ঢাকা, শুক্রবার ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০৩:০৬ অপরাহ্ন
গাংনী হাসপাতালে করোনা ইউনিট নামে আছে বাস্তবে নাই
Reporter Name

মেহেরপুর থেকে জাহিদ মাহমুদঃ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ বেডের করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ড যেন কাজির গরু কিতাবে আছে, গোয়ালে নেই’- এই প্রবাদের মতোই।

বিগত ১ বছর আগে থেকেই কাগজ-কলমে থাকলেও বাস্তবে নেই আইসোলেশন ওয়ার্ড। করোনা উপসর্গ নিয়ে আসা মুমূর্ষু রোগীদের বাড়িতে থাকতে বলা হচ্ছে বা রেফার করে দায় সারছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে এক কৃষক মারা গেছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরেই। এই কৃষকের মৃত্যু নিয়ে নানা সমালোচনার মুখে পড়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গত বছর করোনার সময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরনো ভবনে আইসোলেশন ইউনিট খোলা হয়। কিন্তু ওই ভবনটির সংস্কারের জন্য দীর্ঘদিন বন্ধ রাখার পর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কম্পাউন্ডের একটি ভবনে আইসোলেশন ইউনিট খোলা হয়। করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডের যন্ত্রপাতি, অক্সিজেন ও অন্যান্য সামগ্রী পর্যাপ্ত পরিমাণে বরাদ্দ দেওয়া হয়।

কাষ্টদহ গ্রাম থেকে মনিরুদ্দীন নামে এক কৃষক চিকিৎসা নিতে এলে তাকে চিকিৎসা না দিয়ে রেফার করেন ডাক্তার। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে অক্সিজেনও দেওয়া হয়নি। ফলে তার মৃত্যু হয়।

মনিরুদ্দীনের স্বজনরা জানান, বাড়িতে মনিরুদ্দীনের অবস্থার অবনতি হলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। কিন্তু জরুরি বিভাগের ডাক্তার বাড়ি নিয়ে আসতে বলেন। পরে আবার মেহেরপুর রেফার্ড করেন। এই সময়ে তাকে অক্সিজেনও দেওয়া হয়নি।

সরজমিনে দেখা যায়, আউটডোরের বেঞ্চে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গিয়ে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকে। স্বাস্থ্যবিধিও মানা হচ্ছে না ঠিকমতো। কোনটা করোনা আক্রান্ত রোগী আর কোনটা জেনারেল রোগী তা দেখে বোঝার উপায় নেই। করোনা রোগীদের স্যাম্পল নেওয়ার জন্য আলাদা কোনো স্থানও নির্ধারণ করা হয়নি।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাশেদুল হাসান শাওন জানান, সব ধরনের ব্যবস্থা আইসোলেশন ইউনিটে রয়েছে। কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু কেন ওই রোগীকে অক্সিজেন দেওয়া হয়নি তা দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

One response to “গাংনী হাসপাতালে করোনা ইউনিট নামে আছে বাস্তবে নাই”

  1. … [Trackback]

    […] Find More on on that Topic: doinikdak.com/news/34854 […]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x