ঢাকা,রবিবার ০৪ জুলাই ২০২১, ০২:৩৫ অপরাহ্ন
ক্লিনিকের উদ্বোধনের আগেই ছাদ দিয়ে পানি পড়ছে
দৈনিক ডাক অনলাইন ডেস্ক

ঝকঝকে মনকাড়া ভবনটির উদ্বোধনের আগেই ছাদ চুইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে। বৃষ্টি এলে বৃষ্টির পানিতে ভিজে যায় ৪টি কক্ষ। নষ্ট হচ্ছে আসবাবপত্র। ক্ষতির মুখে পড়েছে নানা ধরনের ওষুধ। ভিজে যাচ্ছে খাতাপত্র। ভবন নির্মাণে নিম্নমানের কাজের কারণেই এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিন গিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বরইছারা কমিউনিটি ক্লিনিকের এসব অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়। নতুন ভবন তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে পুরাতন ভবনের ইটের খোয়া ও রাবিশ। ব্যবহার করা হচ্ছে বিটবালু।  সিমেন্টও ব্যবহার করা হচ্ছে খুবই নিম্নমানের। এ সমস্যার প্রতিকার চেয়ে ওই ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মেহেরুন কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ করেও কোনো সাড়া পাচ্ছেন না।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো উপজেলার বরইছারা গ্রামে কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম শুরু করা হয়। কমিউনিটি বেইজড হেলথ কেয়ার প্রকল্পের আওতায় ওই ক্লিনিকের একতলা ভবন নির্মাণের জন্য ২০১৯-২০ অর্থবছরে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ২৯ লাখ ৭৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

দরপত্র আহবানের মাধ্যমে হুসাইন বিল্ডার্স নামে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ঠিকাদার ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে ভবন নির্মাণ কাজ শেষ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেন। অথচ হস্তান্তরের আগে থেকেই ছাদ চুইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ায় নতুন কক্ষগুলো যেন পুরনো কক্ষে রূপ নিয়েছে।

ওই ক্লিনিকের নামে জমিদাতা বরইছারা গ্রামের সাবেক মেম্বার জালাল উদ্দিন ও ক্লিনিকের সভাপতি এনামুল হক অভিযোগ তুলে বলেন, এ কাজে রড ও ঢালাইয়ে সিমেন্টের পরিমাণ অনেক কম দেওয়া হয়েছে। ছাদ ঢালাইয়ে ইটের গুঁড়ামিশ্রিত কংক্রিট ও নিম্নমানের বালু ব্যবহার করায় ছাদ চুইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ছে। সরকারি যেকোনো ভবনের ঢালাই কাজে বরাদ্দ দাতা অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা উপস্থিত থাকার নিয়ম থাকলেও এ ক্লিনিকের ছাদ ঢালাইয়ে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি।

বরইছারা কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি মেহেরুন বলেন, কন্ট্রাক্টর যখন আমাকে চাবি বুঝিয়ে দেন- তখনই ছাদ দিয়ে পানি চুইয়ে পড়ছিল। তখন আমি উনাকে বললাম ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। উনি আমাকে বলেন- এটা আপনার দেখার বিষয় না। এটা দেখবে ইঞ্জিনিয়ার। কাজ এত নিম্নমানের হয়েছে যা প্রকাশ করার মতো নয়। বৃষ্টি হলে ৪টি রুমে পানি পড়ে ওষুধপত্র সব ভিজে যাচ্ছে। এছাড়া পুরাতন মোটর বসিয়েছে।

এ অবস্থায় আমি ভবন নির্মাণে ত্রুটি-বিচ্যুতি তুলে ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বরাবর গত ২ জুন একটি দরখাস্ত দেই। স্যার বলেছেন ব্যবস্থা নেবেন।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হুসাইন বিল্ডার্সের স্বত্বাধিকারী হুসাইন মিয়া বলেন, আমার ওপর আনীত সব অভিযোগ সঠিক নয়। ছোটখাটো সমস্যা থাকতেই পারে। আমি এগুলো মেরামত করে দেব। আর ছাদের উপরে কিছু বালু রাখা হয়েছিল। যার কারণে ছাদটি ভিজে রয়েছে। তাছাড়া আমার ওপর ১ বছরের দায়িত্ব রয়েছে। কোনো সমস্যা হলে আমি দেখে নেব।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নোমান মিয়া বলেন, সরেজমিন গিয়ে দেখেছি। ছাদ দিয়ে কিছুটা পানি পড়ে। বাথরুমে সমস্যা আছে। অন্যান্য জায়গায়ও কিছু সমস্যা আছে। এ ব্যাপারে আমি জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশলীর  কাছে দরখাস্ত দিয়েছি। উনারা বলেছেন ব্যবস্থা নেবেন।

জেলা স্বাস্থ্য সহকারী প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার শীল বলেন, কাজের কিছুটা সমস্যা আছে। উপজেলা থেকেও দরখাস্ত পেয়েছি। দরখাস্ত পেয়ে আমি কন্ট্রাক্টরকে বলেছি। একটা রুমে পানি পড়ে। কন্ট্রাক্টর বলেছেন নতুন করে ঢালাই করে দেবেন। আর এটা খুব দুর্গম এলাকা, আমরা ঠিকমতো উপস্থিত থাকতে পারি নাই। সেজন্যও কিছুটা সমস্যা হয়েছে। কারণ আমরা দুজন লোক সমস্ত জেলার দায়িত্বে। আমাদের কোনো উপজেলায় অফিস নাই। এটা নিয়ে আপনারা এত ইয়ে করার মানে হয় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *