক্ত মালবাহী ট্রাক আসা যাওয়ার কারনে যানজটের সৃষ্টি হয় বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নাম প্রকাশে একজন যাত্রী জানান, লকডাউন ঘোষণা করলে কি হবে আমাদেও কাজ কওে খেতে হবে। কারখানায় না গেলে বেতন দিবে না। এমনকি চাকরিও চলে যেতে পারে। তখন বউ পোলাপান নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে। সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি চলাচল করে। রূপসী বাস স্টেশন দিয়ে রূপসী-কাঞ্চন সড়কে সারি সারি করে ট্রাক প্রবেশ করছে। এতে করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে চলাচলরত যানবাহন গুলো আটকে রয়েছে। অল্প সময়ের জন্য যানবাহন আটকে থাকলে মূহূর্তেই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে যায়। এতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছে দিনের পর দিন। আবার কোন কোন বাসকে সড়কের মাঝেই যাত্রী উঠাতে নামাতে দেখা গেছে। এতে করে বাড়ছে সড়ক দূর্ঘটনার আশঙ্কাও। আটকে যাচ্ছে পন্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন। এ দীর্ঘ যানজটের কারণে ১৫ মিনিটের পথ যেতে ১ ঘন্টা সময় লাগছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। বরপা এলাকার বাসিন্দা শরীফ মিয়া বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে প্রতিদিনই যানজট লেগে থাকে। আমাদের আমাদেরকে চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ছামাদ মিয়া কাজ করেন ঢাকায়। কথা হয় তার সাথে। তিনি বলেন, সরকার তো লকডাউন ঘোষণা করেই শেষ। ঘরে খাবার দিবে কে? কাজ না করলে খাব কি? আগেরবার তো দেখলাম সব ত্রাণ সরকারের নেতাকর্মীরাই খেয়ে ফেলেছে। রিক্সাচালক রাসেল মিয়া জানান, করোনা আর লকডাউনে আমাগো কি করব? আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। কাজ করতেই হবে। কত মানুষেরে কইলাম আমারে একটা ঘর দেন। দিল না কেউ। থাকার ঘর নাই বলে বউটা চলে গেল। নিজের একটা রিক্সা নাই। ঘর নাই তাই বউ নাই।

এখন আমার তো বাঁচতে অইব। আর বাঁচতে হইলে কাজ করতেই হবে। যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশকেও তেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে দেখা যায় না। গাউছিয়া এলাকার বাসিন্দা সাইদুর রহমান বলেন, চিটাগাংরোড থেকে গাড়িতে উঠেছি গাউছিয়ার যাওয়ার জন্য কাচঁপুর থেকে যানজট শুরু হয়েছে। দুই ঘন্টায় মাত্র বরাবোতে পৌছেছি। যানজটের কারণে এখনো আটকে আছি। যানজট কখন শেষ হবে আর কখন বাড়ি যাবো। কাচঁপুর হাইওয়ে থানার (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। তবে গাড়ি চালকরা নিয়ম ভঙ্গ করে চালানোর কারণেই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x