ঢাকা, রবিবার ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০৯:৩৪ অপরাহ্ন
লকডাউনে খুব কষ্টে আছে ভৈরবের মুচি সম্প্রদায়
জয়নাল আবেদীন রিটন, ভৈরব প্রতিনিধি

মামু খুব কষ্টের মধ্যে আছি ॥ ছোট জাত হওয়ায় অন্য কোন কাজও করতে পারছিনা

ছোট জাত হওয়ায় অন্য জাতের মানুষের সাথে মিশতেও পারছিনা , অন্য কোন কাজও করতে পারছিনা। মামু খুব কষ্টের মাঝে আছি । অশ্রুসিক্ত দু চোঁখে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে তার কষ্টের কথা বলছিল ভৈরব রেল ষ্টেশন এলাকার ফ্যাকন বিশ^াস নামের এক মুচি। এখন এ সম্প্রদায়ের লোকদের কোন কাজ নেই।  অর্থের অভাবে অতি কষ্টে দিনাতীপাত করছে।

সারাদেশে চলমান ডাউনে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে কর্মহীন হয়ে পড়েছে মুচি সম্প্রদায়। যাদের একমাত্র পেশা জুতা পালিশ আর সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ করা। লকডাউনে কাজ না থাকায় অর্ধাহারে অনাহারে মানবেতর যাীবন যাপন করছেন এ সম্প্রদায়ের ৭০ টি পরিবার। ছোট জাত হওয়ায় মুচি সম্প্রদায় না পারছেন কারো সাথে মিশতে না পারছেন অন্য কোন পেশায় রোজি রোজগার করতে। এমন অবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে কিছুটা সহায়তা পেলে অন্তত কিছুটা হলেও স্ত্রী সন্তানদের মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দিতে পারবে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ভৈরব উপজেলায় দীর্ঘদিন যাবত জুতা তৈরি , মেরামত ও সৌন্দর্য্যবর্ধকের কাজ করে যাচ্ছে মুচি সম্প্রদায়। মহামারী করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছে বাংলাশের মানুষের ন্যায় ভৈরব উপজেলার মুচি সম্প্রদায়ের একটি জনগোষ্টি। তাদের এখন চরম দুর্দিন। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল লাইনের পাশে বসবাস করছেন ৭০ টি পরিবারের ৩ শতাধিক লোক। এ জনগোষ্টির অধিকাংশ পুরুষ পাড়া মহল্লাসহ শহরের বাসষ্ট্যান্ড, ভৈরব বাজার,ফেরিঘাট, রেল ষ্টশনসহ বিভিন্ন স্থানে কাজ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। প্রতিদিন প্রায় ৪ শত থেকে ৫শত টাকা তারা একেকজন রোজি করে থাকতো। এখন তারা কোন কাজকর্ম করতে পারছেনা লকডউনের কারনে। অর্থের অভাবে খেয়ে না খেয়ে  মানবেতর জীবনযাপন করছে। লকডাউনের কারণে মানুষের চলাচল নাই। তবুও ঘরে বসে না থেকে জীবিকার তাগিদে কাজে বসলেও আশানুরূপ পারিশ্রমিক মিলছেনা । ইনকাম না থাকায় পরিবার নিয়ে অতি কষ্টে সংসার চালাতে হচ্ছে। ৩য় ধাপের করোনাকালে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোন ত্রান পৌছায়নি তাদের ঘরে। মাহামারী এই করোনাকালে মুচি সম্প্রদায় কি ভাবে দিনাতিপাত করছে তা যেন দেখার কেউ নেই।

মুচি পাড়ায় গেলে কয়েকজন মুচি বলেন, আগে ৩ থেকে ৪ শত টাকার কাজ করতে পেরেছি। এখন বসে আছি কোন কাজ কাম নাই। কোন দিন ২০ থেকে ৩০ টাকা কাজ হয় আবার কোন দিন তাও হয়না। বাড়ি থেকে বলে দোকানে যাও। দোকান খুলে বসে থাকলে কি হবে কোন কাজকাম নাই। কি ভাবে যে সংসার চালাই বুঝতে পারছিনা।

অন্য আরেকজন বলেন, এ মহল্লায় আমরা প্রায় ৩শর বেশি লোক আছি। আমরা সবাই এ্খন বেকার । আমাদের কিছু লোক জুতার কাজ করে আর কিছু লোক সেলুনে কাজ করে থাকে। এখনতো সবই বন্ধ। খাবারের অভাবটা আমরা বুঝলেও বাচ্ছারা তো এটা বুঝেনা। সরকার যেন আমাদের দিকে একটু নজর দেয়।

২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো ঃ দীন ইসলাম জানান, গত বছর ৭০ টি ঘরে ত্রান দিয়েছি। এরা মুলত খূবই দরিদ্র মানুষ। এরা শহরের বিভিন্ন স্থানে জুতা সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ করে। সরকারের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোন সাহায্য পাইনি। তারা যেন তাড়াতাড়ি ত্রান পেতে পারে সে জন্য আমি সরকারের কাছে আবেদন করবো ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা বলেন, এ সময়ে ভিন্ন পেশাজীবি যারা আছেন তারা বের হতে পারছেননা। সবার বেলায় বের হওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। করোনার সংক্রমণ রোধে সরকার দেশে কঠোর লকডাউন ঘোষনা করেছেন। লকডাউনের কারণে অনেকেরই কর্মসংস্থান বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে মুচি সম্প্রদায় মানুষের জুতা পালিশ সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। মানুষ যেহেতু ঘর থেকে বের হতে পারছেননা সেহেতু মুচি সম্প্রদায় যারা আছেন তারাও খাদ্য সংকটে পড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা পর্যায়ক্রমে কর্মহীন সবার মাঝেই খাদ্য সামগ্রী বিতরন করব।

One response to “লকডাউনে খুব কষ্টে আছে ভৈরবের মুচি সম্প্রদায়”

  1. … [Trackback]

    […] Info on that Topic: doinikdak.com/news/34139 […]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x