ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৮ অক্টোবর ২০২১, ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন
অভিশপ্ত হাসেম ফুড কারখানায় এখনো গেটে স্বজনদের অপেক্ষা.
অনলাইন ডেস্ক

কিছুটা প্রাণ ফিরেছে অভিশপ্ত হাসেম ফুড কারখানায়। হাজার শ্রমিকের পদচারণা কারখানার গেটে।

বেতন দেয়া হবে এই খবরে জড়ো হয়েছেন তারা। এর মাঝে বেশকিছু স্বজন তাদের হারানো ব্যক্তির খোঁজে কারখানার গেটে এখনো অপেক্ষমাণ। লাশ বলতে কিছু পাবেন না জানা সকলের। তারপরও যদি কিছু পাওয়া কোনো স্মৃতি ধ্বংসাবশেষ কিংবা পোড়া ছাই। সেটাই তাদের কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে পুড়ে যাওয়া লাশগুলোর কয়েকটি থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে।

তাছাড়া মর্গে জায়গা না থাকায় কয়েকটি মৃতদেহ পাঠানো হয়েছে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে। এখন বলা হচ্ছে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হতে পারে এসব পুড়ে যাওয়া মানুষের টুকরোগুলো। এরপর থেকে হাহাকার বেড়ে গেছে স্বজনদের। গেটের সামনে তাদের আহাজারি ভারি করে তুলেছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্যস্ত জনপদ।

হবিগঞ্জের লাখাই থেকে সুমা এসেছেন তার বোনের খোঁজে। তার দাবি ‘লাশ টাকা কিচ্ছু চাই না। আমার বোনের হত্যাকারীদের বিচার চাই’। ভোলার চরফ্যাশন থানার চরনৌলা থেকে মহিউদ্দিনের ভাই সালাউদ্দিন আর শামীমের বাবা  খাইরুল গত ৬ দিন আগেই এসেছেন। একবার ঢাকা আবার রূপগঞ্জে চলছে তাদের ক্লান্তিহীন ছুটাছুটি। রাত কাটান যেখানে সেখানে। কোনো টাকা নয়, তাদের সন্তানের একমুঠো ছাই ভিক্ষে চান তারা। তাদের মতোই মৌলভীবাজারের পরবা বর্মণ তার মেয়ে কম্পা বর্মণের ছাইয়ের জন্য আকুতি তুলছেন গণমাধ্যমকর্মীদর সামনে। যেন ছাইটাকে ভাসাতে পারেন মনু কিংবা ধলাই নদীর স্রোতে।  এদিকে ঘটনার পর কারখানার চেয়ারম্যান আবুল হাসেম দায়ভার গ্রহণ করবেন না বলে জানালে মালিকসহ উপরের সারির কর্মকর্তাগণ গ্রেপ্তারের পর সুর পাল্টেছে হাসেম ফুডের কর্তা ব্যক্তিদের। গতকাল কারখানায় কর্মরত ২ হাজার শ্রমিকের বেতন পরিশোধ করেছেন তারা। বলছেন দেয়া হবে ঈদের বোনাস। অবশ্য এখনো দুই মাসের বাড়তি কর্মঘণ্টার টাকা পাওনা রয়েছে শ্রমিকদের।

হাসেম ফুডস এন্ড বেভারেজ কারখানার ম্যানেজার (এডমিন) ফাতেহ মোজাম্মদ আকবর মুরাদ মানবজমিনকে বলেন, আমরা এই ঘটনায় অত্যন্ত মর্মাহত। গ্রেপ্তারকৃত মালিকের সঙ্গে আমরা কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। তিনি বলেছেন, যারা কারখানায় কাজ করতেন তারা আমার সন্তান। তাড়াতাড়ি যেন সকল শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধ করা হয়। এ ছাড়া ঈদে বোনাসও দিবো আমরা। ইতিমধ্যে হাসপাতালে আহত শ্রমিকদের প্রতিনিয়ত দেখাশোনা করছি। তাদের চিকিৎসার সকল ব্যয় আমরা বহন করবো পাশাপাশি সরকারিভাবে মৃতদেহের মধ্যে যাদের পরিচয় শনাক্ত হবে তাদের প্রত্যেককে ক্ষতিপূরণ দিবে সজীব গ্রুপ। তিনি মহামারি করোনায় কাজ হারানো এইসব শ্রমিকদের কথা বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য সেকশনগুলো দ্রুত চালু করে দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

One response to “অভিশপ্ত হাসেম ফুড কারখানায় এখনো গেটে স্বজনদের অপেক্ষা.”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x