ঢাকা,রবিবার ০৪ জুলাই ২০২১, ০২:৩৫ অপরাহ্ন
 চিকিৎসক সাবেরা রহমান হত্যাকারীরা খুবই ধূর্ত প্রকৃতির
দৈনিক ডাক অনলাইন ডেস্ক

চিকিৎসক ডা. কাজী সাবেরা রহমান লিপির হত্যাকাণ্ডের চারদিন পার হয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের কোনো ক্লো উদ্‌ঘাটন করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে এই মামলার তদন্তকারীরা নিশ্চিত যে, লিপিকে যারা হত্যা করেছে তারা তার খুবই ঘনিষ্ঠ। তিনি তাদের চেনেন বলেই তিনি নিজেই দরজা খুলে দিয়েছিলেন। এ ঘটনায়  জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক সাত জনকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।সাবেরা রহমান  খুনের সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা এবং কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভিকটিমের বাসা থেকে ছয় বাসা পর যে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ জব্দ করেছিল ডিবি পুলিশ সে ফুটেজ থেকে খুনিকে চিহ্নিত করা যায়নি। ফুটেজে সড়কে শত শত মানুষের চলাচল করতে দেখা গেছে। সেখানে লিপির বাসায় কে গিয়েছিলেন তা শনাক্ত করা যায়নি।

গত চারদিন ধরে তদন্ত করেও তদন্তকারীরা লিপির খুনিকে চিহ্নিত করতে পারেননি। তদন্তকারীরা বলছেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যে জড়িত সে খুবই ধূর্ত প্রকৃতির। অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় সে লিপিকে হত্যা করে বাসা থেকে বের হয়ে গেছে। কোনো গুরুত্বপূর্ণ আলামত ফেলে যায়নি। শুধু ডা. লিপির কক্ষ থেকে সিগারেটের যে অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে সেটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে সিআইডিতে। সূত্র জানায়, ডা. লিপি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে লিপির একাধিক বিষয় নিয়ে মাঠে কাজ করছে তদন্তকারী সংস্থা। তারা তার ব্যক্তিগত জীবন, গ্রীন লাইফ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে কোন চিকিৎসকের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ছিল কিনা বা তার কারও সঙ্গে কোনো আর্থিক লেনদেন ছিল কিনা, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। তবে সুনির্দিষ্ট কোন কারণে তিনি হত্যার শিকার হলেন তা এখনো জানতে পারেননি খুনের মোটিভের সন্ধানে থাকা তদন্তকারীরা।

মামলার তদন্তকারী ও ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, লিপি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, এ বিষয়টি পুলিশ নিশ্চিত হয়েই মামলার তদন্ত করছে। রোববার রাত ১০টার দিকে হাসপাতালের ডিউটি শেষে বাসায় এসে কারও সঙ্গে কোনো কথা না বলে নিজ শয়ন কক্ষে চলে যান ডা. লিপি। তদন্তকারীদের ধারণা যে, রাত ১০টার পর থেকে রাতের যেকোনো সময় তিনি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।

ডা. লিপির স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন যে, ডা. লিপি অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। তিনি প্রয়োজন না হলে কারও সঙ্গে কথা বলতেন না। বাসার সাবলেটে যারা ছিলেন তাদের সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তার স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *