কার্মকার শিল্পীরা জানান, বর্তমানে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারের ফলে দেশিয় তৈরি এসব পুরনো উপকরণ আর তেমন ব্যবহৃত হচ্ছে না। প্রযুক্তি নির্ভর লোহার তৈরি পুরনো সব উপকরণের যোগ্যতা এখন আর নেই বললেই চলে। কর্মকার শিল্পীদের প্রায় সারা বছর মন্দাভাব নিয়েই সংসারের গ্লানি টানতে হয়।
কিন্তু প্রতি বছর কোরবানির ঈদের আগে এক-দেড় মাস মহাব্যস্ত সময় পার করে কর্মকার শিল্পীরা। লাখাই বাজরের অনজন কর্মকার জানান, এক সময় লোহা আগুনে পুড়িয়ে দা, বটি, , চাকু, ছোরা, বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরিতে আমরা যথেষ্ট চাহিদা ছিল। কিন্তু বর্তমানে চাহিদার নেই বললেই চলে। কিছু পুরাতন জিনিস নিয়ে আসে এ গুলো টিক টাক করে দেই।
মেশিনের সাহায্যে বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে। ফলে আমাদের তৈরি যন্ত্রপাতির প্রতি মানুষ দিন দিন আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। তিনি আরও জানান, হয়ত এক সময় এই পেশা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তবে কোরবানির ঈদের সময় আমরা একটু আশাবাদী হই।
সারা বছরের তুলনায় কোরবানির ঈদের সময় রোজগার অনেক বেশি হয়। করোনা মহামারী পরিস্থিতি দোকান বন্ধ থাকায় কাজ কম স্থানীয় গোপেশ কর্মকার জানান, বাপ-দাদার কালের এই পেশা আমি তাদের কাছেই শিখেছি। লেখাপড়া না জানার কারণে অন্য কোনো কাজে যেতে পারি না। সারা বছরই সংসারে অভাবে চলে। অন্য কোনো কাজ জানাও নেই। সারা বছর তেমন কোনো কাজ না থাকলেও কোরবানির সময় আমাদের কাজের চাহিদা অনেকগুণ বেড়ে যায়। কোরবানির ঈদের সময়টুকুতে সংসার নিয়ে একটু ভালো থাকি।
এ ব্যাপারে বিভিন্ন হাটের কর্মকার শিল্পীরা জানায়, এই পেশায় যারা আছে তারা খুবই অবহেলিত। বর্তমান বাজার মূল্যের যে ঊর্ধ্বগতি সে অনুযায়ী তারা কাজের ন্যায্য মূল্য পায় না।
এই পেশায় থেকে সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হয়। কর্মকার শিল্পীরা মনে করেন সরকারি পৃষ্টপোষকতা কোনো আর্থিক কোনো সহযোগিতা না পেলে এ শিল্প হয়ত অচিরেই হারিয়ে যাবে। এ ছাড়া বৈশ্বিক করোনা মহামারীর কারণে লকডাউন থাকায় দোকানগুলো দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রাখতে হয়েছে। এর ফলে ব্যাপক লোকসান গুনতে হয় স্থানীয় কর্মকারদের।
Leave a Reply