ঢাকা, মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪, ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন
খুব আব্বু-কে ডাকতে ইচ্ছা করে ‘কথা বলতে ইচ্ছা করে’ আব্বু আমার আব্বু
Reporter Name

সাইফুল ইসলাম’ মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ জনাব’তবদুল’হোসেনের জন্ম বৃহত্তর চট্টগ্রামের কুমিল্লা জেলার ঘোষঘর গ্রামে ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে ২৩শে ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা: নাম আছমত আলী এবং মাতা: নাম  হাজেরুন নেছা জনাব’তবদুল’হোসেন ১৪২১ বাংলা১৩ জ্যেষ্ঠ রোজ মঙ্গলবার বিকেল ৩ টায় ০৫ পাঁচ মিনিট সময় এ সিলেটে মৃত্যুবরণ করেন।

আজ জবাব’তবদুল’হোসেনের অষ্টম মৃত্যু বার্ষিকী। বাবা আজ ও তোমার কথা মনে পরে। বাবা তোমার  কথা যখনি মনে পরে তখন ভীষণ কষ্ট লাগে। বাবা আজ আমাদের মাঝে  তুমি  নাই। মনে হয়  পৃথিবী অন্ধকার বাবা। গতবছর (২৭ই মে ২০১৪ সালে) আমার মতো বাবা হারা সন্তারগুলো রাতশেষে নীরবে কান্নাগুলো পৃথিবীতে বলতে চায় বাবা তোমাকে ছাড়া আমরা কত অসহায়। আর আজ আমার বাবার অষ্টম মৃত্যু বার্ষিকী মনে হয় বাবাকে দেখিনা আট ৮ যুগের ও বেশি।  ঠিক এমন একটা দিনে  আমাকে ফাঁকি দিয়ে উপরওলার ডাকে সাড়া দিয়ে,

না ফেরার দেশে চলে গেছেন বাবা। সন্তানের বুকে বাবার লাশ যে কতোটা যন্ত্রণার তা প্রকাশ করার মতো পৃথিবীতে কোনো ভাষা নেই। তা শুধু বাবা হারা সন্তানরা বোঝতে পারবে। শেষ বারের দৃশ্য টা আজও ভুলতে পারিনি। আজকের এই দিনে বাবা নামক গাছের ছায়া টা আমাদেরকে-আমাকে এতিম করে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছিল, বাবা যখন মারা যায় তখন বুঝতামই না মারা যাওয়া কাকে বলে, চাইলেই যদি কাউকে ফিরে পাওয়া যেত তাহলে আমি তোমাকেই চাইতাম বাবা। আজকে তোমার কথা প্রচুর মনে পড়ছে বাবা,বাসায় ও বাড়ীতে  একটুও পড়াশোনা করতে পারি না,

বিভিন্ন অভাবের জন্য, তুমি যখন কারণে অকারণে সাইফুল ইসলাম বলে ডাক দিতা তখন খুব বিরক্ত লাগতো,আর এখন তোমার শূন্যতাটা বুঝতে পারছি। সব সময় একটা কথাই বলতে আমি মারা গেলে বুঝবি,ঠিকই বুঝতেছি বাবা।

বাবা, তুমি চলে যাওয়ার পর বুঝতে পারছি তোমার ছায়ায় থেকে লড়াই করা আর তোমাকে ছাড়া লড়াই করার পার্থক্যটা কি ভীষণ কঠিন।বাবা তোমার কাছ থেকে তো আমি মাফও চাইতে পারি নাই বাবা। আল্লাহ তুমি আমার বাবাকে ভালো রেখো,এরকম পরিস্থিতিতে আমার লেখার কোনো ভাষাই আমার জানা নেই।

তারপরও আমাদের মেনে নিতেই হবে,

কোনো মানুষ পৃথিবীতে চিরকাল বেঁচে থাকে না। এমন একদিন আসবে যেদিন তোমাকে-আমাকেও চলে যেতে হবে।

আমি জানি, আমার মানসিক  অবস্থা মোটেও ভালো নয়। এখন আমাকে একটু শক্ত হতে হবে। ভেঙে পড়ে চলবে না।

কারণ আমার ছোট দুটি ভাই-বোন  আছে। এখন থেকে আমাকেই তাদের দায়িত্ব নিতে হবে। আর আমিই যদি এভাবে ভেঙে পড়ি তাহলে কীভাবে হবে? আমাকে একটা কথা মনে রাখতে হবে,

মানুষ পৃথিবীতে চিরকালের জন্য আসে না,একদিন তাকে যেতেই হবে। আমি অনেক ধৈর্যশীল একটা ছেলে, অনেক গুণেরও অধিকারী, আমি চাইলে অনেক  কিছুই করতে পারব। এখন আমার পরিবারের দিকে তাকিয়ে আমায় ঠিকমতো পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে।

সামনে আমার পরীক্ষা। আমার বাবার অনেক স্বপ্ন ছিল আমি পড়াশোনা শেষ করে আমি যেন একটা সরকারি চাকরি করি। এখন আমি আমার বাবার এ স্বপ্নটা পূরণ করতে হবে। বাবা! এটা এক গভীর ভালোবাসার নাম যা কখনো মুখ ফুটিয়ে বলতে পারলাম না, অনেক মিস করি বাবা তোমাকে। হে আল্লাহ! আপনি আমার বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন, আমিন।

আল্লাহর কাছে অনেক কান্না করেছি।আব্বু তোমার হায়াত চাইছি।সকলে কত দোয়া করলো।ভাবছিলাম হয়তো কারো না কারো দোয়া আল্লাহ কবুল করবে।আসলে আল্লাহ তো আমার এতিমের খাতায় নাম দিয়া রাখছে।তাইতো তোমায় নিয়ে গেল।জানো আব্বু তোমাকে ছাড়া আমরা একটুও ভালো নাই।কোনো দিন কল্পনায় ভাবছিলাম তোমার মরণ এমনভাবে হবে।

One response to “খুব আব্বু-কে ডাকতে ইচ্ছা করে ‘কথা বলতে ইচ্ছা করে’ আব্বু আমার আব্বু”

  1. … [Trackback]

    […] Read More on that Topic: doinikdak.com/news/18961 […]

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x