অর্থ পাচারের অভিযোগের মামলায় মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরসহ চারজনের ১৭০টি ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগরের সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ আজ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।
অপর তিন আসামি হলেন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক রিয়াজ উদ্দিন, রিয়াজের ভাই হায়দার আলী এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. শফিকুল ইসলাম ওরফে শফিক।
পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) তাপস কুমার পাল বলেন, মামলার তদন্ত চলমান থাকায় গোল্ডেন মনিরসহ চারজনের ১৭০টি ব্যাংক হিসাব জব্দ করার আদেশ চেয়ে আদালতে আবেদন করে সিআইডি। শুনানি নিয়ে আদালত জব্দের আদেশ দেন আদালত।
অর্থ পাচারের অভিযোগে গোল্ডেন মনিরসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গত ১১ মে বাড্ডা থানায় মামলা করে সিআইডি। মামলার কাগজপত্রের তথ্য বলছে, অপরাধলব্ধ আয় দিয়ে গোল্ডেন মনির স্ত্রী, ছেলে এবং তাঁর নিজের নামে সরকারি ২০টিসহ ৩০টি প্লট, ১৫টি ভবন, ১টি আবাসন প্রতিষ্ঠান এবং ২টি গাড়ির শোরুম করেছেন। ব্যাংকে তাঁর নামে রয়েছে ৭৯১ কোটি টাকা।
মামলার অপর আসামিরা হলেন গোল্ডেন মনিরের সহযোগী আবদুল হামিদ (৬০), মনিরের স্ত্রী রওশন আক্তার, ছেলে রাফি হোসেন, বোন নাসিমা আক্তার, নাসিমার স্বামী হাসান আলী খান, মনিরের আরেক ভগ্নিপতি নাহিদ হোসেন।
মামলার এজাহারের তথ্য বলছে, আসামি রিয়াজ উদ্দিন ১৯৯৬ সালে সোনালী ব্যাংকের এয়ারপোর্ট শাখায় পিয়ন পদে চাকরি করার সময় গোল্ডেন মনিরের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় এবং সোনা চোরাচালানে জড়িয়ে পড়েন। পরে চাকরি ছেড়ে দেন তিনি।
অপরাধলব্ধ আয় দিয়ে তিনি বহুতল জমজম ও আল সাফা টাওয়ারের অন্যতম মালিক হন। দুটি পোশাক কারখানার মালিকও তিনি। সোনা চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে পল্টন ও বিমানবন্দর থানায় দুটি মামলা রয়েছে। ওই মামলায় তিনি দুবার গ্রেপ্তার হলেও পরে জামিনে মুক্ত হন।
আসামি হায়দার আলী রিয়াজ উদ্দিনের ভাই। মামলায় দাবি করা হয়, হায়দার আলীর আয়ের কোনো উৎস নেই। তিনি রিয়াজ উদ্দিনের পৃষ্ঠপোষকতা ও সহায়তায় গোল্ডেন মনির এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিকুলের যোগসাজশে সোনা চোরাচালানের অর্জিত আয় দিয়ে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের জমজম টাওয়ার এবং উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের আল সাফা টাওয়ারের অন্যতম মালিক হন।
গত বছরের ২০ নভেম্বর রাজধানীর মেরুল বাড্ডার বাসায় অভিযান চালিয়ে মনিরকে মাদক, অস্ত্রসহ আটক করে র্যাব। গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়। এ ছাড়া মতিঝিল ও রমনা থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য ও দুদক আইনে আরও চারটি মামলা রয়েছে। মনির বর্তমানে কারাগারে।
Leave a Reply