ঢাকা, বুধবার ১৯ জুন ২০২৪, ০১:৪২ পূর্বাহ্ন
স্বামী করোনা আক্রান্ত, স্ত্রী ক্লিনিকের রোগীদের সেবা দিচ্ছেন
পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি.

বরগুনার পাথরঘাটায় স্বামী স্বপন হাওলাদার করোনায় আক্রন্ত হয়ে বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। স্ত্রী শিলা রানী স্বামীর সেবার করে ক্লিনিকে গিয়েও দিচ্ছেন অপারেশনের রোগীদের সেবা।

এই ঘটনা ঘটেছে বরগুনার পাথরঘাটা ইসলামী হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামের এক ক্লিনিকে। সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ক্লিনিকে কাজ করতে দেখা গেছে শিলা রানীকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্লিনিকের তার একাধীক সহকর্মী জানান, করোনা ভাইরাস ছোয়াচে রোগ। আর শিলার স্বামী গত ৫ দিন ধরে করোনায় আক্রন্ত হয়ে বাসায় চিকিৎসাধীন আছেন। এদিকে শিলা রানী প্রতিদিনই ক্লিনিকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।  এ অবস্থায় তিনি বাসা থেকে বের হলে তার পাশের লোকজন কতোটা সতর্ক থাকতে পারে।

তারা আরো জানান, ক্লিনিকের অধিকাংশ রোগীই প্রসুতি, সেই প্রসুতি নারীরা কতোটা সতর্ক থাকতে পারছেন তার থেকে। সচেতন মানুষ হিসেবে এটা কাম্য নয়।

এ বিষয়ে শিলা রানীর কাছে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে জানান, করোনা পজেটিভ আসার পর থেকেই বাসায় অবস্থান করছি। আমার বাড়ি মির্জা গঞ্জ হওয়ার করেনে এখানে কোন আত্মীয়-স্বজন নেই। তাই বাহিরে বের হতে হয়। ক্লিনিকে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, টাকার প্রয়োজন হওয়ায় সেখানে গিয়েছিলাম।

স্থানীয় কাউন্সিলর রোকনুজ্জামান রুকু জানান, স্বামীর করোনা পজেটিভ হলে স্ত্রীর ক্লিনিকে গিয়ে সেবা করার সুযোগ নেই। ক্লিনিকে সিজারিয়ান বা অপারেশনের রোগী বেশী থাকে এবং তাদের মধ্যে ছড়িয়ে পরতে পারে। এভাবে তিনি স্বামীর সেবা করে আবার রোগীর সেবা করতে পারেননা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ক্লিনিকের ম্যানেজার আমল সিকদার জানান, সকালে একটু কাজ ছিল তাই আসছিল। তিনি এখন থেকে সব সময়ই বাসায় থাকবেন।

পাথরঘাটা প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড ক্লিনিকের সভাপতি মো. মতিউর রহমান বলেন,  এবিষয়ে আমার জানা নেই। যদি তিনি এ কাজটি করেন তবে তিনি ঠিক করেননি। যেহেতু ক্লিনিকে প্রসুতি মা ও শিশুরা আছে সেখানে করোনা ছড়িয়ে পরলে মারাক্তক আকার ধারন করতে পারে।

বরগুনা জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মারিয়া হাচানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেস্টা করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x