ঢাকা, শুক্রবার ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০২:৩৭ অপরাহ্ন
মাদরাসার পিয়ন থেকে ভুয়া সার্টিফিকেটে কলেজের অধ্যক্ষ
দৈনিক ডাক অনলাইন ডেস্ক

মাদরাসার পিয়ন থেকে ভুয়া সার্টিফিকেটে বরগুনার আমতলী বকুল নেছা মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ হয়েছেন মো. ফোরকান মিয়া। বিএ পাশের জাল সার্টিফিকেট দিয়ে ১৩ বছর চাকরি করে নিজেই পদত্যাগ করেছিলেন। নতুন পরিচালনা কমিটির সহযোগিতায় আবারও তিনি অধ্যক্ষের চেয়ারে বসেছেন।

মো. ফোরকান মিয়া ছিলেন বরগুনা আলিয়া মাদরাসার পিয়ন। এমন অভিযোগ এনে রোবাবার (২৫ জুলাই) বিকেলে বরগুনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মজিবুর রহমান।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মজিবুর রহমান লিখিত বক্তব্যে বলেন, বকুল নেছা মহিলা ডিগ্রি কলেজের সাবেক তথা কথিত অধ্যক্ষ মো. ফোরকান মিয়া ১৯৯৩ সালে আমতলী ডিগ্রি কলেজ হতে বিএ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে অকৃতকার্য হন। সেই বছরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আমতলী ডিগ্রি কলেজ থেকে বিএ পাশের একখানা সার্টিফিকেট সৃষ্টি করে বরিশাল বিএম কলেজ থেকে এমএ পাশ করেন।

পরে জাল সার্টিফিকেটের বিষয় জানাজানি হলে বকুল নেছা মহিলা ডিগ্রি কলেজের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রণব কুমার সরকার তার বিএ পাশের সার্টিফিকেটের বৈধতা যাচাইর জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৩ সালের ২ অক্টোবর আবেদন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. হিমাদ্রি শেখর চক্রবর্তী ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর বকুল নেছা মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে চিঠি দিয়ে অবহিত করেন। মো. ফোরকান মিয়ার ব্যাচেলর অব আর্টস ১৯৯২ সেকেন্ড ডিভিশন সনদটি জাল।

উক্ত সনদটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অফিস হতে ইস্যু করা হয়নি। এছাড়া আমতলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মজিবর রহমান একই বছর ৩ অক্টোবর একটি প্রত্যয়ন দেন মো. ফোরকান মিয়া, পিতা মো. সেকান্দার আলী হাওলাদার, গ্রাম হুলাটানা, উপজেলা আমতলী, জেলা বরগুনা, ১৯৯০-৯১ শিক্ষাবর্ষে বিএ পাশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে ১৯৯২ সালে অনুষ্ঠিত ১৯৯৩ সালের নিয়মিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সরবরাহকৃত টেবুলেশন শিটে মন্তব্য কলামে তদন্ত স্থগিত লেখা আছে এবং ইসলামের ইতিহাস, ইসলামী শিক্ষা ও সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ের নম্বরের ঘরগুলো খালি দেখা যায়। তার পরীক্ষার রোল নম্বর ৬৫৮ এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৫৩৭৫০।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আরও বলেন, মো. ফোরকান মিয়া জাল সার্টিফিকেট দিয়ে দীর্ঘদিন চাকরি করার পর তিনি ওই কলেজে অধ্যক্ষও হয়েছেন। পরে মো. ফোরকান মিয়া অধ্যক্ষের পদ থেকে ২০১৩ সালের ৩ অক্টোবর লজ্জায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন।

তিনি বলেন, কলেজের গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমি ফোরকান মিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ২৮ জুলাই জাল জালিয়াতির মামলা করি। সেই মামলায় ফোরকান মিয়া জেল-হাজতে যায়। পরবর্তীতে ফোরকান মিয়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থেকে ২০১৬ সালের ১৪ আগস্ট বিএ পাশের একটি সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে। ওই সার্টিফিকেটের বৈধতা যাচাই বাছাইয়ের জন্য আমি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বরাবরে আবেদন করি।

মঞ্জুরি কমিশনের উপপরিচালক জেসমিন পারভিন ২০১৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর এক চিঠিতে আমাকে জানান, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি নামক তথা কথিত প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত নয়।

তিনি বলেন, ফোরকান মিয়া তার বকেয়া বেতন ভাতা পাবার জন্য ও অধ্যক্ষ নিয়োগ স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট ফোরকান মিয়ার স্থলে নতুন করে কোন অধ্যক্ষ নিয়োগ না দেয়ার আদেশ দিয়েছেন। দীর্ঘ ১৩ বছর পর গভর্নিং বডির নতুন অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মাকসুদা আকতার জোসনা ১৯ জুলাই ফোরকান মিয়াকে কলেজে নিয়ে অধ্যক্ষের চেয়ারে বসিয়ে দেয়। সেই থেকে ফোরকান মিয়া কলেজের কার্যক্রম চালায়।

মজিবুর রহমান আরও বলেন, আমি বিস্তারিত জানিয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

বিষয়ে মো. ফোরকান মিয়া আরটিভি নিউজকে বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছেন তা সঠিক নয়। আমি বৈধ অধ্যক্ষ হিসাবে এখন কলেজে কাজ করছি। কিভাবে বিএ পাশ না করে এমএ পাশ করলেন। এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাশ করেছি।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তো বিএ পাশ করা যায় না। এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরটিভি নিউজকে বলেন, আগে করা যেত এখন করা যায় না। ১৯৯৩ সালে তো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম হয়নি। তাহলে আপনি কিভাবে বিএ পাশ করলেন? এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি হননি তিনি।

এদিকে নতুন কমিটির সভাপতি মাকসুদা আকতার জোসনাকে মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলে রিসিভ করেননি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x