ঢাকা, রবিবার ২৯ জানুয়ারী ২০২৩, ০৭:১২ অপরাহ্ন
কারখানার প্রধান ফটকে বালু ফেলে অবরোধ ও দখলের চেষ্টা
মোহাম্মদ ইয়াসিন,সাভার:

সাভারের আশুলিয়ায় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে দেশসেরা নারী উদ্যোক্তা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান পিপলস ফুটওয়্যার এন্ড লেদার গুডস কারখানা দখলের অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সত্ত্বাধিকারিনী রেজবিন হাফিজ। এঘটনায় নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে প্রতারক চক্র কর্তৃক কারখানা দখলে নিজের অসহায়ত্ব ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন এই নারী উদ্যোক্তা। নিজের লাইভে তিনি বলেন, গত মাস থেকে একটি প্রতারক চক্র আমার প্রতিষ্ঠান দখলের পায়তারা করে যাচ্ছে। আমাকে বারবার হামলা করাসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে তারা। ইতিমধ্যে আমার প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে প্রতারক চক্র।

এবিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারস্থ হলে কারখানা দখলের চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়নি আশুলিয়া থানা পুলিশ বলেও লাইভে অভিযোগ করেন এই ভুক্তভোগী নারী উদ্যোক্তা। তিনি আরো বলেন, ফয়সাল হায়দার ও সালমান হায়দার গং প্রতারণা করে আমাকে কারখানা থেকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমি ফ্যাক্টরি বন্ধ না করলে আমাকে মেরে ফেলা হবে বলেও হুমকি দিয়েছে এই বাহিনী। কারখানা উদ্ধার করতে গিয়ে যদি আমার মৃত্যু হয়, তাহলে এর জন্য এই গংরা সম্পূর্ণভাবে দায়ী থাকবে বলেও মনে করেন তিনি।

এ বিষয়ে রেজবিন হাফিজের স্বামী মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান জানান, আমরা জানুয়ারি মাসে আশুলিয়ার শ্রীখন্ডিয়া এলাকার সু মেকার লিমিটেডের নিকট থেকে কিছু মেশিন ক্রয় করি। এক্ষেত্রে মেশিনারিজ ক্রয়ের নীতিমালা পুরোপুরি অনুসরণ করা হয়। কিন্তু সু মেকার লিমিটেড এর মালিক মোহাম্মদ রেজাউল করিমের যৌথ মালিকানাধীন আরেকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কথা আমাদের অজানা ছিল। ফয়সাল হায়দার, সালমান হায়দার, শাহিন ও রেজাউল করিম মিলে বেইরং নিট নামে আরেকটি কারখানা পরিচালনা করে যাচ্ছে। এখন এই চক্র আমাদের পিপলস ফুটওয়্যার এন্ড লেদার গুডস কারখানা দখলের চেষ্টা করে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমাদেরকে কারখানা ছেড়ে দেওয়ার জন্য বারবার হুমকি দেওয়ার পরও আমরা ফ্যাক্টরির কার্যক্রম চালু রাখায় ট্রাকে ভর্তি বালু এনে ১৮ জুলাই রাতে বালু দিয়ে কারখানার প্রবেশপথ বন্ধ করে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা।সন্ত্রাসীদের হুমকি ও হামলার বিষয়ে আশুলিয়া থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ঈদের পর ঘটনাটি মিমাংসা করে দিবে বলেও জানান তিনি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পিপলস ফুটওয়্যার এন্ড লেদার গুডস এর মূল ফটক বালু দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মূল দরজা বন্ধ থাকায় কারখানায় কাজে আসতে পারেননি শ্রমিকরা। নারী ও পুরস্কার প্রাপ্ত উদ্যোক্তাকে হয়রানি ও হুমকির বিষয়ে বাংলাদেশ এসএমই ফোরামের প্রেসিডেন্ট চাষি মামুন বলেন, এভাবে একজন জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত উদ্যোক্তাকে হয়রানি, প্রাণনাশের হুমকি ও বালু দিয়ে কারখানা বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যদি তাদের সাথে এই উদ্যোক্তার কোন ঝামেলা থাকে, তাহলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করতে হবে, কোন সন্ত্রাসী কায়দায় নয়। এভাবে প্রতিনিয়ত উদ্যোক্তরা হয়রানির শিকার হলে আগামিতে নবীন উদ্যোক্তা আশাহত হবে বলেও মনে করেন তিনি। এ বিষয়ে সালমান হায়দার, ফয়সাল হায়দার ও শাহিনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনার বিষয়ে আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জিয়াউল ইসলাম বলেন, উভয় পক্ষই থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি নিয়ে ঈদের পর বসার কথা থাকলেও তার আগেই ঝামেলা বেঁধে যায়। এখন আমরা ঘটনাটি সমাধান করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x