ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩ মে ২০২৪, ০৪:১৫ অপরাহ্ন
ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার মান ভালো, জাতিসংঘ
অনলাইন ডেস্ক

কক্সবাজারস্থ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের তুলনায় জীবনযাত্রার মানের দিক থেকে ভাসানচর বেশ ভালো বলে মনে করে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর। স্থানান্তরিত রোহিঙ্গারা যাতে ভাসানচরে মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারে তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের বাংলাদেশকে সহায়তার তাগিদ অনুভব করছে বৈশ্বিক ওই সংস্থাটি। ভাসানচর এবং কক্সবাজার ক্যাম্পের পরিবেশ সরজমিন দেখতে বাংলাদেশ সফর করছেন ইউএনএইচসিআর’র দুই সহকারী হাইকমিশনার। সোমবার তারা ভাসানচর এবং মঙ্গলবার কক্সবাজার ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। বুধবার সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ ব্রিফিংয়ে কথা বলেন, সহকারী পরিচালক রাউফ মাজাও এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার সুরক্ষা বিষয়ক সহকারী হাইকমিশনার গিলিয়ান ট্রিগস। উল্লেখ্য, ভাসানচরে জাতিসংঘ প্রতিনিধিদলের পরিদর্শনকালে বিভিন্ন দাবিতে রোহিঙ্গারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। ওই সময় বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা আহত হন। এ ঘটনায় ওইদিন রাতে জাতিসংঘের তরফে উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দেয়া হয়েছিল।

ভাসানচর ঘুরে আসার পর প্রকল্পটি নিয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার রাউফ মাজাও রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বলেন, বাংলাদেশ সরকার সেখানে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ করেছে। জীবনযাত্রার সঙ্গে কক্সবাজারের তুলনা করে বলা যায়, ভাসানচরের অবস্থা অনেক ভালো। বিশেষ করে আবাসনের যে ব্যবস্থা সরকার সেখানে করেছে। যারা (রোহিঙ্গা) এখন ভাসানচরে আছে আর যাবে তারা যেন মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারে- এটা নিশ্চিত করতে এখন আমাদের পাশাপাশি অন্যান্য আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের কাজ হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারকে সমর্থন দেয়া। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনা বিষয়ক সহকারী হাইকমিশনার বলেন, একটি বিষয় কিন্তু স্পষ্ট যে, আপনি যখন এ ধরনের দ্বীপে বসবাস করতে থাকবেন, তখন এক ধরনের বিচ্ছিন্নতাবোধ কাজ করে। তাই সেখানে অবশ্যই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ব্যবস্থা করতে হবে। অবশ্যই সেখানে আসা-যাওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে। আশা থাকবে এই ব্যবস্থাটা সাময়িক। পাশাপাশি এই প্রত্যাশাও থাকবে যে, তারা দ্রুত ফিরে যাবেন।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবিকাসহ তাদের জন্য সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থা যাতে নিশ্চিত করা যায় এটা মাথায় রাখতে হবে। সেখানে খালি জমি আছে, মাছ ধরার সুযোগ আছে। তারা যেন বসে না থাকে। তবে চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে, বলপূর্বক যাদের বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে তাদের ফেরত পাঠানো। ভাসানচরে জাতিসংঘ খুব শিগগিরই যুক্ত হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে রাউফ মাজাও বলেন, এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। আমরা সব সময় সরকারের সঙ্গে কাজ করি। কক্সবাজারে আছি, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় থাকবো। আমরা শরণার্থীর জন্য সহায়তা নিশ্চিত করবো। ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘ তহবিল দেবে কিনা জানতে চাইলে রাউফ মাজাও বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় ওই প্রসঙ্গও এসেছে। প্রায় ২০ হাজার রোহিঙ্গা সেখানে গেছে। আমরা তাদের জন্য সহায়তা দেবো। রোহিঙ্গাদের তৃতীয় দেশে অন্তর্ভুক্তিকরণের বিষয়ে জানতে চাইলে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার সুরক্ষা বিষয়ক সহকারী হাইকমিশনার গিলিয়ান ট্রিগস বলেন, এ নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। সম্ভব সে সুযোগটা খতিয়ে দেখা। তবে সংখ্যাটা খুবই কম। এটা শুধু বেশি ঝুঁকিতে থাকা লোকজনের এবং নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য করা যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে এটা স্থায়ী সমাধান নয়। স্থায়ী সমাধান তাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে আদি নিবাসে ফেরত যাওয়া। স্বল্প সময়ের জন্য সমাধান হিসেবে ভাসানচরের মতো চমকপ্রদ প্রকল্পকে কাজে লাগানো যেতে পারে যাতে শিক্ষা ও জীবিকার মাধ্যমে বিকশিত হতে পারে।

প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে জাতিসংঘ কতোটা যুক্ত আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফিরিয়ে নেয়ার দায়িত্বটা মিয়ানমারের। বাংলাদেশ সরকার উদারতার সঙ্গে যথেষ্ট দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়েছে। মিয়ানমারে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার দপ্তর আছে। সেখানে আমরা কাজ করছি। প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরির জন্য আমরা তাদের রাজি করানোর কাজ করছি। আমাদের কাজ তাদের সহায়তা করা। মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতিতে কাজটা একেবারেই কঠিন। তবে মিয়ানমারকে রাজি করাতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।

সেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন কিংবা তৃতীয় দেশে অন্তর্ভুক্তিকরণের বিষয়ে আলোচনা করেছি। রোহিঙ্গারা নিজ দেশে কিংবা তৃতীয় দেশে যেতে চায় জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা কঠিন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি তাদের সহায়তার জন্য। তবে চূড়ান্ত সমাধান হচ্ছে রোহিঙ্গাদের আদি নিবাসে ফিরে যাওয়া। চার বছর হলেও যেতে পারেনি। এই হতাশারই প্রতিচ্ছবি হলো উনারা যা দেখলেন। মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের বাচ্চা আছে, কোনো শিক্ষা নেই, কোনো ভবিষ্যৎ নেই। মন্ত্রী বলেন, আমরা বলেছি, উনারা (জাতিসংঘ) যেন রাখাইনে বিশেষ ফোকাস দেন। মিয়ানমারের বর্তমান সামরিক সরকারের সঙ্গে জাতিসংঘের আলোচনা করা উচিত মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে মিলিটারি সরকার আসছে, এই সময় একটা সুযোগ হয়েছে। কারণ মিলিটারি সরকার শুনবে। তাই তাদের (জাতিসংঘের কর্মকর্তা) আপনারা ওদের ওপর অধিকতর চাপ দেন। এই সময় ওরা কথা শুনবে। বাস্তুচ্যুতদের ফেরানোর একটা পথ হবে।

2 responses to “ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার মান ভালো, জাতিসংঘ”

  1. … [Trackback]

    […] Read More Information here to that Topic: doinikdak.com/news/21851 […]

  2. … [Trackback]

    […] Find More on on that Topic: doinikdak.com/news/21851 […]

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x