ঢাকা, রবিবার ২৬ মে ২০২৪, ১২:৪৫ অপরাহ্ন
পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে চাকরির নামে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ
নুরুল ইসলাম খান :

পাবনার ঈশ্বরদীতে ‘টাকা দিয়েও চাকরি না পেয়ে’ ঈশ্বরদীর ভাষা শহীদ বিদ্যা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক মুক্তার হোসেনের শাস্তি দাবী করে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করেছেন এক ভুক্তভোগী। টাকা ফেরতসহ শাস্তির দাবিতে তাঁর সঙ্গে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছেন এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার দুপুরে তিনি জানান, অভিযোগপত্র জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ঈশ্বরদী শাখাকেও দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার সকালে রাজু আহমেদ লিখিতভাবে এ অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ে জমা দেন। পরে বিদ্যা নিকেতনের (উচ্চ বিদ্যালয়) সামনে গ্রামবাসীসহ মানববন্ধন করা হয়।
রাজুর লিখিত অভিযোগ ও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঈশ্বরদীর সলিমপুর ইউনিয়নের চরমিরকামারির ভাষা শহীদ বিদ্যানিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ে সৃষ্ট তিন পদে (নিরাপত্তা কর্মী, আয়া ও অফিস সহায়ক) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে চর মিরকামারি গ্রামের ছইম উদ্দিনের ছেলে রাজু আহমেদ নিরাপত্তাকর্মী পদে নিয়োগ লাভের জন্য দরখাস্ত করেন। একই সঙ্গে নিয়োগ পাওয়ার আশায় গোপনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে রাজুর নিয়োগের আগে ৩ লাখ টাকা ও নিয়োগপত্র পাওয়ার পর আরো ২ লাখ টাকার চুক্তি হয়। সেই চুক্তিতে চাকরি প্রত্যাশী রাজু আহমেদ গত ২৫ আগস্ট সন্ধ্যার পর ভাই জিয়াউল ইসলাম ও শহিদুল্লাহ সরদারকে সঙ্গে নিয়ে প্রধান শিক্ষক মুক্তার হোসেনের বাড়ি গিয়ে তিন লাখ টাকা দিয়ে আসেন।
অভিযোগে আরও জানা যায়, এরপর ২ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নির্ধারিত লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাও দেন রাজু। কিন্তু নিয়োগ কমিটি নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের নাম ঘোষণা করলে সেখানে রাজুর নাম ছিল না। এরপর রাজু টাকা ফেরত চাইলেও প্রধান শিক্ষক কোনো টাকা ফেরত দেননি।
রাজু আহমেদের ভাই জিয়াউল ইসলাম জানান, বেকার ছোট ভাইয়ের কর্মসংস্থানের জন্য ভাষা শহীদ বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক মুক্তার হোসেনের দাবিকৃত পাঁচ লাখের মধ্যে তিন লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নিয়োগ কমিটিকে ম্যানেজ করে রাজুকে নিয়োগ দিতে পারেনি প্রধান শিক্ষক মুক্তার। ঘুষ নেয়া তিন লাখ টাকাও ফেরত দেননি। প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার নামে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এ জন্য প্রধান শিক্ষকের শাস্তি দাবি করছি।
মানববন্ধনে স্থানীয় নাজমুল হোসেন জানান, মুক্তার হোসেন ইতিপূর্বে নিজেই ১৩ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ নিয়েছেন। সেই টাকা তুলতেই তিনি এ ধরনের প্রতারণা করেছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির ঈশ্বরদী শাখার সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান রবি ফোনে জানান, প্রধান শিক্ষক মুক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে চাকরি দিতে টাকা নেয়ার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে সমিতির গঠনতন্ত্র অনুসারে পদক্ষেপ নেয়া হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আক্তার জানান, ভাষা শহীদ বিদ্যানিকেতনে শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষক মুক্তার হোসেন টাকা নিলে ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে জানতে ভাষা শহীদ বিদ্যানিকেতন পরিচালনা কমিটির সভাপতি শহীদ হাসান লিন এর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে কয়েকবার ফোন দিয়ে ও খুদে বার্তা পাঠিয়েও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভাষা শহীদ বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক মুক্তার হোসেন ফোনে জানান, নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দেওয়ার নামে রাজু আহমেদ থেকে কোনো টাকা তিনি নেননি। তার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হচ্ছে।
তবে ইতিপূর্বে নিজে ১৩ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে প্রধান শিক্ষক হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তার হোসেন জানান, অতীত নিয়ে কোনো কথা নয়, আমরা বর্তমান নিয়ে থাকি বলে মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

4 responses to “পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে চাকরির নামে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ”

  1. … [Trackback]

    […] Read More here on that Topic: doinikdak.com/news/55846 […]

  2. … [Trackback]

    […] Find More on that Topic: doinikdak.com/news/55846 […]

  3. … [Trackback]

    […] Here you will find 2053 more Info on that Topic: doinikdak.com/news/55846 […]

  4. … [Trackback]

    […] Here you will find 4462 more Information to that Topic: doinikdak.com/news/55846 […]

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x