ঢাকা, শুক্রবার ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন
বিদেশি গরু পালনে বদলে গেছে ফিরোজা আমিনাদের ভাগ্য
শফিকুল ইসলাম, রৌমারী, (কুড়িগ্রাম) 

রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের বাইশপাড়া গ্রামের গোলজার হোসেনের স্ত্রী ফিরোজা বেগম। এক সময় তার সংসারে খুব অভাব ছিল। অন্যের বাড়িতে, জমিতে কাজ করতেন। ঠিকমতো খেতে পারতেন না, ছেলে-মেয়েদেরও খাওয়াতে পারতেন না। লেখাপড়া শিখাতেও পারেননি। পরে তিনি একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা থেকে প্রশিক্ষণ ও ব্যাংক ঋণ নিয়ে ৫বছর ধরে উন্নত জাতের গরু পালন করে আসছেন। ৫বছরেই ১৬টি গরু হয়েছে তর। প্রতিদিন গাভীর দুধ বিক্রি করে প্রায় দেড় হাজার টাকা পান ফিরোজা। এতে তিনি ও তার পরিবার এখন বেশ স্বাবলম্বী।

একই গ্রামের আমিনা বেগমের বাড়িতে গিয়ে চোখে পড়ে ছোট-বড় ৯টি উন্নত জাতের গরু। ২০১৪সাল পর্যন্ত তাঁর একটি দেশি গরু ছিল। ২০১৫ সালে গণ-উন্নয়ন কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের পর বিদেশি গাভী কিনতে দেশি গাভিটি বিক্রি করে দেন। সেই সঙ্গে গণ-উন্নয়নের সহযোগিতায় ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে কিছু টাকা ঋণ নিয়ে উন্নত জাতের গাভী কিনেন আমিনা। তারপর এই কয়েক বছরে তাদের গরুর সংখ্যা দাড়িয়েছে ১৪টি। গরু পালনে সফল এ দুই নারী বলেন, বেসরকারি সংস্থার সহায়তায় প্রশিক্ষণ নিয়ে গরু পালন করে ব্যাপক লাভবান হয়েছি। তাদের সংসারে বর্তমানে কোনো অভাব নাই।

ফিরোজা ও আমিনাদের মতো রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার চরাঞ্চলের নারীরা  যুগ যুগ ধরে সংসারের কাজের পাশাপাশি গরু পালন করে আসছেন। কিন্তু দেশীয় জাতের গরুতে তাদের খুব একটা লাভ হতো না। তাই বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সহায়তায় উন্নত জাতের গরু পালন করেন। এতে তরা বেশ স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। গণ-উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রকল্পের সহযোগিতায় এ দুই উপজেলার চরাঞ্চলের ৩০গ্রামের ৬শতাধিক পরিবার ২০১৫ সাল থেকে উন্নত জাতের গাভী পালন করছেন। সরকারি সহায়তা পেলে এ অঞ্চলের অন্য নারীরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে রাখতে পারেন অন্যরকম ভূমিকা।
গণ-উন্নয়ন কেন্দ্রের (জিইউকে) প্রকল্প সমন্বয়কারী মুনির হোসেন অনলাইন পত্রিকা দৈনিক ডাককে বলেন, রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার ৯ ইউনিয়নে উন্নত জাতের গাভী পালন হচ্ছে। এ এলাকার নারীদের উন্নয়নে জিইউকে প্রশিক্ষণসহ বিভিন্নভাবে সহায়তা করে আসছে।
রৌমারী প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা এটিএম হাবিবুর রহমান  জানান, এমন অবস্থা শুধু ফিরোজা ও আমিনার নয়। এই উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের অধিকাংশ পরিবার ৫ থেকে ১০টি উন্নত জাতের গাভী পালন করে ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x