ঢাকা, শনিবার ২২ জুন ২০২৪, ১০:০৫ পূর্বাহ্ন
কপিলমুনিতে কপোতাক্ষ নদের ওপর বাঁশের সাঁকো, ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার
Reporter Name

মোঃ মনিরুল ইসলাম, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: মাইকেল মধুসূধন দত্তের কপোতাক্ষ নদের তালার কানাইদিয়া খেয়াঘাটের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো পারাপারের একমাত্র ভরসা। বাঁশের সাঁকোটি এখন রীতিমতো মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সাঁকো পার হতে গেলে থর থর করে কাঁপে। সাঁকো দোলার তালে তালে বুক ধড়ফড় করে। কখন যে সাঁকোর বাঁশ হুড়মুড় করে ভেঙে পড়বে! তবে আশা আছে মনে, একদিন এখানে একটি ব্রীজ হবে। এভাবেই দুর্ভোগ ও আশার কথা জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

পাইকগাছার কপিলমুনি ও তালা সীমান্তে কানাইদিয়া কপোতাক্ষ নদের উপর অবস্থিত ঝুকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোই দু’পারের হাজার হাজার মানুষের পারাপারের একমাত্র অবলম্বন। দুই উপজেলার দুইজন সংসদ সদস্যের কাছে কপিলমুনি-কানাইদিয়া এলাকাবাসীর দাবী এখানে একটা ব্রীজ নির্মানের ব্যবস্থা করলে জনগনের ভোগান্তি লাঘব হবে। খুলনা জেলার পাইকগাছা ও সাতক্ষীরার তালা উপজেলার সীমান্ত এলাকার নাম কপিলমুনি ও কানানাইদিয়া।

এ সীমান্তে অবস্থিত কপোতাক্ষ নদের উপর প্রায় ১৫ বছর আগে দু’পারের লোকেরা যৌথভাবে বাঁশ দিয়ে সাঁকো নির্মান করেন। নদটি প্রবহমান থাকা কালে এখানে খেয়াঘাট ছিল। পরে কপোতাক্ষ নদটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় নৌ চলাচল এক সময় সম্পুর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এক পর্যায়ে সরকার কপোতাক্ষ নদটি খনন করে। ফলে নদে আবার জোয়ার ভাটা শুরু হয়। দু’পারের লোকদের দাবীর প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এ্যাড. নূরুল হক কপিলমুনি বাজারের উপর দিয়ে ব্রীজ নির্মানের উদ্যোগ নেয়। নির্মান করে অনেকগুলো পিলার।

যা আদালতে মামলার কারনে কোন অগ্রগতি হয়নি। তবে খেয়াঘাট যথারীতি চালু রেঁখে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করছে। তালা উপজেলার জালালপুর ও খেশরা ইউনিয়নের ১৯ টি গ্রামে হাজার হাজার লোক এ ব্রীজ দিয়ে প্রতিনিয়ত ব্যবসা ও কাজের জন্য পাইকগাছা কপিলমুনি বাজারে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হয়। পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ও হরিঢালী ইউনিয়নের লোক পারাপারের কারণে বর্তমান সাঁকোটি খুবই ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা এখানে একটি ব্রীজ নির্মানের জন্য তালা-কলোরোয়া ও পাইকগাছা-কয়রার সংসদ সদস্যের কাছে দীর্ঘদিন ধরে দাবী জানিয়ে আসছেন।

খুলনা জেলার পাইকগাছার অন্যতম বানিজ্যিক শহর বলা হয় কপিলমুনির বিনোদগঞ্জকে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকারী কাঁচা মালামাল বিকিকিনি করতে দেখা যায়। যা দেশ বিদেশে রপ্তানি করা হয় বলে জানা যায়। একারনে এর আরো গুরুত্ব বহন করছে। কপিলমুনি ইউপি চেয়াম্যান কওছার আলী জোয়াদ্দার জানান, এ খেয়াঘাটটি খুবই ব্যস্ততম একটা ঘাট। দু’পারের লোকদের যাতায়তের জন্য কপোতাক্ষ নদের উপর ব্রীজ নির্মানের কোন বিকল্প হতে পারে না।

এ ব্যাপারে জালালপুর ইউপি চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটু বলেন, উপজেলা বিস্তীর্ণ জনপদের মানুষের নদী পারাপারে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁকোটি দিয়ে পার হতে হয়। ইউনিয়নের মানুষের দূর্ভোগলাঘবে এখানে ব্রীজ নির্মান জরুরি। কয়েকবার জরিপও হয়েছে। কিন্তু কার্যকর হয়নি। জনদূর্ভোগ লাঘবে দ্রুত কানাইদিয়া-কপিলমুনি কপোতাক্ষ নদের উপর ব্রীজ নির্মানের জোর দাবি জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x