ঢাকা, বুধবার ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন
অক্ষম ভিক্ষুকদের জন্য প্রত্যেক বিভাগে হচ্ছে স্থায়ী নিবাস
অনলাইন ডেস্ক

অক্ষম ভিক্ষুকদের জন্য আট বিভাগে স্থায়ী নিবাস করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আপাতত ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে কর্মক্ষমতা হারানো বয়োবৃদ্ধ ভিক্ষুকদের আশ্রয়ের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে এখনো পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়নি।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন শারীরিক ও মানসিকভাবে কর্মক্ষমতা হারানো বৃদ্ধ ভিক্ষুকদের আশ্রয়ের জন্য স্থায়ী নিবাস নির্মাণের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই প্রেক্ষাপটে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলামকে প্রধান করে দেশের আট বিভাগে অক্ষম ভিক্ষুকদের আটটি স্থায়ী নিবাস স্থাপনের বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

‘আমরা অক্ষম ভিক্ষুকদের জন্য স্থায়ী নিবাস করব। তবে বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটি একটি মাত্র মিটিং করেছে। এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। স্থায়ী নিবাস কিভাবে করা হবে, কাকে দিয়ে করা হবে। কোন ধরনের সেবা সেখানে থাকবে। এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।’

কমিটিতে মন্ত্রণালয় ছাড়াও সমাজসেবা অধিদফতর, জাতীয় প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি রয়েছেন। গত ২ জুন কমিটির প্রথম সভা হয়।

সমাজসেবা অধিদফতর থেকে জানা গেছে, ভিক্ষুক কিংবা অক্ষম ভিক্ষুকদের সংখ্যার পুরোপুরি সঠিক কোনো হিসাব নেই। তবে ধারণা করা হয়, ভিক্ষুকের সংখ্যা আড়াই লাখ এবং অক্ষম হয়ে পড়েছেন এমন ভিক্ষুকের সংখ্যা ৩০ হাজারের মতো। শেষ বয়সে এসে যাতে ধুঁকে ধুঁকে মরতে না হয় সেজন্য অক্ষম ভিক্ষুকদের নিয়ে বিশেষভাবে কিছু করতে চাইছে সরকার।

‘অক্ষম ভিক্ষুকদের জন্য শান্তি নিবাসের সঙ্গে একীভূত করে কিছু করা যায় কি-না সেটি সেটি ভাবা হচ্ছে। আলাদা করে স্থাপনা করা যেতে পারে। তবে জমি লাগবে। জমি লাগলে তা কিভাবে সংস্থান করা হবে- সব বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। একটি যাচাই সভা হয়েছে। যা সিদ্ধান্ত আসে সেই অনুযায়ী ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) প্রণয়ন করা হবে।’

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলাম  বলেন, ‘আমরা অক্ষম ভিক্ষুকদের জন্য স্থায়ী নিবাস করব। তবে বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটি একটি মাত্র মিটিং করেছে। এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। স্থায়ী নিবাস কিভাবে করা হবে, কাকে দিয়ে করা হবে। কোন ধরনের সেবা সেখানে থাকবে। এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এখন ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন নিয়ে আমাদের একটি কর্মসূচি রয়েছে। সমাজসেবা অধিদফতর সেটা করে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে একটি কমিটি আছে। উপজেলা পর্যায়েও কমিটি আছে। এছাড়া জাতীয় পর্যায়েও কমিটি আছে। জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব হচ্ছে সমাজসেবা অধিদফতরের মহাপরিচালক। এই কর্মসূচির আওতায় ভিক্ষুকদের এককালীন টাকা দিয়ে একটি ভ্যান বা রিকশা কিনে দেয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘ভিক্ষা তো কোনো পেশা নয়। আমরা দেখছি তার অক্ষমতা। বয়স হয়ে যাওয়ায় তার হয়তো মানসিক বা শারীরিক প্রতিবন্ধীতা রয়েছে। তাদের আমরা কিভাবে পুনর্বাসন করতে পারি সেই উপায় বের করছি।’সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিভাগে স্থায়ী নিবাস করা হলে সেখানে তো একসঙ্গে ৩০০ থেকে ৪০০ জনের বেশি রাখা যাবে না। আমরা যাই করি দ্রুতই সিদ্ধান্ত হবে। কী করা হচ্ছে চলতি মাসের মধ্যেই সেই বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাবে।’

বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ভবন করলে তো হবে না। তারা ডিজঅ্যাবল, তাদের ওই ধরনের স্টাফ প্যাটার্ন দিয়ে হেল্প করতে হবে। লোকবল দিতে হবে। টেকসই কিছু করতে হবে, আমরা সেটার চেষ্টাই করছি।’

3 responses to “অক্ষম ভিক্ষুকদের জন্য প্রত্যেক বিভাগে হচ্ছে স্থায়ী নিবাস”

  1. … [Trackback]

    […] Find More on that Topic: doinikdak.com/news/23674 […]

  2. … [Trackback]

    […] Information on that Topic: doinikdak.com/news/23674 […]

  3. … [Trackback]

    […] Information on that Topic: doinikdak.com/news/23674 […]

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x