ঢাকা, সোমবার ২৩ মে ২০২২, ১২:০৪ পূর্বাহ্ন
লাখাইয়ের কৃষ্ণপুর গণহত্যা দিবস পালিত
আশীষ দাশ গুপ্ত লাখাই হবিগঞ্জ

লাখাইয়ের কৃষ্ণপুর গণহত্যা দিবস আজহবিগঞ্জের লাখাইয়ে কৃষ্ণপুর গ্রামে গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে শনিবার   ১৮সেপ্টেম্বর  সকাল থেকে গ্রামবাসীর উদ্যোগে বিভিন্ন  কর্মসূচি পালিত হয়েছে।  শ্রীশ্রী গীতা পাঠ ও  জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। পরবর্তীতে কৃষ্ণপুর বধ্যভূমিতে সকল শহীদের স্মরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করা হয়।  পরে আলোচনা সভায় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা  অমরেন্দ্র লাল রায়ের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন লাখাই উপজেলার চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এডভোকেট  মুশফিউল আলম আজাদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন লাখাই   সহকারী কমিশনার (ভূমি)   রুহুল আমিন,, উপজেলার  ভাইস চেয়ারম্যান,  আমিরুল ইসলাম ,, লাখাই থানার ওসি মোঃ   সাইদুল ইসলাম,  , বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ কৃষ্ণপুর কমলাময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীবৃন্দ। সভা পরিচালনা করেন কৃষ্ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিটন সূত্রধর।,স্বাধীনতার ৫১ বছর পার হয়ে গেলেও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারি স্বীকৃতি না পাওয়ায়  গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে শহীদদের  স্বীকৃতি দিয়ে সরকারি ভাবে দিবসটি পালন করার জোর দাবি জানিয়েছেন বক্তারা

উল্লেখ্য  ইতিহাস পাতায় জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড    এইদিনটি   উল্লেখ যোগ্য দিন থাকলেও স্বাধীনতার দীর্ঘ দিন পরও সরকারি ভাবে দেওয়া হয়নি কোনো স্বীকৃতি।    লাখাই  ১ নং ইউনিয়নের কৃষ্ণপুরে  ১৯৭১ সালে এই দিনে একসঙ্গে লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে   রাজাকারের সহযোগিতায় ১২৭ জন গ্রামবাসীকে হত্যা করেছিল পাকহানাদার বাহিনী। আহত হয়েছিলেন শতাধিক নারী-পুরুষ। সেই সময় এতো মরদেহ এক সঙ্গে সৎকারের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় পাশের নদীতে মরদেহগুলো ভাসিয়ে দিয়েছিলেন স্থানীয় নারীরা। সেই বিভীষিকাময় দিনের কথা মনে করে আজও কেঁপে ওঠেন অনেকে।

একাত্তরের ভয়াবহ স্মৃতির এ দিনটি প্রতি বছর নীরবেই কেটে যায়। প্রশাসন কিংবা মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো সংগঠনের পক্ষ থেকে বিশেষ কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না এই দিন। শুধুমাত্র গ্রামবাসীর উদ্যোগে স্বল্প পরিসরে দিবসটি পালন করা হয়। ওই ঘটনায় শহীদ কিংবা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের হয়নি কোনো তালিকায়।

হাওরবেষ্টিত লাখাই উপজেলার  কৃষ্ণপুর গ্রামটি জেলার শেষ প্রান্তে অবস্থিত। যোগাযোগের তেমন ভালো মাধ্যম নেই।  বর্ষায় নৌকা আর শুকনো মৌসুমে মোটরসাইকেল  যোগে   চলাচল করতে হয়।এই গ্রামটি   হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা । ১৯৭১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলার চিহ্নিত রাজাকারদের সহযোগিতায় লাখাই উপজেলার   মোড়াকরি গ্রামের     রাজাকারের সাহায্যে পাকহানাদার বাহিনী ভোর বেলায় হঠাৎ আক্রমণ চালায় ওই গ্রামে। এ সময় গ্রামের শতশত নারী-পুরুষ স্থানীয় একটি পুকুরের পানিতে ডুব দিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। তবুও রক্ষা পাননি দুই শতাধিক নিরীহ গ্রামবাসী। পাক হানাদার বাহিনীর হাতে পালিয়ে থাকা গ্রামবাসীর মধ্যে ১২৭ জন ধরা পড়ে। এদের সবাইকে লাইন ধরে দাড়িয়ে  ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করা হয়।নির্যাতিত হয় অসংখ্য নারী। আহত হয় অনেকেই।

 

প্রতিবছর ১৮ সেপ্টেম্বর আসলেই যুদ্ধাহত শহীদ মুক্তিযুদ্ধার সন্তানরা   ও গ্রামবাসীর সহযোগিতায়  কৃষ্ণপুর বধ্যভূমি   করতে মোট ৩২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে  ৩ লাখ টাকা দিয়েছে হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ। বাকী ২৯ লাখ টাকা কৃষ্ণপুরের জনসাধারন।সহযোগিতা আর গ্রামবাসীর চাঁদায় সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে একটি  বধ্যভূমি।

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাপরাধ মামলার বাদী হরিদাশ রায় বলেন, ‘রাজাকার আলবদরের সহযোগিতায় আমাদের গ্রামে ১২৭ জনকে হত্যা করেছে আর অনেক লোক সে সময় আহত হয়েছেন। সরকার সুযোগ তৈরি করেছে বলেই আমি মামলা করেছি।আসামী দের ফাসির রায় কার্যকর হলে  ১২৭ জনের আত্মা শান্তি পাবে।’

একই গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা অমলেন্দু লাল রায় বলেন, ‘বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকার। কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলেও এখানকার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা কিংবা  মুক্তিযোদ্ধার পরিবার কেউই মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম নেই। এতে আমরা হতাশ।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x