ঢাকা, শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৩২ অপরাহ্ন
যে দুইয়ের অবস্থান দ্বীনের ক্ষতি বৃদ্ধি করে
লেখক: আবদুর রশীদ

মহান আল্লাহ তা’য়ালা মানবজাতির জন্য পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা নাযিল করেছেন যাতে মানুষ তার গন্তব্যকে জাহান্নাম বানিয়ে না নেই ৷ তিনি এমন এক জীবন ব্যবস্থা পাঠিয়েছেন যাতে কোনোরূপ সন্দেহের অবকাশ রাখেনি ৷ মানুষের এমন কোনো বিষয় নেই যার সমাধান এতে বিবৃতি করেনি ৷ মানুষ যখন ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত হন, তখন মহান আল্লাহ তা’য়ালা পরিপূর্ণ জীবন-বিধান দিয়ে সমগ্র মানবজাতির জন্য রাসূল(স:)-কে পাঠান ৷ অতএব, যারা এই দ্বীনকে ছেড়ে অন্য কিছুতে শান্তি খোঁজার চেষ্টা করবে, তারা হবে সবচেয়ে অশান্তির লাকড়ি ৷ মহান আল্লাহ তা’য়ালা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহর নিকট দ্বীন হচ্ছে ইসলাম ৷’ (সূরা ইমরান: ১৯) অন্যত্রে ইরশাদ করেন, ‘আর যে ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দ্বীন চায় তবে তার কাছ থেকে তা কখনো গ্রহণ করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে ৷’ (সূরা ইমরান: ৮৫)

ইসলামের সত্যতা ও সৌন্দর্য মানুষের নিকট পৌঁছাতে যুগে যুগে বিখ্যাত মনীষীগণ ইসলামের খেদমত করেছেন ৷ মিথ্যার ছলনা দূরীকরণে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গেছেন ৷ ইসলামের মধ্যে কোনোরূপ বিদ’আতের সৃষ্টি না হওয়ার জন্য অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করেছেন ৷ মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে ইসলামের শত্রুদের সাথে জান এবং মাল দিয়ে লড়াই করেছেন ৷ একই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রতিটি মুসলিমের ওপর এই কর্তব্য অর্পিত হয়েছে ৷ অথচ বর্তমান বেশিরভাগ নামধারী মুসলিমই এই মহান দ্বীনের ক্ষতি বৃদ্ধিতে সর্বাধিক অগ্রগামী ৷ যে দুইয়ের কারণে ইসলামের ক্ষতি বৃদ্ধি পাচ্ছে তা হল— ক. বিদ’আত সৃষ্টি, খ. মুনাফেকি আচরণ ৷

আল্লাহ তা’য়ালা যা নাযিল করেছেন এবং রাসূল (স:)-এর মুখনিঃসৃত বাণী থেকে যা প্রকাশ পেয়েছে তা ইসলামে চুড়ান্ত হিসেবে স্বীকৃত ৷ এতে নতুন কোনো কিছু যুক্ত কিংবা বাদ দেওয়ার অবকাশ নেই ৷ দূর্ভাগ্যবশত, বর্তমান পরিস্থিতির দিকে লক্ষ্য করলে প্রতীয়মান হয় যে, দ্বীনের নব আবিস্কার এক বিরাট অংশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ৷ সমাজে বিভিন্ন সংস্কৃতি প্রচলিত যা প্রায়ই ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত ৷ যখন একটি বিদ’আত চালু হয়, তখন একটি সুন্নাতের বিলুপ্তি ঘটে ৷ সমাজে এত বেশি বিদ’আতের প্রচলন দেখা যায়, যা ইসলামের ক্ষতি সাধনে সবচেয়ে বেশি ভুমিকা রাখে ৷ যত প্রকার বিদ’আত রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে নেক সুরতে থাকা বিদ’আতসমূহ ৷ ফলে মানুষ বুঝতেই পারে না যে, কাজগুলো ইসলামে অনুমোদিত কিংবা নিষিদ্ধ কিনা ৷ তাই, সমাজের যাবতীয় বিদ’আত নির্মূল করার লক্ষ্যে বড় ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন ৷ যদি সমাজে সুন্নাত প্রতিষ্ঠা করা যায়, তাহলে কোনো বিদ’আতের অস্তিত্ব বিদ্যমান থাকবে না ৷ বিদ’আত সৃষ্টির পরিণামের কথা বর্ণনা করে রাসূল (স:) ইরশাদ করেন- প্রত্যেক নতুন উদ্ভাবিত বিষয়বস্তু (দ্বীনের ক্ষেত্রে) হল বিদ’আত এবং প্রত্যেক বিদ’আত পথভ্রষ্টতা এবং প্রত্যেক পথভ্রষ্টতার পরিণতি জাহান্নাম ৷” (তিরমিযী :২৬৭৬; আবু দাউদ:৪৬০৭; সুনানে নাসাঈ:১/২২৪; সহীহ বুখারি:৩/১৬৭/২৬৯৭)

অপরদিকে দেখা যায় যে, ইসলামের প্রকাশ্য শত্রুগণ (কাফির ও মুশরিক) যে পরিমাণ ইসলামের ক্ষতি করে যাচ্ছে, এর চাইতেও বেশি ক্ষতি করছে নামধারী মুসলিম মুনাফিকগণ ৷ সাধারণত মুসলিম পরিচয় বহনের কারণে প্রকৃত অর্থে তাদের বুঝা সম্ভব হয় না ৷ এ প্রকৃতির মানুষেরা বর্তমান ইসলামের ক্ষতি বৃদ্ধি করে চলছে ৷ গোপনে ইসলামকে ক্ষতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং প্রকাশ্যে মুসলিমের পরিচয় নিয়ে ভালো সেজে থাকছে ৷ কাফির ও মুশরিক কর্তৃক কোনো অনৈসলামিক কিংবা ইসলাম বিরোধী কর্ম সংঘটিত হলে সাথে সাথে মুসলিম বিশ্ব তার প্রতিবাদ জানায় ৷ কারণ তারা আমাদের কাছে স্পষ্ট বেঈমান হিসেবে পরিচিত ৷ কিন্তু মুনাফিকগণ মুসলিম পরিচয়ের আড়ালে ইসলামের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে ৷ ফলে এদের মুনাফেকি আচরণ ইসলামের ক্ষতি সাধনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করে ৷ এমন প্রকৃতির মানুষগুলো সামান্য কিছুর বিনিময়ে নিজেদেরকে বিক্রি করে দেয় বাতিলের কাছে ৷ বর্তমান এই মানুষগুলোর অবস্থানই সবচেয়ে বেশি ৷ পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘হে নবী, কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ কর এবং তাদের ওপর কঠোর হও, আর তাদের ঠিকানা হল জাহান্নাম; আর তা কতইনা নিকৃষ্ট স্থান ৷’ (সূরা তাওবাহ: ৭৩) অন্যত্রে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয় মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে ৷ আর তুমি কখনও তাদের জন্য কোন সাহায্যকারী পাবে না ৷’ (সূরা নিসা: ১৪৫)

সুতরাং, আমাদের উচিত সমাজের প্রচলিত বিদ’আতের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং নিজেদের মধ্য থেকে মুনাফেকি আচরণ পরিহার করে মুনাফেকির ভয়াবহতা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে মুনাফিকদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়া ৷ আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের দ্বীনকে যাবতীয় বিদ’আত মুক্ত ও মুনাফিকদের কবল থেকে পবিত্র রাখার এবং ইসলামের মর্যাদা অটুট রাখার তৌফিক দান করুক ৷ আমিন !

 

লেখক:
শিক্ষার্থী, সরকারি সিটি কলেজ চট্টগ্রাম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x