ঢাকা, শুক্রবার ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:৪৮ অপরাহ্ন
দক্ষতা সম্পন্ন কর্মীদের বড় শ্রম বাজার ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন
Reporter Name

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন একতা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব বোধ এবং সহনশীলতাসহ নানান বিশেষণে বিশেষায়িত একটি আঞ্চলিক জোট, বলতে গেলে ২৭ টি দেশ মিলিয়ে একটি রাজ্য কেননা নির্ধারিত সীমানা থাকলেও নেই কোন সীমান্ত রক্ষী। প্রতিটি দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পার্থক্য থাকলেও আঞ্চলিক স্বার্থ রক্ষা এবং সকল প্রকার উন্নয়নে তাদের মধ্যে রয়েছে একাত্মতা।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ টি দেশের মধ্যে উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন নাগরিকদের মধ্যে গড়ে তুলনামূলকভাবে ৪৪ শতাংশ নন -ইইউ(ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোর) নাগরিক, ৩৩ শতাংশ ইইউ নাগরিক এবং ২১ শতাংশ স্থানীয় নাগরিক। তবে নন-ইইউ নাগরিকদের মধ্যে মহিলা গড়ে ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পুরুষ ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ।

সর্বোচ্চ সংখ্যক নন-ইইউ উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন নাগরিকদের রয়েছে যে সকল দেশগুলোতে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য যথাক্রমে গ্রীসে ৭৮ শতাংশ, ইতালি ৬৮ শতাংশ, স্পেন ৬২ শতাংশ। অন্যদিকে স্পেন , ইতালি, সাইপ্রাস এবং গ্রিসে ৫০ শতাংশ উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন ইইউ নাগরিক রয়েছেন।

অপরদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্য থেকে তিনটি দেশের নাগরিকগণ সবচেয়ে বেশি উচ্চতা সম্পন্ন স্পেন ৩৫ শতাংশ গ্রিস ৩২ শতাংশ এবং সাইপ্রাস ৩১ শতাংশ। তবে লুক্সেমবুর্গে একে তিন ধরনের উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন নাগরিকদের অবস্থান প্রায় সম পর্যায়ের যদিও এটি একটি ক্ষুদ্র দেশ।

উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন ব্যক্তি (কর্মী )বলতে আন্তর্জাতিক একটি মানদণ্ড রয়েছে যাকে ইংরেজিতে বলা হয় ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ক্লাসিফিকেশন অফ এডুকেশন (আই এস সি ই ডি) এই মানদণ্ডে যারা কমপক্ষে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর কর্ম সংস্থান সংক্রান্ত নির্দিষ্ট বিষয়ে দুই বছরের কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন

খুব সুন্দর ভাবে পরিলক্ষিত যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন তাদের কর্মসংস্থানে তৃতীয় দেশের দক্ষতা সম্পন্ন নাগরিকদের প্রাধান্যতা দিচ্ছেন। ফলে নন-ইইউ দেশের দক্ষতা সম্পন্ন পেশাজীবীদের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি বড় শ্রমবাজার যার মাধ্যমে নন-ইইউ দেশগুলো প্রচুর পরিমাণ মুদ্রা অর্জন করছেন। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত ইউরোপের এই শ্রমবাজারের একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে।

বাংলাদেশ থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ প্রতিবছর ইউরোপে পাড়ি জমাচ্ছেন তবে এদের বেশিরভাগই অদক্ষ জনবল। যদি বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা এবং উদ্যোগ গ্রহণ করেন তাহলে বাংলাদেশের পক্ষেও এই শ্রমবাজারের অংশ হওয়ার সুযোগ হয়ে উঠবে এবং আরো বেশি রেমিট্যান্স অর্জন করা সম্ভব হবে যা বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x