ঢাকা, বুধবার ২৯ জুন ২০২২, ১০:৩৮ অপরাহ্ন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাস্থ্যবিধি মানতে মনিটরিং টিম গঠনের নির্দেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের
দৈনিক ডাক অনলাইন ডেস্ক

দীর্ঘ ১৭ মাস পর আগামী ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারের দেওয়া স্বাস্থ্যবিধির নির্দেশনা পালন নিশ্চিত করতে ও সঠিকভাবে অনুসরণের জন্য মনিটরিং টিম গঠনের জন্য নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত একটি আদেশ প্রকাশিত হয়েছে।

আদেশে বলা হয়, করোনা পরিস্থিতিতে দেশের সব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সে বিবেচনায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন মাঠপর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে অধিদপ্তর থেকে পাঠানো কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিবেচনায় জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালুকরণ সংক্রান্ত নির্দেশনা ও কার্যক্রমগুলো যথাযথ ও সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে মেনে চলা এবং তা অনুসরণের জন্য একটি মনিটরিং টিম গঠনের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হলো।

এর আগে মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে বেশকিছু শর্ত দেয়। সেখানে বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ কখন এবং কীভাবে পুনরায় চালু করা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় যেসব বিষয় বিবেচনা করতে হবে তা হলো-

সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক/কর্মচারী ও সমাজের মঙ্গল এবং স্বাস্থ্য নিশ্চিত করে তাদের সব প্রকারের ঝুঁকি কমানোর যথাযথ ব্যবস্থাপনা করা, স্কুল বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা যেসব ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এবং তাদের যে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে তা কমানোর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এলাকায় কোভিড-১৯ রোগের পরবর্তী সংক্রমণ রোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

সরকার যদি স্কুল এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় খুলে দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন সেক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা আবশ্যক বলে জানিয়েছে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। সেগুলো হলো-

১. নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মেনে চলে, প্রি-স্কুল ব্যতীত সব স্কুল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ পুনরায় খুলে দেওয়া যেতে পারে।

২. সব স্কুল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে সবার মাস্ক পরা নিশ্চিত করা এবং ব্যত্যয় হলে সে ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কেন্দ্রীয়ভাবে সব শিক্ষার্থীর জন্য উপযুক্ত মানসম্পন্ন এবং সঠিক মাপের মাস্কের ব্যবস্থা ও বিতরণ করা। একই সঙ্গে অন্যান্য জনস্বাস্থ্য পদক্ষেপসমূহ, যেমন হাত পরিষ্কার রাখা (হাত ধোয়া/ হাত জীবাণুমুক্তকরণ স্টেশন স্থাপন করা) এবং সাধারণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মেনে চলা।

৩. স্কুল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে কমপক্ষে ৮০ শতাংশ শিক্ষক এবং কর্মচারীদের কোভিড-১৯ এর টিকা নেওয়া থাকতে হবে এবং তারা দ্বিতীয় ডোজের ১৪ দিন পার হওয়ার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন। তবে ক্ষেত্র বিশেষে প্রথম ডোজের ১৪ দিন পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগদানের অনুমতি প্রদান করা যেতে পারে।

৪. উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে ১৮ বছরের অধিক বয়সী শিক্ষার্থীদের দ্রুত টিকা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

৫. শ্রেণিকক্ষে এবং শিক্ষাপ্রিতিষ্ঠানসমূহে সমাগম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য নির্দিষ্ট ক্লাস কোনটি সপ্তাহের কোনদিন হবে তা বিভক্ত করে দেওয়া যেতে পারে। যেমন, প্রথমদিকে পরীক্ষার্থীদের ক্লাস প্রতিদিন খোলা রাখা ছাড়া, বাকি সকল ক্লাস সপ্তাহের ১-২ দিন খোলা রাখা। এতে একটি নির্দিষ্ট দিনে যেই ক্লাসটি খোলা থাকবে তার শিক্ষার্থীরা অন্যান্য খালি শ্রেণিকক্ষগুলো ব্যবহার করে তাতে নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে বসতে পারবে।

৬. আবাসিক সুবিধা সংবলিত স্কুল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিম্নোক্ত পরামর্শসমূহ মেনে চলা (মাদ্রাসাসহ):

ক. সব সমাবেশ স্থানসমূহ (ক্যাফেটেরিয়া, ডাইনিং, টিভি/স্পোর্টস রুম, ইত্যাদি) বন্ধ রাখা- রান্নাঘর থেকে রুমসমূহে সরাসরি খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা থাকা।

খ. একাধিক শিক্ষার্থী একই বিছানা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা।

গ. মাদ্রাসায় একসঙ্গে নামাজ, সমাবেশ ইত্যাদির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনে চলা।

৭. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় খুলে দেওয়ার পূর্বে ”করণীয়” এবং ”বর্জনীয়” কাজ সম্পর্কে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মচারীদের একটি ওরিয়েন্টেশনের মাধ্যমে সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়া। এই ওরিয়েন্টেশন সীমিত উপস্থিতি ও নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে সশরীরে আয়োজন করা তবে  প্রয়োজনে অনলাইন সেশনের মাধ্যমে নেওয়া। এ সংক্রান্ত তথ্যসংবলিত লিফলেট তৈরি এবং বিতরণ করা এবং ”করণীয়” এবং ”বর্জনীয়” বিষয়গুলো মিডিয়া এবং স্থানীয় ক্যাবল-লাইনের মাধ্যমে প্রচার করা যেতে পারে। যেসব শিক্ষার্থীর কোভিড-১৯ এর লক্ষণ থাকবে তাদের বাড়িতে কোয়ারেন্টাইন/আইসোলেশন এবং কোয়ারেন্টাইন/আইসোলেশন থাকাকালীন তাদের চিকিৎসার জন্য নির্দেশনা এই ওরিয়েন্টেশনে থাকতে হবে। যেসব শিক্ষার্থীর রোগের লক্ষণ পাওয়া যাবে অথবা তাদের পরিবারের কারও এ রকম লক্ষণ থাকবে অথবা কোভিড-১৯ রোগ পাওয়া যাবে তাদের অনুপস্থিত গণ্য না করে ১৪ দিন বড়িতে থাকার অনুমতি দিতে হবে।

৮. স্কুল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য কর্মচারীদের মধ্যে সংক্রমণ পর্যবেক্ষণ এবং দৈনিক রিপোর্ট করতে হবে। নির্বাচিত কিছু স্কুল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য কর্মচারীদের নমুনা পরীক্ষা এবং সার্ভিল্যান্সের প্রোটোকল তৈরি এবং বাস্তবায়ন করতে হবে। যেসব জেলায় আরটিপিসিআর ল্যাব আছে সেসব জেলার স্কুল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই সার্ভিল্যান্সের জন্য নির্বাচন করা যেতে পারে। যেসব জেলায় সংক্রমণের হার ২০ শতাংশের বেশি সেই জেলাগুলোতে আরও নিবিড় সার্ভিল্যান্সের ব্যবস্থা করা।

৯. সব বিধিনিষেধ সুষ্ঠু পালন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে মনিটরিং টিম গঠন করে দৈনিক মনিটরিং করতে হবে।

7 responses to “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাস্থ্যবিধি মানতে মনিটরিং টিম গঠনের নির্দেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের”

  1. nova88 says:

    … [Trackback]

    […] Information on that Topic: doinikdak.com/news/55818 […]

  2. … [Trackback]

    […] Find More Info here to that Topic: doinikdak.com/news/55818 […]

  3. Pgslot says:

    … [Trackback]

    […] Information to that Topic: doinikdak.com/news/55818 […]

  4. … [Trackback]

    […] There you can find 60280 additional Info to that Topic: doinikdak.com/news/55818 […]

  5. … [Trackback]

    […] There you will find 13689 more Info on that Topic: doinikdak.com/news/55818 […]

  6. … [Trackback]

    […] Read More Information here on that Topic: doinikdak.com/news/55818 […]

  7. … [Trackback]

    […] Find More on to that Topic: doinikdak.com/news/55818 […]

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x