ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহবুবুল আলম সুজন অপহরণ ও হামলার হাত থেকে জীবন বাঁচাতে থানায় আশ্রয় নিয়েছেন।। ঘটনাটি বরগুনার বেতাগী উপজেলার মোকামিয়ার। বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) রাতে অপহরণচেষ্টার পর একদফা থানায় আশ্রয় নেন তিনি
পরবর্তীতে রাতে পুলিশ প্রহরায় তাকে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হলেও, রাতের আঁধারে বাড়িতে হামলা হওয়ায় সকালে আবারও থানায় এসে আশ্রয় নেন তিনি। বর্তমানে থানাতেই রয়েছেন সুজন।
বর্তমান চেয়ারম্যান সুজন আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিতব্য ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন।
এই ঘটনায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো: জালাল গাজীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে বেতাগী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন সুজন।
সুজন জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে ব্যক্তিগত কাজ শেষে বরিশাল শহর থেকে বরগুনার বেতাগীর তার নিজ বাড়িতে ভাড়ায় চালিত মাইক্রোবাস নিয়ে ফেরার পথে তিনি জানতে পারেন তাকে অপহরনের জন্য কাছারিবাড়ি এলাকায় যুবলীগ কর্মীরা ভাড়াটে সন্ত্রাসীসহ অবস্থান নিয়েছেন। এরপর তিনি বেতাগী থানার ওসিকে ঘটনাটি মুঠোফোনে জানালে ওসি তাকে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ না যাওয়া পর্যন্ত সামনের দিকে না এসে সেখানে অপেক্ষা করতে বলেন।
তিনি আরও জানান, এরইমধ্যে একটি সাদা রংয়ের প্রাইভেটকার তার গাড়ির সামনে থামিয়ে অস্ত্রসহ কয়েকজন তার ড্রাইভারের কাছাকাছি আসলে ড্রাইভার কৌশলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালিয়ে বেতাগী থানায় এসে পৌঁছায়। গাড়ির পিছনে ধাওয়া করে ব্যর্থ হয়ে পালিয়ে যায় অপহরনকারীরা।
প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো: জালাল গাজীর নির্দেশে তার সমর্থকরা অপহরণের চেষ্টা করেছে অভিযোগ করে চেয়ারম্যান সুজন বলেন, এরকম পরিবেশ থাকলে নির্বাচন করা সম্ভব না। তারা হুমকি দিয়েছে আমার বাচ্চা, আমার সন্তানদের তুলে নিবে। এমতাবস্থায় আমি আমার পরিবার এবং আমার সর্মথকরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। আমি নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরির জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। নির্বাচনী মাঠে সমানভাবে সমঅধিকার চাচ্ছি।
তবে সুজনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নৌকার প্রার্থী মো: জালাল গাজী অভিযোগ অস্বীকার করে তা মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন।
এদিকে অপহরণচেষ্টার খবর শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বরগুনার পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর মল্লিক। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিনি বলেন, আমরা সব পর্যবেক্ষণ করছি। তদন্ত শুরু হয়েছে। আচরনবিধি লঙ্ঘন করলে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিবে। তবে ফৌজদারী অপরাধ কেউ করলে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নিবে। নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে সতর্ক এবং কঠোর থাকবে পুলিশ।
Leave a Reply