ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৭:১৯ পূর্বাহ্ন
স্বর্ণের বার আত্মসাতের অভিযোগে ৬ পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার
নিজস্ব সংবাদদাতা

ফেনীতে মহাসড়কে গাড়ি থেকে স্বর্ণবার ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক (ওসি) মো. সাইফুল ইসলামসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে তাদের জেলা গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তারের পর ফেনী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ১৫টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার খোন্দকার নূরুন্নবী।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ফেনী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোতোহের হোসেন, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান, উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরুল হক, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) অভিজিৎ বড়ুয়া ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মাসুদ রানা।

পুলিশ সুপার খোন্দকার নূরুন্নবী আরও জানান, চট্টগ্রামের স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল কান্তি দাশ গত ৮ই আগস্ট রোববার চট্টগ্রাম থেকে ২০টি স্বর্ণের বার নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। এসময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর ফতেহপুর রেলওয়ে ওভারপাসের নিচে ফেনী জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল তার গাড়ি গতিরোধ করে। গাড়ি তল্লাশির এক পর্যায়ে গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলামসহ অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল কান্তি দাশের কাছ থেকে স্বর্ণের বারগুলো ছিনিয়ে নেন। ওই ঘটনায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল কান্তি দাশ ফেনী পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

পরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তিনি অভিযোগকারী চার পুলিশ কর্মকর্তাকে শনাক্ত করেন। এসময় চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাঁর তাদের সাথে থাকা অপর দুইজন পুলিশ কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করেন। অভিযুক্তরা স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২০টি স্বর্ণের বার ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ১৫টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, চট্টগ্রামের স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল কান্তি দাশ বাদি হয়ে মঙ্গলবার রাতে ফেনী মডেল থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলা দায়ের করে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রাতেই থানায় হন্তান্তর করা হয়।

এদিকে ছিনতাই হওয়ায় বাকি পাঁচটি স্বর্ণবার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, ছিনতাই ও উদ্ধার হওয়া স্বর্ণবারগুলো বৈধ না অবৈধ তা তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এবিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে মন্তব্য করা যাবে।

ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন জানান, বুধবার সকালে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x