ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১, ০২:০০ অপরাহ্ন
চাল আমদানিতে শুল্ক কমল
দৈনিকডাক অনলাইন ডেস্ক

বাজার নিয়ন্ত্রণ রাখতে চাল আমদানির শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনস্বার্থে চালের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ পরিমাণ কমানো হলো। ফলে আমদানি শুল্ক দাঁড়াল ১৫ শতাংশ। আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত আমদানিকারকরা ১৫ শতাংশ হারে শুল্ক দিয়ে সেদ্ধ ও আতপ চাল আমদানি করতে পারবেন। পাশাপাশি চাল আমদানিতে সব ধরনের নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, আমদানির আগে প্রতিটি চালানের জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মনোনীত যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তার কাছ থেকে লিখিত অনুমোদন নিতে হবে। বাসমতি কিংবা সুগন্ধযুক্ত চাল আমদানি পূর্বনির্ধারিত অর্থাৎ ২৫ শতাংশ শুল্কেই আমদানি করতে হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ভোক্তা ও কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় সরকার চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে সরকারের চালের মজুদ ১৭ লাখ মেট্রিক টন।

চলমান বোরো সংগ্রহ অভিযানে ইতোমধ্যে সাড়ে ৮ লাখ টন চাল সংগ্রহ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চাল সংগ্রহের সময় আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, এর মধ্যেই শতভাগ চাল সংগ্রহ হয়ে যাবে।

 

এসময় খাদ্য গুদামে মানসম্মত চাল সংগ্রহের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, চালের মানের সাথে আপস করা যাবে না।

 

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার আগে দেশে বেসরকারিভাবে চাল আমদানি হতো শূন্য শতাংশ কর আরোপে এবং যে কেউ আমদানি করতে পারতো। এর ফলে বাজারে আমদানিকৃত চালের সরবরাহ বেশি ছিল ফলে দামও কমে গিয়েছিল। এটার ফলে কৃষক কমদামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিল। প্রান্তিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে অন্য ফসলের চাষ শুরু করে।

মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেটি নিশ্চিত করতে এবং আমদানি নিরুৎসাহিত করতে চাল আমদানিতে ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছিল। মূল উদ্দেশ্য ছিল কৃষককে ধান চাষে আবারও আগ্রহী করে তোলা এবং স্থানীয় সংগ্রহের মাধ্যমে খাদ্য মজুত বৃদ্ধি করা। বর্তমান সরকার এখন কৃষকের কাছ থেকে যৌক্তিক দামে ধান সংগ্রহ করায় কৃষক উপকৃত হচ্ছে।

সাধন চন্দ্র মজুমদার অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, দেশে খাদ্য উৎপাদন যেমন বেড়েছে ভোক্তাও তেমনি বেড়েছে। চালের এখন হিউম্যান ও নন হিউম্যান ব্যবহার হচ্ছে। মোটা চালের বেশিরভাগ নন হিউম্যান খাতে ব্যবহার হয় যা সাধারণত হিসাব করা হয় না।

এছাড়াও প্রতিবছর জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিপুল সংখ্যক প্রবাস ফেরত এবং ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাদের জন্য খাদ্যের সংস্থান করতে হচ্ছে ফলে চালের বাজারে চাপ বাড়ছে।

তিনি আরও বলেন, চালের বাজার স্থিতিশীল করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অবৈধ মজুদদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বেসরকারিভাবে চাল আমদানির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। শিগগিরই এর সুফল দৃশ্যমান হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x