বরগুনার আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মতিয়ার রহমানের ভাগ্নে যুবলীগ নেতা মোঃ আবুল কালাম আজাদ ও উপজেলা জাতীয় শ্রমিক লীগ সাধারণ সম্পাদক হাসান মৃধাকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হাত ও পা কেঁটে দেওয়ার ঘটনার ২১ দিন পরে আমতলী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আজ (শনিবার) রাত ১ টা ৩০ এর সময় ভিকটিম মোঃ আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে তার সাথে থাকা অপর ভিকটিম উপজেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাসান মৃধা, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিএম মুসা, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি জিএম ওসমানী হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মিরাজ হোসাইন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন খান, উপজেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মতিন খানসহ এজাহার নামীয় ১৫ ও অজ্ঞাত আরো ১০/১২ জনকে আসামী করে আমতলী থানায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন।
বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক অপর ভিকটিম হাসান মৃধাকে সাথে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে নগদ ২ লক্ষ টাকাসহ ইটের অগ্রিম বায়না করার জন্য পূর্বচিলা সাকিনের সারা ব্রিকসের অফিসে যায়। সেখানে পৌছে ভাটাটি বন্ধ দেখে বায়না না করে তিনি আমতলীর উদ্দেশ্যে ফিরে আসার পথে ঘটনাস্থলে পৌছাইলে এজাহার নামীয় আসামীরা তাদের মোটর সাইকেল থামাইয়া দেশিয় অস্ত্র দিয়ে খুন করার উদ্দেশ্যে তাদের হাত পায়ে এলোপাথারী কুপিয়ে হাত পা কেটে মুমুর্ষ অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। এসময় তার সাথে থাকা নগদ ২ লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
উল্লেখ্য গত (২১ মে) রাত পৌনে ৯ টার দিকে সদর ইউনিয়নের মাইঠা গ্রামে বসে উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মোঃ মতিয়ার রহমানের ভাগ্নে যুবলীগ নেতা মোঃ আবুল কালাম আজাদ ও উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাসান মৃধাকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আজাদের দুই হাতের বাহু, তালু, কব্জি, দু’পায়ের হাটু, গোড়ালি কুচি কুচি করে এবং হাসানের দু’হাতের বাহু ও কব্জি কেটে সেখানে ফেলে রেখে যায়। ওই সময় স্থানীয়রা আহতদেরকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সঙ্কটজনক অবস্থায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বর্তমানে আজাদ ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শাহআলম হাওলাদার বলেন, ওই ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে এজাহার নামীয় ১৫ এবং আরো অজ্ঞাত ১০/ ১২ জনকে আসামী করে আমতলী থানায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন।
আমতলীতে অগ্নিকান্ডে সর্বস্ব হারানো হেলালকে গাড়ী কিনে দিলেন ইউপি চেয়ারম্যান
আমতলী(বরগুনা)থেকে মো. মিজানুর রহমান :বরগুনার আমতলীতে অগ্নিকান্ডে সর্বস্ব হারানো হেলাল মোল্লাকে অটোগাড়ী কিনে দিয়েছেন আমতলী সদর ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি মো. মোতাহার উদ্দ্দিন মৃধা।
শনিবার সকালে আমতলী সদর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ক্ষতিগ্রস্থ মো.হেল্লাল মোল্লাকে ইউপি চেয়ারম্যান তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি অটো গাড়ী কিনে দেন।
সম্প্রতি আমতলী ইউনিয়নের খলিয়ান বাজারে অগ্নিকান্ডে মোঃ হেলাল মোল্লার অটো গাড়ী আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে যায়। খলিয়ান এলাকার মৃত্যু মতলব মোল্লার ছেলে হেলাল মোল্লা বাবার সামান্য একটু জমি ছিল সেটি বিক্রি করে নতুন একটি অটোগাড়ী কিনেছিল কেনার একদিন পরেই চার্জে থাকাকালীন অবস্থায় অগ্নিকান্ডে তার অটোরিক্সা আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে যায় শেষ সম্বলটকুও।
শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে হেলাল অসহায়ের মত মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছিল সহযোগিতার জন্য। কোথাওকোন সাহায্য সহযোগিতা না পেয়ে আমতলী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ মোতাহার উদ্দিন মৃধা হেলালের করুন কাহিনীর কথা শুনে তার নিজ অর্থায়নে ৫৫০০০ হাজার টাকা দিয়ে হেলালকে একটি অটো গাড়ী কিনে দেন।
আমতলী সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি মো. মোতাহার উদ্দিন মৃধা মুঠোফোনে বলেন, আমাকে আমতলী সদর ইউনিয়নের মানুষ ভোট দিয়ে তাদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছেন। আমতলী সদর ইউনিয়নের একজন মানুষও কষ্টে আছে আমি জানতে পারলে তাদের কস্ট লাঘবে চেষ্টা করি। আল্লাহর রহমাতে আমতলী সদর ইউনিয়নের সাধারন মানুষের পাশে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আছি এবং তাদের দুঃখ দুদর্শা লাঘবে কাজ করে যাবো।
Leave a Reply