ঢাকা, বুধবার ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৬:২৫ অপরাহ্ন
খুলনায় রাতের আধারে উধাও শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ
Reporter Name

তৃপ্তি রঞ্জন সেন পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট ভাই এর নামে ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত শেখ রাসের স্মৃতি সংসদ রাতের আঁধারে উধাও। দীর্ঘ ৬টি বছর খুলনার পাইকগাছা পৌরসভার সরল বাজারে অবস্থিত কার্যালয়টির কোন চিহ্ন পর্যন্ত নেই। শুধু জায়গাটি ফাঁকা পড়ে রয়েছে। নেই ঘরের কোন আসবাব পত্র, নেই চেয়ার-টেবিল, নেই সাইনবোর্ড, এমনকি ঘরের বেড়া ও চাল অনেক দুরে পড়ে রয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকবাসীসহ আওয়ামীলীগের দলীয় নেতা কর্মীদের মধ্যে মারাত্মক ক্ষোভের সৃষ্ঠি হয়েছে। এদিকে খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল মন্টু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী ও ওসি মোঃ এজাজ শফী। এ ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন। পৌর মেয়রের থানায় অভিযোগ দায়ের। শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের সভাপতি পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর জানান, পাইকগাছা পৌরসভার ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের মধ্যবর্তী স্থানে খুলনা জেলা পরিষদের একটি পুকুর রয়েছে। পুকুরটি এলাকাবাসী সুপেয় পানির জন্য ব্যবহার করে আসছে। যেটি বান্দিকাটী পুকুরপাড় নামে পরিচিত। খুলনা-পাইকগাছা প্রধান সড়কের পাশে পুকুর পাড়ের দক্ষিণ পূর্ব কোণে শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের কার্যালয় রয়েছে।

২০১৫ সাল থেকে শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের কার্যালয়ে শেখ রাসেল এর জন্মদিন পালন, বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদযাপন এবং করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ কার্যালয়টি ৩টি ওয়ার্ডের মধ্যবর্তী স্থানে হওয়ায় অত্র কার্যালয়টি পৌরসভার ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মেয়র বলেন, মঙ্গলবার সাহারীর পর সবাই যখন ঘুমিয়ে তখন কতিপয় লোকজন শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ কার্যালয়টি ভেঙ্গে ফেলেছে। খবরটি শুনে যেমন খারাপ লেগেছে, তেমনি হতবাক হয়েছি এই ভেবে, কাদের এতো দুঃসাহস হলো আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় শেখ রাসেল এর নামে গড়া এমন একটি প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে দিল। তাৎক্ষনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি থানার ওসিকে বিষয়টি অবহিত করি। মুহূর্তের মধ্যে এ খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ মুঠোফোনে সবখানে ছড়িয়ে পড়লে দলীয় নেতাকর্মী সহ এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, অদৃশ্য শক্তির বলে এলাকার কতিপয় ব্যক্তিরা সরকারি সম্পদ জবর দখল ও পরিবার কেন্দ্রিক ফায়দা লুটতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ খবর শুনে চরম ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু। তিনি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার ইকবাল মন্টু, উপজেলা

নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী ও ওসি মোঃ এজাজ শফী। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের সভাপতি ও মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর জানান। ওসি এজাজ শফী জানান, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং আশেপাশের অনেককে থানায় ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত পুর্বক যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে ওসি জানিয়েছেন। উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল মন্টু জানিয়েছেন, শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ এর কার্যালয়টি যে বা যারাই ভেঙ্গে থাকুক না কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য শেখ কামরুল হাসান টিপু বলেন, শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ ভাঙ্গার ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে এবং অভিযোগ হলে জেলা পরিষদ ও প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য যা-যা করা দরকার তাহা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী জানান, কোন প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ কিংবা ভাঙ্গার জন্য কিছু নিয়ম কানুন রয়েছে। যেমন শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ কার্যালয়টি যখন ভাঙ্গা হয়েছে সেখানে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষের উপস্থিতি থাকা প্রয়োজন ছিল। এ ক্ষেত্রে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের সহযোগিতাও নিতে পারতো। কিন্তু যেভাবে ভাঙ্গা হয়েছে এটি সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে আমার মনে হয়নি। এলাকবাসী যথাস্থানে শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ কার্যালয়টি পূর্ণস্থাপন সহ যারা ভাংচুর করেছে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবী জানিয়েছেন। এদিকে এ ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x