ঢাকা, শনিবার ২২ জুন ২০২৪, ০৮:২০ পূর্বাহ্ন
ভোলায় গত এক মাস ধরে ক্রমেই বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ,
Reporter Name

আর জে শান্ত,ভোলা: ভোলায় গত এক মাস ধরে ক্রমেই বাড়ছে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। প্রচন্ড গরমে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩২৫ জন রোগী। শুধুমাত্র গত ১০ দিনে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে জেলার সাত উপজেলার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ৫২ জন রোগী। একসঙ্গে এতো রোগীর চিকিৎসা সেবা দিতে একদিকে যেমন হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। অন্যদিকে শয্যা সঙ্কট এর ককারনে ভর্তি হওয়া বেশির ভাগ রোগী চিকিৎসা নিতে হচ্ছে হাসপাতালের বারান্দার ও মেঝেতে।

ভোলার সিভিল সার্জন দপ্তর সূত্রে জানা যায়,গত ১০ দিনে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে জেলার সাত উপজেলার হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ৫২ জন রোগী। এর মধ্যে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৩২ জন, দৌলতখানে ১৬২ জন, বোরহানউদ্দিনে ৪৩০ জন, তজুমদ্দিন ১১৬ জন, লালমোহনে ১৭১ জন, চরফ্যাশনে ২৪৫ জন ও মনপুরায় ৯৬ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আর ২৪ ঘন্টায় ভর্তি হয়েছে ৩২৫ জন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ভোলা সদর হাসপাতালে ১০০ শয্যার পুরোনো ভবনের পুরোটা জুড়ে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী। বারান্দার দুই পাশে মেঝেতে আছে শতাধিক ডায়রিয়া আক্রান্ত নারী-পুরুষ ও শিশু। ১০ শয্যার ডায়রিয়া ওয়ার্ডের সামনে থেকে শুরু করে পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ড ও পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডের বারান্দার মেঝের দুই সারিতে শুয়ে আছেন ডায়রিয়া রোগী। কেউ কেউ জায়গা না পেয়ে রোগী আনা নেয়ার ট্রলিতে থেকেই নিচ্ছেন চিকিৎসা। রোগী ও স্বজনদের ভিড়ে হাসপাতালের বারন্দায় সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। আর এ অতিরিক্ত রোগীর সেবা দিচ্ছেন মাত্র দুই জন নার্স। একসঙ্গে এত রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের পরিসংখ্যান দপ্তরসূত্র জানিয়েছে, চলতি মাসে ২০ দিনে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে ৩ হাজার ৬৩৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত সাত দিনে ভর্তি হয়েছেন ৭০৪ জন। আর গত ২৪ ঘন্টায় ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ১৫২ জন রোগী।

হাসপাতালের ভর্তি হওয়া রোগীর স্বজন সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা বশির জমাদ্দার জানান, তার দুই নাতিন লাইজু  (১৫) ও ফারবিন (১০) দুই দিন ধরে বমি ও পাতলা পায়খানায় ভুগছে। বাড়িতে অবস্থার অবনতি হলে তাদেরকে হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হয়। তবে সিট  সংকটের কারণে ডায়রিয়া ওয়ার্ডের সামনের মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

একই কথা জানান শিবপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো:মহিউদ্দিন মাস্টার জানান  তার মেয়ে মেহেরিন মিসবা গত ৫ দিন ধরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। প্রথমে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কিন্তু এখানে সিট না পেয়ে হাসপাতালের বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন তারা

ভোলা সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স জাকিনুর জানান, হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এত রোগীকে চিকিৎসা দিতে প্রতি শিফটে মাত্র দুই জন নার্স দেয়া হয়। দুই জন নার্স নতুন রোগী ভর্তি, তাদের ওষুধ, স্যালাইন ও ইনজেকশন পুশ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়াও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বেড কম থাকায় রোগীদের বারান্দার মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: সিরাজুল ইসলাম জানান, ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ জন রোগী সদর হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। বাড়তি রোগীর চাপ সামাল দিতে ডায়রিয়া ও করোনা ওয়ার্ডের জন্য আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন আরো ১০ জন নার্স সদর হাসপাতালে পদায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি ডায়রিয়া পরিস্থিতি সামাল দিতে ১০ হাজার ব্যাগ স্যালাইন আনা হয়েছে। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে আরো ৪ হাজার ব্যাগের চাহিদা দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

ভোলার সিভিল সার্জন ডা. সৈয়দ রেজাউল ইসলাম বলেন, ডায়রিয়া রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ-স্যালাইল সরবরাহ রয়েছে। তবে রোগী বেড়ে যাওয়ায় আইভি স্যালাইন স্বপ্লতা দেখা দিতে পারে। গরমের কারণে ডায়রিয়া বেড়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে ডাক্তার ও নার্স পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

One response to “ভোলায় গত এক মাস ধরে ক্রমেই বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ,”

  1. Dan Helmer says:

    … [Trackback]

    […] There you can find 47285 additional Information to that Topic: doinikdak.com/news/8477 […]

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x