ঢাকা, সোমবার ২৪ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন
ফের সরগরম হয়ে উঠেছে বাগেরহাটের কেবি বাজার
বাগেরহাট প্রতিনিধি :

সাগরে মাছ ধরার ৬৫ দিনের অবরোধ (নিষেধাজ্ঞা) শেষে ফের সরগরম হয়ে উঠেছে দক্ষিণা লের বৃহত্তম সামুদ্রিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বাগেরহাটের কেবি বাজার। এদিকে সাগরে মাছ কম পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করছেন জেলে ও ব্যবসায়ীরা।

অবরোধের সময় বাংলাদেশি জেলেরা সাগরে না গেলেও, ভারতীয় জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ থাকে না। আবার বৈরি আবহাওয়ায় মাছ না ধরে ফিরে আসতে হয় জেলেদের। এর কারণে অবরোধের পরে কাক্সিক্ষত মাছ পাওয়া যায় না বলে দাবি করেছেন জেলেরা।

রবিবার (২৫ জুলাই) সকালে বাগেরহাট দড়াটানা নদীর তীরে শহররক্ষা বাঁধ সংলগ্ন কেবি বাজারে জেলে, পাইকার, আড়তদার ও মাছ ক্রেতাদের হাঁকডাক শোনা যায়। কেউ ট্রলার দিয়ে ঝুড়িতে করে মাছ নিয়ে আসছে। কেউ আবার পাইকার ডাকছে, কেউ মাছ ক্রয় করে ফিরছেন গন্তব্যে। বৃহত্তম এই সামুদ্রিক মাছের আড়তে ক্রেতা-বিক্রেতা ও জেলেদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই ছিলো না। কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু হওয়া এই সামুদ্রিক মাছ বিক্রয় কেন্দ্রে প্রতিদিন কোটি টাকার মাছ বিক্রি হয়। এর মধ্যে সব থেকে বেশি বেচা-কেনা হয় ইলিশের। ইলিশের পাশাপাশি কাউয়া, চেলা, ঢেলা, লইট্টা, ভোল, কঙ্কন, কইয়া ভোল, জাবা ভোল, মোচন গাগড়া, মেইদ, টেংড়া, রুপচাঁদা, বোতলসহ প্রায় ৫০ প্রজাতির মাছ বিক্রি হয় এখানে। সাগর থেকে আহরিত কেজি কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১শত টাকা করে। পাঁচশ প্রাম ওজনের প্রতিকেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে পাঁচশ টাকা দরে। ৪ থেকে ৬টায় কেজি মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩শত থেকে ৪শত ৫০ টাকা কেজি দরে। তবে সরাসরি সাগর থেকে আহরিত মাছের পাশাপাশি বিদেশি হিমায়িত মাছও বিক্রি হয় এই হাটে। যার ফলে দেশীয় সামুদ্রিক মাছের কাক্সিক্ষত দাম পায়না বলে দাবি জেলেদের। সাগর থেকে মাছ ধরে কেবি বাজারে বিক্রি করতে আসা জেলে  আব্দুল কাদের খানঁ  বলেন, অবরোধের সময় বাংলাদেশি জেলেরা সাগরে মাছ ধরে না। কিন্তু ভারতীয় বড় বড় ফিসিং ট্রলারগুলো কিন্তু নিয়মিত মাছ ধরে থাকে এই সময়ে। যার ফলে দীর্ঘদিন মাছ আহরণ বন্ধ থাকলেও সেই সুবিধা আমরা পাই না। এবার অবরোধের পরে সাগরে গিয়ে তেমন মাছ পাইনি আমরা।

বাগেরহাট উপক’লীয় মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি শেখ ইদ্রিস আলী বলেন, সামুদ্রিক মাছ আহরণ ও বিক্রির সাথে বাগেরহাটের লক্ষাধিক মানুষ জড়িত। এবার অরোধের পরে জেলেরা সমুদ্রে তেমন মাছ পায়নি। আবার বৈরি আবহাওয়ার কারণে অনেকের ফিরে আসতে হয়েছে। বেশিরবাগ ট্রলার মালিককে এই দফায় লোকসান গুনতে হবে বলে দাবি করেন মৎস্য জীবী সমিতির এই নেতা।

One response to “ফের সরগরম হয়ে উঠেছে বাগেরহাটের কেবি বাজার”

  1. … [Trackback]

    […] Info to that Topic: doinikdak.com/news/40064 […]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x