ঢাকা,রবিবার ০৪ জুলাই ২০২১, ০২:৩৫ অপরাহ্ন
ভৈরবে জোড়া খুন, পুরুষ শূন্য ৩ টি গ্রাম, বোরো ধান কাটা অনিশ্চিত
দৈনিক ডাক অনলাইন ডেস্ক

২৫ এপ্রিল, জয়নাল আবেদীন রিটন, ভৈরব প্রতিনিধিঃ কিশোরগঞের ভৈরবের আগানগর ইউনিয়নে আদিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু দল গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অর্ধশত আহতসহ ২জনের মৃত্যু হয়। শতাধিক বাড়ী ভাংচুর ও লুট-পাট হয়। এ ঘটনায় ২ টি মামলায় ২শতাধিক লোককে আসামী করা হয়। ফলে পুরুষ শুন্য হয়ে পড়েছে ৩ গ্রাম। ফলে চলতি বোরো মৌশুমে ঔই এলাকার ২ হাজার হেক্টর জমির পাকা ধান কাটা নিয়ে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তবে প্রশাসন বলছে, বিকল্প ভাবে মেশিন দিয়ে ধান কাটার ব্যবস্থা করা হবে।

গত ১৭এপ্রিল শনিবার ভৈরবের আগানগর ইউনিয়নে আদিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু দল গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দু জন নিহতসহ আহত হয় অর্ধশত। দালান কোটা সহ ভাংচুর ও লুটপাট হয় শতাধিক বাড়ি ঘরে। এই ঘটনায় দুই শতাধিক লোককে আসামী করে ভৈরব থানায় দুটি মামলায় আসামী করা হয়। গ্রেফতার আতংকে পুরুষ শুন্য হয়ে পড়ে খলাপাড়া, চরপাড়া ও লুন্দিয়া গ্রামের হাজারে মানুষ। চলতি বোরো মৌশুমে এই তিনটি গ্রামের প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির ধান সোনালী বর্ণধারণ করতে শুরু করেছে। আর কদিন পড়েই ধান কাটার পুরো ধুম শুরু হবে। গ্রামগুলো পুরুষ শুন্য হওয়ায় ধান কাটা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। ঘরছাড়া কৃষক পরিবারগুলো বলছে বছরের এই ধান আমাদের পুরো বছরের খাবার যোগায়। আমাদের বাড়িঘর যা যাবার তা তো গেছেই । এ ধান কেটে আমাদের ঘরে তোলতে না পারলে না খেয়ে মরতে হবে। তারা ধান কাটার সময়ে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছেন। মামলার বাদী পক্ষ বলছেন, ২টি হত্যাকান্ডে এলাকায় এখনো ক্ষোভ বিরাজ করছে । আসামী পক্ষ যদি ধান কাটতে আসে তাহলে আবারো সংঘর্ষ বেধে যেতে পারে।

ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মো ঃ শাহিন জানান, যাদেরকে মামলার আসামি করা হয়েছে তারা বাদে অন্যরা ধান কাটতে আসলে কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তার পর আমরা বিশেষভাবে নজর রাখবো যেন কৃষকরা তাদের ধান কেটে ঘরে তুলতে পারে।

ভৈরব উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা জানান, আমি এলাকা পরিদর্শন করেছি। সবার সাথে কথা হয়েছে। ধান কাটা নিয়ে কোন সমস্যা হবে না। প্রয়োজনে স্থানীয় কৃষি অফিসের মাধমে কম্বাইন হেরবেষ্ট মেশিনের সাহায্যে ধান কেটে কৃষকদের ঘরে পৌছে দেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *