ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৮ অক্টোবর ২০২১, ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন
গাইবান্ধায় দু:স্থ্যদের মাঝে কোরবানীর মাংস বিতরণ
সুমন কুমার বর্মন, গাইবান্ধা প্রতিনিধি :

‘হামরা বাবা গরীব মানুষ, গোস্ত কিনি খাবার পাইনা, এসকেএস হামাক ২ কেজি গরুর গোসতো দিছে, হামি খুব খুশি! ছোল পোলগুলাক নিয়া মজা করি এই গোসতো আন্দি খামো’ মাংস পেয়ে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া গ্রামের আজিরণ বেওয়া। শুধু আজিরন নয়, ভরতখালী গ্রামের জামিলা বেগমসহ আর অনেকেই খুশি।

গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার চরাঞ্চলসহ নদী ভাঙ্গন, দরিদ্র পীড়িত, প্রতিবন্ধী এবং অসহায় ৩ হাজার ৩২৫ পরিবারের সদস্যদের মাঝে ২ কেজি করে গরুর মাংস বিতরণ করলেন স্থানীয় বেসরকারী সংগঠন এসকেএস ফাউ-েশন। ৯৫টি গরু কোরবানীর মাংস বিতরণে সহযোগিতা করেন ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ।

ঈদ-উল-আজহা’র পরের দিন আজ বৃহস্পতিবার হাট ভরতখালী এসকেএস নূতনকুঁড়ি বিদ্যাপীঠ স্কুল মাঠে সকাল থেকে মাংস বিতরণ করা হয়। ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া, ফুলছড়ি, উদাখালী, উড়িয়া এবং সাঘাটা উপজেলার মুক্তিনগর, সাঘাটা, ভরতখালী, পদুমশহর, কামালেরপাড়া, জুমারবাড়ী, ঘুরিদহ, হলদিয়া ইউনিয়নের মোট ১২টি ইউনিয়নের ৩ হাজার ৩২৫টি পরিবারের সদস্যদের মাঝে প্রতি পরিবারের জন্য ২ কেজি করে মাংস বিতরণ করা হয়।

মাংস বিতরণ অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন এসকেএস ফাউ-েশনের সহকারী পরিচালক ফিল্ড অপারেশন (ডিপি) খন্দকার জাহিদ সরওয়ার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাঘাটা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর কবির। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ প্রতিনিধি মো. সেলিম রেজা, এসকেএস ফাউ-শনের সোশ্যাল এন্টার প্রাইজ সমন্বয়কারী আবু সাঈদ সুমন, ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শামসুল আজাদ শীতল, সাঘাটা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়াম্যান মোশারফ হোসনে সুইট।

কর্মসূচি বাস্তবায়নে সমন্বয়ক আবু সাঈদ সুমন জানান, ‘কোরবানী কর্মসূচি প্রায় ১০ বছরের অধিক সময় ধরে এসকেএস ফাউ-েশন, ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের সহযোগিতায় এলাকার দরিদ্র, নদী ভাঙ্গন, প্রতিবন্ধী, বয়স্ক, নারী প্রধান পরিবার, মাংস ক্রয়ে অক্ষম অসহায় পরিবারের মাঝে প্রতি পরিবারকে ২ কেজি করে মাংস বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন। দরিদ্র পীড়িত মানুষের জন্য এমন মানবিক সহায়তার জন্য ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশকে এসকেএস ফাউ-েশনের পক্ষে কৃতজ্ঞতার সাথে ধন্যবাদ জানাচ্ছি’।

ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ প্রতিনিধি মো. সেলিম রেজা জানান, ৪১টি জেলায় কোরবানির মাংস বিতরণ কর্মসূচি রয়েছে আমাদের। তার মধ্যে ফুলছড়ি ও সাঘাটার ৯৫টি গরু কোরবানি দেওয়া হয়। ৩ হাজার ৩২৫টি পরিবারের মাঝে ২ কেজি করে মাংস বিতরণ করা হচ্ছে। আগামীতে আরও কিভাবে দরিদ্র মানুষদের এর আওতায় আনা যায় সেই চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রধান অতিথি পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর কবির সমকালকে বলেন, ‘প্রতি বছর ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ এবং এসকেএসের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। এলাকার দরিদ্র অসহায় মানুষের মাঝে ঈদের সময় মাংস বিতরণ একটি মানবিক উদ্যোগ। আমি অনুরোধ করবো আগামী দিনে আয়োজনকারী দাতা সংস্থাকে আরও বেশি সংখ্যক পরিবারকে এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভূক্ত করতে ব্যবস্থা নিবেন।

উল্লেখ্য, প্রায় ১০ বছরের অধিক সময় ধরে ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ এবং এসকেএস ফাউ-শন প্রতিবছর ঈদ-উল-আজহার ২য় দিন এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x