ঢাকা,রবিবার ০৪ জুলাই ২০২১, ০২:৩৫ অপরাহ্ন
আইনজীবী হত্যা, শিপা ও মাহির কললিস্টের জন্য পুলিশের আবেদন
দৈনিক ডাক অনলাইন ডেস্ক

সিলেট জেলা বারের আইনজীবী আনোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় এখনও পলাতক রয়েছেন জেলা ছাত্রদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান চৌধুরী মাহি।

তবে পুলিশের দাবি আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী শিপা বেগমের পরকিয়া প্রেমিক মাহিকে গ্রেফতারের জন্য ইতোমধ্যে সম্ভাব্য কয়েকটি স্থানে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন, মাহি গ্রেফতার এড়ানোর জন্য তার ফেসবুক আইডি ডি-অ্যাকটিভ করে রেখেছে। তবে পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় মাহির অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি মোবাইল নাম্বার ট্র্যাকিংয়ে রেখেছে পুলিশ। এদিকে আনোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার শিপা বেগমের রিমান্ড চলছে। মঙ্গলবার (৮ জুন) সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-১ থেকে পুলিশি পাহারায় তাকে রিমান্ডে নিয়ে আসা হয় বলে পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। মাহি গ্রেফতার হলে দ্রুত এই হত্যাকান্ডের রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে প্রত্যাশা পুলিশের।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) ইয়াসিন আলী জানান, শিপাকে গ্রেফতারের পর থেকে মাহি পলাতক রয়েছে। তাকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আদালত শিপার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। মঙ্গলবার থেকে শিপাকে রিমান্ডে নিয়ে আসা হয়। রিমান্ডে তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। এছাড়া, শিপা ও মাহির কললিস্ট সংগ্রহের জন্য পুলিশ আবেদন করেছে। কললিস্ট পেলে অনেক কিছুই পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

সূত্র জানায়, গত ৩০ এপ্রিল রমজানের দিনে মারা যান এডভোকেট আনোয়ার হোসেন। ফজরের নামাজের পর তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। বিকাল ৩টায় স্ত্রী শিপা বেগম স্বজনদের ফোন করে জানান, আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুর খবর। আনোয়ার হোসেনের বাড়ি সদর উপজেলার শিবের বাজারের দীঘিরপাড় গ্রামে। আনোয়ার হোসেনের নিজস্ব বাসা রয়েছে নগরীর তালতলা এলাকায়। সেখানে তিনি স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। তার স্ত্রী শিপা বেগমের বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার রণকেলী গ্রামে। স্বামীর মৃত্যুর পর শিপা তার স্বজনদের জানিয়েছিলেন, ডায়াবেটিস নীল হয়ে তার স্বামী মারা গেছেন। স্বজনরা স্ত্রীর কথা বিশ্বাস করে স্বজনরা মৃত্যু নিয়ে কোনো সন্দেহ করেননি। তারা আনোয়ার হোসেনের লাশ গ্রামের বাড়ি শিবের বাজারের দীঘিরপাড়ে নিয়ে সমাহিত করেন। আনোয়ারের মৃত্যুতে সবাই শোকে কাতর তখনই খবর আসে শিপা বেগমের নতুন বিয়ের। স্বামীর বাড়ির লোকজনের তখন খবরটি বিশ্বাস হয়নি।

তারা খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন- আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুর ১০ দিনের মাথায় শিপা বেগম তার খালাতো ভাই মাহিকে বিয়ে করেছেন। মাহির পুরো নাম শাহজাহান চৌধুরী মাহি। তার বাড়ি কানাইঘাটের ঝিঙ্গাবাড়ির উপরপাড়া গ্রামে। এই বিয়ে নিয়েই তাদের সন্দেহ হয়। মোবাইল ফোনে শিপার সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন মারা যাওয়া আনোয়ার হোসেনের ছোটো ভাই মনোয়ার হোসেন। ফোনে কথা বলার সময় শিপা নিজেই স্বীকার করেন, তিনি মাহিকে দীর্ঘদিন ধরে ভালোবাসেন। এবং তাদের দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে আনোয়ারের মৃত্যুর পর তারা বিয়ে করেছেন। এবং তার পিতা-মাতাসহ পরিবারের লোকজন উপস্থিত থেকেই তাদের বিয়ে পড়িয়েছেন। এরপর থেকে আইনজীবী স্বামী আনোয়ার হোসেনের রেখে যাওয়া বাসাতেই তিনি নতুন স্বামী মাহিকে নিয়ে বসবাস করছিলেন।

মাহি ও শিপা ছাড়া মামলার আসামিরা হলেন- শিপার মা গোলাপগঞ্জের রণকেলী গ্রামের আজমল আলীর স্ত্রী রাছনা বেগম, কতোয়ালি থানার রায়নগর ১০৪নং বাসার মোতাহির আলীর ছেলে এনামুল হাসান, জৈন্তাপুরের হরিপুর গ্রামের মৃত সোনা মিয়ার ছেলে এসএম জলিল, বিমানবন্দর থানার কালাগুল এলাকার মৃত কালা মিয়ার ছেলে জাকির আহমদ, গোয়াইনঘাটের ছোটখেল গ্রামের জামাল মিয়ার ছেলে ফয়সল আহমদ ও সুবিদবাজার এলাকার লন্ডনী রোডের নাইমার।

মামলার এজাহারে নিহত আনোয়ার হোসেনের ভাই মনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, তার ভাই এডভোকেট আনোয়ার হোসেন সকালে যখন কর্মস্থলে চলে যেতেন তখন মাহি মোটরসাইকেল নিয়ে তার বাসার সামনে আসতো। এ সময় শিপাকে নিয়ে মাহি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করতো। এডভোকেট আনোয়ার হোসেন বাসায় আসার আগেই মাহি প্রেমিকা শিপাকে বাসার সামনে এসে নামিয়ে দিয়ে যেতো। বিষয়টি জানার পর এডভোকেট আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে শিপা বেগমের সাংসারিক দূরত্বের সৃষ্টি হয় এবং মৃত্যুর পূর্বে তারা দু’জন দুই কক্ষে বসবাস করতেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *