ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৮ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন
কঠোর লকডাউনে লাখাইয়ে মানবেতর জীবনে নিম্ন আয়ের মানুষ
আশীষ দাশ গুপ্ত লাখাই হবিগঞ্জ

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ তছনছ করে দিয়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সারা দেশ ন্যায় লাখাই জুড়ে লকডাউনে  অবরুদ্ধ অবস্থার মধ্যে কঠিন সময়ের মুখোমুখি একদিকে যেমন বর্ষাকাল- দিনভর বৃষ্টিতে কোন কাজ করা যাচ্ছে না,।হতদরিদ্র ও দিনমজুর সিএনজি অটোরিকশা চালকসহ নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ।

কর্মহীন হয়ে পড়ায় করোনা আতঙ্কের পাশাপাশি জীবিকা নিয়ে বড়ো দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। দিনে এনে দিনে খাওয়া শ্রমজীবী যেমন  সেলুনের নাপিত, মুচি, কাঠ মিস্ত্রি, দিনমজুর, পরিবহন শ্রমিক, হকার, ফেরিওয়ালা, ক্ষুদ্র যানবাহন মেকার, চায়ের দোকন, পান দোকান ইত্যাদি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পড়েছে বিপাকে। ফলে সংসারের খরচ যোগাতে নিম্ন আয়ের হাজার-হাজার মানুষ চোখে সর্ষে ফুল দেখছেন।

কর্মহারা গৃহকর্মী ও দৈনিক আয়ের ভিত্তিতে নানা ধরনের কাজ করে যারা বস্তিতে বসবাস করেন তারাও পরিবারের অন্নের যোগান নিয়ে দিশেহারা পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে গেছেন। বিচ্ছিন্ন সময়কালে প্রতিদিনের খাদ্য, ওষুধ ও পরিচ্ছন্নতাসামগ্রী কেনার অর্থের উৎস হারিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছেন সমাজের এই দরিদ্র শ্রেণির মানুষ।

কয়েকদিনে ৫০/৬০জন ভুক্তভোগীর সাথে  আলাপকালে তারা বলেন সরকারিভাবে হতদরিদ্র ও দিনমজুরদের মাঝে বিনামূল্যে নিত্যপণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় করোনা পরিস্থিতির পাশাপাশি হাজারো  মানুষের খেয়ে বেঁচে থাকাই বড়ো চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে। অবশ্য প্রান্তিক গরিব জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের অন্তত ছয় ধরনের সহায়তা কর্মসূচি আগে থেকেই চালু রয়েছে

লাখাই উপজেলার সর্বত্রই ওষুধ, কাঁচাবাজার ও মুদি দোকান ছাড়া অন্য সকল দোকানপাট বন্ধের নির্দেশনা রয়েছে সরকারের।  পত্রিকার হকার শফিকুল ইসলাম বলে পত্রিকা এখন বিক্রি হয়না যা বিক্রি হয় তা আসা যাওয়ার খরচই হয় না, সাংসার চলবে কি করে।   আইসকিম বিক্রিয়তা  নিখিল সেন  জানালেন, পেটের দায়ে করোনা ঝুঁকি উপেক্ষা করে সকাল থেকেই গ্রামে গ্রামে গিয়ে কিছু আসইকিম নিয়ে বসেছেন। কিন্তু ক্রেতা নেই। পরিবারের চার সদস্যের প্রতিদিনের খাবার কীভাবে যোগান দেবেন তা নিয়েই মহাদুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

উপজেলার স্বজনগ্রাম বামৈ মোড়ামুড়ি বুল্লা  এলাকায় ঘুরে ঘুরে  সেলুনের   কাজ করেন স্বপন শীল  । বাড়ি বাড়ি গিয়ে চুলকাটা কিন্তু মানুষ ঘরে ঢুকে যাওয়ায় এবং দোকানপাট বন্ধ থাকায় গত আট দিন ধরে তার কোনো উপার্জন নেই। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে কারও বাড়িতে ঢুকতে মানা। মাসের শেষদিকে এসে এই ধরনের পরিস্থিতির কথা সে ভাবতেও পারেনি। খাবার, ওষুধ ও ঘরভাড়ার টাকা কোথায় পাবেন— এর কোনো উত্তর নেই নিম্ন আয়ের এই স্বপনের।  লাখাই উপজেলা শ্রমিক সমিতির সভাপতি  কাউসার আলম এর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন আমাদের অনেক শ্রমিকরা মানবতার জীবন যাপন করছে উপজেলার চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এডভোকেট মুশফিক আলম আজাদ ভাই এর ও ইউএনও স্যার  সাথে আমার কথা বলেছি তার ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের নিকট যাবার কথা বলেছেন কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের  চেয়ারম্যানরা কয়েক ঘুড়িয়ে দিয়ে অল্প কিছু চাউল  দিবে বলেছিল আমাদের আমরা আর যাইনি । করোনা মহামারীর  ১৬ মাসের মধ্যে আমরা উপজেলায় আমরা  ছয়শ সিএনজি চালক  কোনো সরকারি সাহায্য সহযোগিতা পাইনি।

লাখাইয়ে সিএনজি রফিকুল  ইসলাম বলে  লকডাউনে সব কিছু বন্ধ হলেও পেট তো আর বন্ধ করা যায় না। আমরা খুব কষ্টে আছি গাড়ি চালালেই পুলিশে ধরে।    সিএনজি চালক  রিপন দেবনাথ  বলে লকডাউনে  বেকার হয়ে যাওয়ায় সংসার চলিয়ে বাবার চিকিৎসার ঔষধ আনতে আর এনজিওর ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

লাখাইয়ে রাস্তাগুলোতে  সিএনজি অটোরিকশা ও বাসস্ট্যান্ডে এখন  মনে হয় অচেনা, নেই  কোনো মানুষ।  চিরচেনা সেই বুল্লাবাজার  যানজট, ফুটপাতে কর্মব্যস্ত মানুষের ছুটে চলা একদম নেই। সিএনজি স্টেশন ও নৌকা ঘাট ফাঁকা। একদম ফাঁকা রাস্তায় কিছুক্ষণ পরপর দুই-একটি টমটম  দ্রুতগতিতে সাঁ সাঁ করে চলছে। মূল সড়কসহ অলি-গলিগুলোতে যাত্রীর প্রতিক্ষায় টমটম চালকরা।

দূর থেকে কাউকে আসতে দেখলে ছুটে যাচ্ছেন একাধিক অটোরিকশা।  নেই দর কষাকষি। ‘স্যার আপনি দিয়েন’—একথা বলেই যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতায় রাস্তায় নামা অটোরিকশাচালকরা।

One response to “কঠোর লকডাউনে লাখাইয়ে মানবেতর জীবনে নিম্ন আয়ের মানুষ”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x