ঢাকা, সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০৭:০৪ অপরাহ্ন
দশমিনায় আউশ ধানের বাম্পার ফলন
সঞ্জয় ব্যানার্জী, দশমিনা (পটুয়াখালী

পটুয়াখালীর দশমিনায় আউশ ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। এবার আউশের ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আউশ চাষে আগ্রহ বেড়েছে। উপজেলার কৃষকরা উচ্চ ফলনশীল জাতের ব্রি-৪২, ব্রি-৪৮ ও নতুন ব্রি-৮২ আউশ ধান চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। এসব জাতের আউশ ধান চাষে ব্যাপকভাবে সফল হয়েছেন উপজেলার কৃষকরা।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ২ হাজার ৬শ’ ১০ হেক্টর জমিতে আউশ ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। তাতে উপজেলায় ৮ হাজার ৮শ’ ৪০ মেট্রিক টন আউশ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্রে আরও জানান, রবি মৌসুমে মুগডালসহ অন্যান্য রবিশস্য ঘরে তোলার পরবর্তী সময়ে রোপা আমন ধান রোপণের পূর্ববর্তী মধ্যবর্তী সময়টুকুতে বেশিরভাগ জমিই পতিত থাকে। এ সময়কালীন আউশ আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, সভা, গ্রæপ মিটিং এবং সরকারি প্রনোদণা বীজ, সার ও কীটনাশক প্রদানের মাধ্যমে কৃষকদের আউশ আবাদে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের তুলনায় চলতি বছর আউশের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়া অনুক‚লে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারদরও ভালো। বর্তমানে প্রতি মণ আউশ ধানের দাম ৯শ’ ৮০ টাকা থেকে ১ হাজার ১শ’ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। এদিকে আউশের বাম্পার ফলন হওয়ায় আউশ চাষে কৃষকরা আগামীতে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর।

সরেজমিন দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেতের আউশ ধানই আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কাটার উপযুক্ত হবে। কিছু কিছু এলাকায় ইতোমধ্যে কাটা শুরু হয়েছে।দশমিনা সদর ইউনিয়নের দশমিনা গ্রামের বাসিন্দা ও ২২নং মধ্যগুলি আউলিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুর রহমান জানান, শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি কৃষিকাজ করা আমার শখ। করোনাকালীন দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় কাজের চাপ কম থাকায় উপজেলা কৃষি অফিসারের পরামর্শ, সার্বিক দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতায় আমি প্রায় দেড় একর জমিতে ব্রি-৪২ প্রজাতির আউশ ধান রোপণ করে সফল হয়েছি এবং অনেক ভালো ফলন হয়েছে। আশা করি আমি অনেক লাভবান হব। উপজেলার আলীপুরা ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামের কৃষক ফোরকান বয়াতী জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনায় আমি দেড় একর জমিতে নতুন প্রজাতির ব্রি-৮২ আউশ ধান চাষ করে সফলতা পেয়েছি। এক সপ্তাহের মধ্যে আমার ধান পাকবে। আমি আগামীতেও এ প্রজাতির আউশ ধানের চাষ করব। উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামের কৃষক শাহ আলম খাঁ জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও উৎসাহে আমরা কয়েকজন কৃষক একত্রে পৌনে ১০ একর জমিতে ব্রি-৪৮ ও নতুন প্রজাতির ব্রি-৮২ আউশ ধান চাষ করেছি। কৃষি অফিস থেকে বীজ ও সার দিয়েছে। তুলনামূলক কম খরচে ভালো ফলন হয়েছে। তারা মাঠে এসে খোঁজখবর নিয়েছে।

দশমিনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাফর আহমেদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ও কৃষিমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী করোনাকালীন কৃষি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এবং সরকারি প্রণোদনা ও মাঠপর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টার ফলে এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। ফলে আউশ চাষে কৃষকরা লাভবান হবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x