ঢাকা, সোমবার ২৭ মে ২০২৪, ১২:৩৫ অপরাহ্ন
কাউনিয়ায় পাট চাষে কৃষকের ঘুরে দাড়ানোর সম্ভাবনা
হীমেল মিত্র অপু, স্টাফ রিপোর্টার

একসময়ের সোনালী আাঁশ পাট ছিল বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। এখন পাট গৌরবময় অতীত হারিয়ে গেলেও নতুন করে আবারো পাটের অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

রংপুরের চলতি মৌসূমে কাউনিয়া উপজেলায় পাটের বাম্পার ফলনে কৃষকের ঘুরে দারানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

টানা কয়েক বছর ধরে পাট চাষিরা পাটের বাজার মূল্য ভাল পাওয়ায় পাট চাষ করে আর্থিক ভাবে লাভবানও হয়েছে। ফলে এই বছর কৃষকেরা ব্যাপক হারে পাট চাষ করেছেন।

উপজেলার বিভিন্ন স্হান ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকের মাঠে মাঠে দু-চোখ জুড়ানো সবুজের সমারোহ। সবুজ পাতা দোল খাচ্ছে মাঠের পর মাঠ।এখন কৃষকেরা স্বপ্ন দেখছেন। যেন মাঠ জুড়ে সবুজ রঙে সাজিয়ে তুলেছে প্রকৃতির অপরূপ শোভা। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় গত বছরের চেয়ে পাটের বাম্পার ফলনের আশা করছেন এবংপাট চাষিরা এবারো ভালো দামের আশা করছেন।

শহীদবাগ ইউনিয়নের বল্লভ বিষু গ্রামের পাট চাষি সাইফুল ইসলাম জানান, পাট অধিদপ্তরের সহযোগীতায় এ বছর ২.৫ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এ বছর পাটের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। পাট চাষে খরচ কম হয় তবে লাভ বেশি। আশা করছি পাটের দাম এ বছরও ভালো পাবো। ইউনিয়নের কৃষক ভুপাল চন্দ্র জানান, সরকারের দেওয়া সার, বীজ ও প্রশিক্ষণ নিয়ে পাট চাষ করেছি। পাটের বাম্পার ফলনও হয়েছে তবে আশা করছি পাটের ন্যায্য মুল্য পাব। উপজেলার সদর বালাপাড়া ইউনিয়নের উত্তর হরিশ্বর গ্রামের পাট চাষি আব্দুল জব্বার জানান, এ বছর ২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর পাটের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন,পাটের বাজার মুল্য কম থাকে পাটের ভরা মৌসূমে । কিন্তু মধ্যস্বত্তভোগীরা কম দামে কিনে মজুত করে পরবর্তীতে বেশি দামে বিক্রয় করায় আমাদের মতো পাট চাষীরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ।

উপ-সহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা মো.মনিরুজ্জামান জানান, কৃষকদের পাট চাষে উদ্বুদ্ধ করতে প্রশিক্ষণ ও বিনা মূল্যে সার বীজ বিতরণসহ নানাবিধ সহযোগিতা প্রদান করায় চলতি মৌসূমে পাটের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানাজ পারভীন জানান, এ বছর উপজেলায় কৃষি বিভাগ ১,০১০হেক্টর জমিতে পাট উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চাষিরা মাঠ পর্যায়ে প্রায় ৮৯০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করেছেন প্রান্তিক। আবহাওয়া অনুকুল থাকায় ২০২১ পাটের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে । কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত স্বপ্নের সোনালী ফসল সোনালী আশ ঘরে তুলতে পারবে বলে তিনি জানান । তিনি আরো বলেন পরিবেশ বান্ধব পাটের মোড়কসহ বিভিন্ন কাজে পাট জাতীয় পণ্যের ব্যবহার বাড়ালে পাটের চাহিদা যেমন বাড়বে তেমনি পাট চাষীরাও লাভবান হবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x