ঢাকা,রবিবার ০৪ জুলাই ২০২১, ০২:৩৫ অপরাহ্ন
ফেনী কালীদহে ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রীকে জবাই করে হত্যার; জেঠাতো ভাই আটক
দৈনিক ডাক অনলাইন ডেস্ক

পেয়ার আহাম্মদ চৌধুরীঃ– ফেনী সদর উপজেলার কালিদহে কিশোরী তানিসা ইসলামকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ তার জেঠাতো ভাই আক্তার হোসেন নিশানকে (১৭) আটক করেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে নিশানের জুতা পেয়ে তাৎক্ষণিক তাকে বাড়ী থেকে আটক করে। সে ওই বাড়ীর মৃত সাহাব উদ্দিনের এক মাত্র ছেলে। ধারনা করা হচ্ছে,তানিসাকে একা পেয়ে নিশান ধর্ষণের চেষ্টা চেলায়। ব্যার্থ হয়ে সে চাচাতো বোনকে খুন করে।

ঘটনার সময় তিশাকে বাসায় দাদীর কাছে রেখে(রাত সাড়ে ৮টার দিকে) তার মা ও বড়বোন পাশের বাড়ি যায়। ঘণ্টা দেড়েক পর বাড়ি এসে তিশাকে না পেয়ে মা ছাদের দিকে খুঁজতে যান। সেখানে যেতেই সিঁড়ি ঘরের মেঝেতে মিললো মেয়ের গলাকাটা রক্তাক্ত মৃত লাশ। পুলিশ এলো ঘটনাস্থলে মিললো একজোড়া স্যান্ডেল। সেই স্যান্ডেলের সূত্র ধরেই আটক করা হলো তিশার জেষ্ঠাতো ভাই মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র নিশানকে।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিশান হত্যার দায় স্বীকার করে। রাতেই নিশানের দেখানো মতে তিশাকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি ঘটনাস্থল ছাদ থেকে পুলিশ উদ্ধার করে। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত ছাড়া হত্যাকাণ্ড কারণ জানাতে পারেনি।

ফেনী ম‌ডেল থানার ওসি (তদন্ত) ওমর হায়দার জানান, লাশ উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রাখা হবে।

এ‌দি‌কে তা‌নিসার মৃত‌্যুর খবর ছ‌ড়ি‌য়ে পড়‌লে আশপা‌শের শত শত নারী পুরুষ ওই বা‌ড়ি‌তে ভীড় জমায়। পুরো এলাকায় শোক ও আতংক ছড়িয়ে পড়ে।

নিহত কি‌শোরী শহ‌রের ডাক্তারপাড়া ম‌হিউচ্ছুন্নাহ

মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।‌ সে ফেনী সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নের আলী আহাম্মেদ ভুঞা বাড়ির সৌদিপ্রবাসী শহিদুল ইসলাম ও তাস‌লিমা আক্তা‌র দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে সে ছিলো সবার ছোট। বুধবার ৫ মে ছিল তার ১১তম জন্মদিন। জন্মদিন ভাই ছিল এতেকাফে বাড়ি পাশে মসজিদে বড় বোনও শ্বশুর বাড়িতে। জন্মদিনে বোন আসেনি। রাতে উইশ করতে ভুলে গেছে। ফোনে এনিয়ে বোনে সাথে সে কি রাগ তিশার। এক পর্যায়ে ল্যাহেঙ্গার আবদার পূরণ করার শর্তে রাগ কমলো। পরের দিন বিকেলে ল্যাহেঙ্গা নিয়ে বাড়িতে হাজির হলো বড়বোন। পরা হবেনা আর বোনের দেয়া সেই ল্যাহেঙ্গা পালন হবেনা আর জন্মদিন।

উল্লেখ যে অভিযুক্ত জেঠাতো ভাই আক্তার হোসেন নিশান একটি কওমি মাদ্রায় পড়তো। সে তার মায়ের একমাত্র সন্তান। তিন মাসের গর্ভে থাকার সময় বাবা মারা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *