মোঃশাহীন আলম লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার সুপারি বিক্রেতা সুধির চন্দ্রের (৪০) মরদেহ উদ্ধার। এ ঘটনায় সন্দেহজনকভাবে দুই চালককে আটক করেছে পুলিশ। নিহত সুধির চন্দ্র উপজেলার দলগ্রাম ইউনিয়নের পশুরাম পাড়া এলাকার মৃত সুরিন্দ্র নাথ রায়ের ছেলে। তিনি পেশায় সুপারি ব্যবসায়ী।
বুধবার (১২ মে) দুপুরে তার মরদেহ লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় কালীগঞ্জ থানা পুলিশ।
আটকরা হলেন, কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের উত্তর ৩২ হাজারী গ্রামের পিকাআপ চালক আরিফুল ইসলাম আরিফ (৪১) ও যমুনা সেতু পাড় এলেঙ্গা এলাকার অ্যাম্বুলেন্স চালক নুরুল আলম (৩৫)।
পুলিশ সুত্রে জানা যায়, নিজের পিকাআপে চালকের সাহায্যে জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সুপারি ক্রয় করে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করেন সুধির চন্দ্র।
গত দুই দিন আগে সুপারি নিয়ে তার পিকাআপ চালক আরিফুলসহ ঢাকার উদ্দেশে রহনা দেন সুধির। পথিমধ্যে যমুনা সেতুপাড়ে এলেঙ্গায় তাদের গাড়ি বিকল হলে পিকআপ থেকে নেমে রেললাইনে পায়চারি করে মোবাইলে কথা বলছিলেন তিনি।
পথে একটি পণ্যবাহী ট্রেন তাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলে সুধিরের মৃত্যু হয়। পরে চালক আরিফুল সুপারির পিকআপ একটি ফিলিং স্টেশনে রেখে সুধিরের মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স যোগে বাড়ি ফিরেন। পিকাআপ চালক আরিফুল।
মঙ্গলবার (১১ মে) রাতে সুধিরের বাড়িতে মরদেহ পৌঁছলে তার শরীরের আঘাতের চিহ্ন দেখে পরিবারের লোকজন হত্যার অভিযোগ তুলে কালীগঞ্জ থানা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স চালক নুরুল আলম ও সুধিরের পিকআপ চালক আরিফুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এতে সন্দেহ হলে পুলিশ সুধিরের মরদেহ উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় সন্দেহজনক ভাবে দুই চালককে আটক করে আদালতে সোপর্দ করেন।
এ ঘটনায় নিহত সুধিরের ভাই শিবু চন্দ্র রায় বাদি হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি আমলে নিয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলের সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
কালীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আরজু সাজ্জাদ হোসেন বলেন, নিহতের পরিবারের অভিযোগ ও মরদেহের শরীরে আঘাতের চিহ্ন এবং দুই চালকেরর বর্ননা সন্দেহজনক হওয়ায় মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। আটকদের ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের দায়ের করা অভিযোগটি ঘটনাস্থলের সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হবে।
Leave a Reply