ঢাকা, মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন
কুষ্টিয়ায় প্রথম ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত
দৈনিক ডাক অনলাইন ডেস্ক

করোনা মহামারির মধ্যেই কুষ্টিয়ায় এ বছরে প্রথম একজন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তির নাম তরিকুল বারী ওরফে বকুল (৩৫)। বর্তমানে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আশরাফুল আলম ডেঙ্গু রোগীর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বকুল দৌলতপুর উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের আমদহ গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকীর ছেলে। তিনি পেশায় আমদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক।

আবু বক্কর সিদ্দিকী জানান, গত ৫-৭ দিন আগে তার ছেলে জ্বরে আক্রান্ত। জ্বরের সঙ্গে মাথা এবং শরীরে ব্যথা অনুভূত হয়। স্থানীয় চিকিৎসকদের পরামর্শে বকুল ওষুধ সেবন করতে থাকেন। কিন্তু শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। পরে গত ৯ আগস্ট তার ডেঙ্গু পরীক্ষা করালে তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।

পরে তৎক্ষণিকভাব কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বর্তমানে রোগীটি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আশরাফুল আলম জানান, রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি ক্লাসিক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত।

এদিকে দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) একদিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২২৬ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে ডেঙ্গুবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ২২৬ জন ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকায় আক্রান্ত হয়ে ২১১ জন আর ঢাকার বাইরে আক্রান্ত হয়ে ১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট রোগী ভর্তি ৯১৫ জন। ঢাকার ৪১টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ভর্তি রোগী রয়েছেন ৮৫২ জন। অন্যান্য বিভাগে বর্তমানে ভর্তি রোগী রয়েছে ৬৩ জন।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) ডেঙ্গু সন্দেহে ১৮ জনের মৃত্যুর তথ্য পাঠানো হয়েছে। আইইডিসিআর এখনও কোনো মৃত্যুর পর্যালোচনা সমাপ্ত করেনি এবং কোনো মৃত্যু ডেঙ্গু বলে নিশ্চিত করেনি।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত ৪ হাজার ৭৫৩ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৮০৮ রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

ডেঙ্গু প্রকোপের এ সময়ে বাসাবাড়িতে অব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্রে পানি জমতে না দেওয়াসহ দিনে ও রাতে মশারি টানানোর পরামর্শ বিশেজ্ঞদের।

প্রতিবছর বর্ষাকালেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ দেখা দেয়। ২০১৯ সালে দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়েছিল।

দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৩০০ মানুষ প্রাণ হারান। তবে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ১৭৯।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ওই বছর সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x