বিস্ফোরক পরিদপ্তর থেকে ইতোমধ্যেই অক্সিজেন প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর প্রতি এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ।
তিনি বলেন, “করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় অক্সিজেন সরবরাহ নির্বিঘ্ন করতে আমরা আপাতত এই নির্দেশনা দিয়ে রেখেছি। প্রয়োজন হলে নির্দেশনা পরিপালন করা হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে মাঠে তদারকিতে নামব।”
বাংলাদেশে চলতি এপ্রিল মাসের শুরুতে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পর অক্সিজেনের চাহিদা বাড়লেও তা সঙ্কটের পর্যায়ে যায়নি। তবে ভারতে সঙ্কট দেখা দেওয়ায় সেখান থেকে বাংলাদেশে অক্সিজেন রপ্তানি ইতোমধ্যেই বন্ধ করা হয়েছে। দেশের মোট চাহিদার ২০ শতাংশ অক্সিজেন ভারত থেকে আমদানি করা হয়ে থাকে বলে খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ফরিদ হোসেন মিঞা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, সংক্রমণের দ্বিতীয় ধাক্কায় দৈনিক অক্সিজেনের সর্বোচ্চ চাহিদা দাঁড়িয়েছিল ১৫০ থেকে ১৬০ টনে। রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমায় এখন হাসপাতালগুলোতে ১৪০ থেকে ১৫০ টনের মতো অক্সিজেন লাগছে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশের হাসপাতালে স্বাভাবিক সময়ে ১০০-১২০ টনের মতো অক্সিজেনের চাহিদা থাকে। এই চাহিদা পূরণ হয় দেশের উৎপাদনেই।
লিন্ডে বাংলাদেশ ৯০ টন ও স্পেকট্রা অক্সিজেন লিমিটেড ২০-৩০ টন অক্সিজেন সরকারি হাসপাতালে সরবরাহ করে থাকে। ইসলাম অক্সিজেন লিমিটেড বেসরকারি হাসপাতালে সরবরাহ করে। আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কিছু পরিমাণ অক্সিজেন সরবরাহ করে।
আপাতত দেশে অক্সিজেনের সঙ্কট না থাকলেও সংক্রমণ পরিস্থিতি মাত্রা ছাড়ালে এই অক্সিজেনে তা সামাল দেওয়া কঠিন হবে বলে সতর্ক করেছেন কর্মকর্কতারা।
একই কথা বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।মঙ্গলবার তিনি বলেন, বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে যে পরিমাণ রোগী আছে তাতে অক্সিজেনের সমস্যা হবে না। তবে রোগী বেড়ে গেলে সঙ্কট তৈরি হবে।বাংলাদেশে সংক্রমণ বাড়তে থাকার মধ্যে ১৩ এপ্রিল বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে অক্সিজেন আমদানি বেড়েছিল। ২১ এপ্রিল আমদানি বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত এই বন্দর দিয়ে চারটি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন তরল অক্সিজেন আমদানি করেছিল।
Leave a Reply