ঢাকা, মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪, ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন
বিরামপুরে পাটের বাম্পার ফলন, দামও বেশি,খুশি কৃষকরা
মিজানুর রহমান মিজান, বিরামপুর(দিনাজপুর)

দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় চলতি বছরে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো দাম থাকায় খুশি কৃষকরা।

এখন পাট কাটা,পাট জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজে বস্ত্য সময় পার করছে বিরামপুরের পাট চাষীরা।

সরেজমিনে জানা যায়,বিরামপুর উপজেলায় বিঘা প্রতি প্রায় দশ থেকে বারো মণ পাট হয়েছে। এতে খরচ হয় ছয় হাজার থেকে সাত হাজার টাকা। অর্থ্যাৎ খরচের প্রায় তিনগুণ লাভ বেশি হয়।

বিরামপুর পৌরসভার পৌরসভা ৮নং ওয়ার্ডের দাশআড়া মহল্লার সেকেন্দার আলী বলেন, আমি ষাট শতক জমিতে পাট লাগিয়েছি। মোটামুটি ফসল ভালো হয়েছে। পাটে তেমন কোন ঔষধ ব্যবহার করা হয়নি। পাথরে নষ্ট ও হয়নি। ষাট শতক জমিতে ষোল মণ পাট পেয়েছি। এবারে পাটের দাম অনেকটা ভালো। এতে করে আমরা পাট চাষীরা বেশ খুশি।

পৌরসভা ৯নং ওয়ার্ডের ভোবানীপুর মুন্সী মহল্লার পাট চাষী আফজল হোসেন বলেন, গত বছর আমি দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করছিলাম। বিঘা প্রতি ষোল মণ পাট পেয়েছিলাম। আশা করছি, এবারও তেমনই পাবো। দাম ভালো থাকায় এ বছর তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করছি। গত বারে দুই হাজার পাঁচশত টাকা মণে পাট বিক্রি করেছি। এবার বাজারে তিন হাজার  একশত টাকা দাম রয়েছে। আশা করি, এবার আরো ভালো মূল্য পাবো।

উপজেলার ৫নং বিনাইল ইউনিয়নের হেড়মা গ্রামের পাট চাষী আবু হোসেন বলেন, আমি সাইত্রিশ শতক জমিতে পাট লাগিয়েছি। মোটামুটি ফসল ভালো হয়েছে। বীজ থেকে চারা বড় করার জন্য প্রচন্ড রোদ থাকায় ঘন ঘন সেচ দিতে হয়েছে, আগাছা দমন করার জন্য অনেক খরচ হয়েছে। কীটপতঙ্গের দিক থেকে,পাটে বিষাক্ত পোকা না থাকাই ঔষধ কম দিতে হয়েছে,পাথর ও কোনো দুর্যোগ না থাকায় পাট অনেক ভালো হয়েছে।বাজারে পাটের দামও অনেক বেশি থাকায় আমাদের তেমন লোকসান হয়নি। সাইত্রিশ শতক জমিতে দশ মণ পাট পেয়েছি। এতে করে আমরা পাট চাষীরা অনেক খুশি।

জানতে চাইলে, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নিকছন চন্দ্র পাল বলেন, উপজেলায় গত বছর ১’শত ৮০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছিল। এবছর ১’শত ৯০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। বাজারে পাটের দাম ভালো থাকায় কৃষকরা পাট চাষে আগ্রহী হয়েছে। ইতি মধ্যে মাঠের সব পাট কাটা প্রায় শেষের পথে। এখন জাগ আর আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা। আশা করছি, এবারও লাভের মুখ দেখবে কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূল ও প্রাকৃতিক কোন দূর্যোগ না থাকায় ফলন ভালো হয়েছে।

এছাড়াও উপজেলার অফিসার ও মাঠকর্মীরা পাট চাষের জন্য সব সময় কৃষকদের সেবা ও পরামর্শ দিয়ে আসছে। আশা করছি, আগামীতেও কৃষকদের পাট চাষে আগ্রহ অনেক বাড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x