ঢাকা, বুধবার ২০ অক্টোবর ২০২১, ০১:১৭ অপরাহ্ন
স্বজনদের আহাজারিতে ভারি রূপগঞ্জের আকাশ
দৈনিক ডাক অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার বিকেল ৪টা। তখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। ৭তলা ভবনটির ভেতরে তখনো জ্বলছে আগুন।

এরই মধ্যে ভবনের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৫২ জনের মরদেহ। ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে মরদেহগুলো। আহত শতাধিক।এখনো নিখোঁজ অনেক শ্রমিক।

নিখোঁজদের সন্ধানে সকাল থেকেই কারখানার সামনে অবস্থান করেন স্বজনরা।স্বজনদের আহাজারিতে রূপগঞ্জের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। সন্তানের খোঁজে কাদঁছে মা। বোনের খোঁজে কাদঁছে ভাই। স্বামী স্ত্রীর জন্য ও স্ত্রী স্বামীর খোঁজে আহাজারি করছে।

সন্তান হারিয়ে পাগল প্রায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদির ফিরোজা বেগম।তার সন্তান তাসলিমা (১৬) কে না পেয়ে কারখানার সামনে অচেতন হয়ে পড়েন তিনি।

পুলিশ ও গণমাধ্যম কর্মীদের হাত-পা জড়িয়ে ধরে বিলাপ করে বলছে সন্তানকে খুঁজে দিতে।জীবিত না হোক অন্তত লাশটুকু যেন তার কোলে ফিরিয়ে দেয়া হয়।

নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় সিকিউরিটি ইনচার্জ ভবনের চারতলার কেচি গেটটি বন্ধ করে রাখায় চারতলার শ্রমিকরা কেউ বের হতে পারেনি। প্রতিদিন ৪তলায় ৭০-৮০ জন শ্রমিক কাজ করতেন। চতুর্থ তলার শ্রমিকদের ইনচার্জ মাহবুব, সুফিয়া, তাকিয়া, আমেনা, রহিমা, রিপন, কম্পা রানী, নাজমুল, মাহমুদ, ওমরিতা, তাছলিমাসহ প্রায় ৭০-৮০ জন শ্রমিকের খবর পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।

এদিকে নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনরা কারখানার সামনে এসে ভিড় করছেন। তাদের আহাজারিতে চারপাশ ভারী হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে কাঞ্চন ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ শাহ আলম বলেন, মধ্যরাতে আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও সকাল ৬টার দিকে আবার কারখানার চার তলায় আগুন বাড়তে থাকে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস।

স্বজনরা অভিযোগ করে জানান, কারখানা কর্তৃপক্ষের অবহেলায় কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তাছাড়া কারখানায় আগুন লাগার পরও কারখানা কর্তৃপক্ষ কেচি গেটের তালা না খোলায় শ্রমিকরা বের হতে পারেনি।

ডেমরা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. ওসমান গনি বলেন, ডেমরা ফায়ার সার্ভিস অগ্নিকাণ্ডের শুরু থেকেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সঙ্গে আরও ১৭টি ইউনিট কাজ করেছে পর্যায়ক্রমে।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ নুসরাত জাহান জানিয়েছেন, কারাখানাটি থেকে লাশ বের করা হচ্ছে।

মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেজান জুস কারখানার সাত তলা ভবনটির নিচতলায় কার্টন ফ্যাক্টরি থেকে আগুনের সূত্রপাত। আগুনের লেলিহান শিখা একপর্যায়ে পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার পর রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ফুডস ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগে।

One response to “স্বজনদের আহাজারিতে ভারি রূপগঞ্জের আকাশ”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x