ঢাকা, রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২, ০৫:৪৮ অপরাহ্ন
অটোরিক্সার দখলে সড়ক, ঘটছে দুর্ঘটনা
Reporter Name
নওগাঁর ধামইরহাটে উপজেলার পুরো সড়ক জুড়ে বেপরোয়া ভাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যাটারি চালিত ভ্যান ও ইজিবাইক। প্রধান সড়ক ছাপিয়ে গ্রামের  অলিগলিতে চলছে এসব যানবাহন। সহজলভ্যতার কারণে  এসব যাবাহনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় নিত্য যানজটসহ দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
সরোজমিন ঘুড়ে দেখা গেছে মঙ্গলবাড়ি বাজার, আমাইতাড়া মোড়সহ উপজেলার ব্যস্ততম নিমতলী থেকে নওগাঁ, জয়পুরহাট জেলায় যাবার একমাত্র অঞ্চলিক মহাসড়কের উপরে যত্রতত্র ওইসব গাড়ি স্থায়ী ভাবে পার্কিং করে যাত্রী ওঠা নামা করা হয়। এতে সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়ে প্রায় প্রতিদিন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে মোটরসাইকেল, যাত্রীবাহি বাস, ট্রাক, ভুটভুটি, কাঁকড়া, ভ্যানসহ পথচারী। তাছাড়া এসব যানবাহনে ফগ লাইট লাগানোর ফলে, রাতের বেলা অপরদিক থেকে আসা কোন গাড়ি পাসিং করার সময় সামনের কোন কিছু দেখতে না পাওয়ায় প্রায় সময় ঘটছে দুর্ঘটনা।
দেখা গেছে গ্রামের সাধারণ মানুষ জমি বিক্রি বা বর্গা রেখে, আবার কেউ কেউ এনজিও থেকে বিভিন্ন মেয়াদি ঋণ নিয়ে এসব যানবাহন কিনছেন। ইজিবাইক গুলো বাজারে কিনতে সহজলভ্য হওয়ায় রাতারাতি যে কেউ হয়ে যাচ্ছেন চালক। অধিকাংশ চালক তরুণ ও অনভিজ্ঞসহ এদের কারোরই নেই পুর্বের গাড়ি চালানোর কোন অভিজ্ঞতা বা ড্রাইভিং লাইসেন্স। চালক তরুণ ও অনভিজ্ঞ হওয়ায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে প্রতিদিন সড়কে ঘটছে দুর্ঘটনা। অকালে ঝড়ছে তাজা প্রাণ ।
অন্যদিকে উপজেলার আমাইতাড়া বাজার, মঙ্গলবাড়িসহ ফতেপুর বাজারে রয়েছে ব্যাটারি চালিত ভ্যান-রিক্সা তৈরির ওয়ার্কসপসহ ছোট-বড় বেশ কয়েকটি অবৈধ স্যালো ইঞ্জিন চালিত যানবাহন তৈরির কারখানা। কিন্তু এসব কারখানায় যানবাহন তৈরির সরকারি কোনো অনুমতি নেই। নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র।
উপজেলা অটোরিক্সা শ্রমিকলীগ (রেজিনং বি-২০৪৪) সভাপতি মো. ছাকোয়াদ হোসেন বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ’উপজেলায় ২শ ৫০ থেকে ৩শ অটোরিক্সা (ইজিবাইক) চলাচল করে। আমাদের আলাদা গাড়ি পাকিং এর ব্যাবস্থা না থাকাসহ জায়গা সংকীর্ণতার কারণে অনেক সময় রাস্তায় যাত্রী ওঠানামা করাতে হয়’।
স্থানীয় কাপড় ব্যাসায়ী মো. শাহীন বলেন, ’আমার দোকানের সামনেই ওরা গাড়ি গুলো পার্কিং করে রাখে। কাষ্টমাররা দোকানে আসতে পারেনা’।
এ বিষয়ে উপজেলা রিক্সা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন রাজ রেজিনং-১৩৬২ সভাপতি মো. রফিক উদ্দিন বলেন, ধামইরহাটে রিক্সা-ভ্যানের জন্য আলাদা কোন স্ট্যান্ড নেই রাস্তার ফুটপাতে দোকানপাট থাকার কারণে বাধ্য হয়ে আমাদের ভ্যান গুলো রাস্তার উপরেই রাখতে হয়।
উপজেলা শ্রমিকলীগ সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ’বিশেষ করে আমাদের নিমতলী বাজারসহ মঙ্গলবাড়ি বাজারের প্রধান রাস্তা অনেক সরু। এসব রাস্তার কাছাকাছি ফুটপাতে দোকান ঘড় গড়ে ওঠায় অমাদের গাড়ি গুলো পার্কিং করতে পারেনা। এর আগে দুই তিনবার চালকদের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এবারও ওদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ইউএনও মহোদয় ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহোদয়কে অনুরোধ করা হয়েছে’।
পৌর মেয়র আমিনুর রহমান এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ব্যটারি চালিত এসব অটো ভ্যান-রিক্সার কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ এখন রাস্তায় চলাচল করতে ভয় পায়। সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ ও সুশীল সমাজকে সাথে নিয়ে দ্রুত ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গনপতি রায় বলেন,  ইতিমধ্যেই একটা প্রজেক্টের মাধ্যমে সকল চালকদের ট্রেনিংয়ের ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব চালকদের ট্রেনিং দেওয়া হলে আশা করছি সড়ক দূর্টনা অনেকটাই কমে আসবে। আর পার্কিং এর বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে সমাধান করা হবে’।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x